তথ্য চেয়ে চার সংস্থাকে দুদকের চিঠি
jugantor
পিকে হালদারকাণ্ড
তথ্য চেয়ে চার সংস্থাকে দুদকের চিঠি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার ইস্যুতে চার সংস্থায় তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বুধবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এসব চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান যুগান্তরকে বলেন, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট বাস্তবায়ন তথা পিকে হালদারকে ভারত থেকে দেশে ফেরতের জন্য ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পিকে হালদারের ভারতে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তারা (বিএফআইইউ ও মন্ত্রণালয়গুলো) ভারত থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দুদকের কাছে তা সরবরাহ করবে। এর আগে সরকারি ছুটির দিনও এসব সংস্থার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পিকে হালদার ইস্যুতে যোগযোগ হয়েছে। তবে সেটা ছিল আনঅফিসিয়ালি। আজ (বুধবার) অফিসিয়ালি এসব সংস্থার কাছে দুদক চিঠি দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমরা আশাবাদী, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিকে হালদারকে দেশে ফেরত বা সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজের জন্য অফিসিয়ালি আদেশ দিয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে শুরু থেকে কমিশনের নির্দেশ অনুসারে নিরলসভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে ২০২১ সালের শুরুতেই তিনি বিদেশ পালিয়ে যান। পিকে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপর আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ৮৩ জন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি) ক্রোক করা হয়েছে। ৬৪ জন আসামি ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

এছাড়া এসব মামলায় আদালতে ১১ জন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১২ জন আসামি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। এই ৩৪ মামলা ছাড়াও পিকে হালদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলা রয়েছে। মামলায় পিকে হালদারসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোমধ্যেই দুদক আদালতে চার্জশিট (অভিযোগ) দিয়েছে। চার্জশিটে বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৫১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬০ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পিকে হালদারকাণ্ড

তথ্য চেয়ে চার সংস্থাকে দুদকের চিঠি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার ইস্যুতে চার সংস্থায় তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বুধবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এসব চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান যুগান্তরকে বলেন, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট বাস্তবায়ন তথা পিকে হালদারকে ভারত থেকে দেশে ফেরতের জন্য ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পিকে হালদারের ভারতে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তারা (বিএফআইইউ ও মন্ত্রণালয়গুলো) ভারত থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দুদকের কাছে তা সরবরাহ করবে। এর আগে সরকারি ছুটির দিনও এসব সংস্থার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পিকে হালদার ইস্যুতে যোগযোগ হয়েছে। তবে সেটা ছিল আনঅফিসিয়ালি। আজ (বুধবার) অফিসিয়ালি এসব সংস্থার কাছে দুদক চিঠি দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমরা আশাবাদী, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিকে হালদারকে দেশে ফেরত বা সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজের জন্য অফিসিয়ালি আদেশ দিয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে শুরু থেকে কমিশনের নির্দেশ অনুসারে নিরলসভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে ২০২১ সালের শুরুতেই তিনি বিদেশ পালিয়ে যান। পিকে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপর আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ৮৩ জন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি) ক্রোক করা হয়েছে। ৬৪ জন আসামি ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

এছাড়া এসব মামলায় আদালতে ১১ জন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১২ জন আসামি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। এই ৩৪ মামলা ছাড়াও পিকে হালদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলা রয়েছে। মামলায় পিকে হালদারসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোমধ্যেই দুদক আদালতে চার্জশিট (অভিযোগ) দিয়েছে। চার্জশিটে বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৫১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬০ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন