জামিন বাতিল আত্মসমর্পণের নির্দেশ সম্রাটকে
jugantor
জামিন বাতিল আত্মসমর্পণের নির্দেশ সম্রাটকে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, মেডিকেল রিপোর্ট না দেখেই মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়ে বিচারক যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়েছেন। আদালত বিচারককে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তিনি যেন এ ধরনের কাজ না করেন।

জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আসামি সম্রাটকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়া সম্রাট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। সম্রাটের জামিন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে ১৪ মে ‘রিভিউ’ আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে বুধবার আদেশের জন্য দিন রাখেন আদালত।

আদেশের বিষয়ে দুপুরে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছেন বিচারক মামলার গুণাগুণ বিচার না করে, শুধু মেডিকেল গ্রাউন্ডে এ জামিন দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুক্তি ছিল কেউ যদি মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন চান, তাহলে বিচারককে মেডিকেল রিপোর্ট কল করতে হবে, এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুই পক্ষকে শুনতে হবে। এরপর জামিন দেবে কি না, আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বিচারক ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়েছেন।’ তিনি জানান, আদেশে ঠিক এভাবে অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দিয়েছেন আদালত।

খুরশীদ আলম খান বলেন, বিচারক এই জামিন দিয়েছেন ২০২০ ও ২০২১ সালের প্রথমদিকের দুটি মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে, শেষের দিকে লিখে দিয়েছেন আগামী ৯ তারিখে (৯ জুন) রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

সম্রাটের জামিন প্রসঙ্গে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে খুশরীদ আলম বলেন, ‘জামিন দেওয়ার আগে বিচারকের উচিত ছিল ৯ জুন পর্যন্ত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট দেখে ওনার জামিনের বিষয়টি দেখা, তারপর কনসিডার করবেন বা রিজেক্ট করবেন। কিন্তু সেখানে সেই ব্যত্যয় ঘটেছে।’

এছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ১৩ ধারায় জামিনের কিছু শর্ত রয়েছে উল্লেখ করে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, ‘সেসব শর্তও উনি (সম্রাট) পালন করেননি। আদালত বিচারককে সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ভুল না হয়।’

সম্রাটের আত্মসমর্পণের বিষয়ে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আদালত সম্রাটের জামিন বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন-তাকে জামিনের বিষয়ে মেডিকেল রিপোর্ট যদি কল করার প্রয়োজন হয় তাহলে আইনিভাবে যেন নিষ্পত্তি করা হয়।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১১ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে অস্ত্র, অর্থ পাচার, মাদক ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ মোট চার মামলায় জামিন পেয়ে ৩১ মাস পর মুক্তি মেলে ক্যাসিনো-কাণ্ডে আলোচিত বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের।

এর আগে তিনি কারা তত্ত্বাবধায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১১ মে বিকালে জামিনের কাগজপত্র হাসপাতালে পৌঁছালে মুক্তি দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তি পেলেও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য এখনো তিনি হাসপাতালের ‘ডি’ ব্লকের সিসিইউতে ভর্তি আছেন।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আত্মগোপনে চলে যান দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত এই নেতা সম্রাট।

এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

জামিন বাতিল আত্মসমর্পণের নির্দেশ সম্রাটকে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, মেডিকেল রিপোর্ট না দেখেই মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়ে বিচারক যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়েছেন। আদালত বিচারককে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তিনি যেন এ ধরনের কাজ না করেন।

জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আসামি সম্রাটকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়া সম্রাট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। সম্রাটের জামিন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে ১৪ মে ‘রিভিউ’ আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে বুধবার আদেশের জন্য দিন রাখেন আদালত।

আদেশের বিষয়ে দুপুরে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছেন বিচারক মামলার গুণাগুণ বিচার না করে, শুধু মেডিকেল গ্রাউন্ডে এ জামিন দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুক্তি ছিল কেউ যদি মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন চান, তাহলে বিচারককে মেডিকেল রিপোর্ট কল করতে হবে, এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুই পক্ষকে শুনতে হবে। এরপর জামিন দেবে কি না, আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বিচারক ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়েছেন।’ তিনি জানান, আদেশে ঠিক এভাবে অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দিয়েছেন আদালত।

খুরশীদ আলম খান বলেন, বিচারক এই জামিন দিয়েছেন ২০২০ ও ২০২১ সালের প্রথমদিকের দুটি মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে, শেষের দিকে লিখে দিয়েছেন আগামী ৯ তারিখে (৯ জুন) রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

সম্রাটের জামিন প্রসঙ্গে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে খুশরীদ আলম বলেন, ‘জামিন দেওয়ার আগে বিচারকের উচিত ছিল ৯ জুন পর্যন্ত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট দেখে ওনার জামিনের বিষয়টি দেখা, তারপর কনসিডার করবেন বা রিজেক্ট করবেন। কিন্তু সেখানে সেই ব্যত্যয় ঘটেছে।’

এছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ১৩ ধারায় জামিনের কিছু শর্ত রয়েছে উল্লেখ করে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, ‘সেসব শর্তও উনি (সম্রাট) পালন করেননি। আদালত বিচারককে সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ভুল না হয়।’

সম্রাটের আত্মসমর্পণের বিষয়ে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আদালত সম্রাটের জামিন বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন-তাকে জামিনের বিষয়ে মেডিকেল রিপোর্ট যদি কল করার প্রয়োজন হয় তাহলে আইনিভাবে যেন নিষ্পত্তি করা হয়।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১১ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে অস্ত্র, অর্থ পাচার, মাদক ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ মোট চার মামলায় জামিন পেয়ে ৩১ মাস পর মুক্তি মেলে ক্যাসিনো-কাণ্ডে আলোচিত বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের।

এর আগে তিনি কারা তত্ত্বাবধায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১১ মে বিকালে জামিনের কাগজপত্র হাসপাতালে পৌঁছালে মুক্তি দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তি পেলেও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য এখনো তিনি হাসপাতালের ‘ডি’ ব্লকের সিসিইউতে ভর্তি আছেন।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আত্মগোপনে চলে যান দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত এই নেতা সম্রাট।

এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন