সরকারকে বিপদে ফেলতে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি
jugantor
এফবিসিসিআইর সংবাদ সম্মেলন
সরকারকে বিপদে ফেলতে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে উৎপাদন কমে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার-আধুনিকায়ন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সিস্টেম লস কমিয়ে আনার মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব।

শনিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও স্টিল মিল মালিক সমিতির নেতারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ও পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি খাতের পক্ষে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে ব্যবসার খরচ (কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস) আরও বেড়ে যাবে। মূল্যস্ফীতির কারণে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, এ দুঃসময়ে মূল্যবৃদ্ধি বহুমাত্রিক মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হবে। ফলে কৃষি, শিল্প, সেবা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ জনগণের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি করবে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে।

এখন দাম বৃদ্ধির উপযুক্ত সময় নয়-এমন মন্তব্য করে জসিম উদ্দিন বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির আবেদন পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্যুৎ খাত বার্ক আইনের বিধান অনুযায়ী স্বচ্ছতা, মানসম্মত, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা সহকারে পরিচালিত হচ্ছে না। বরং এ খাতের সর্বত্র অদক্ষতা, যথেচ্ছ অনিয়ম, অস্বচ্ছতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং আইনের বিপরীতে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করে বিরাজমান অপব্যবস্থাপনার অহেতুক দায়ভার জাতীয় অর্থনীতি এবং জনগণের জীবন-জীবিকা নির্বাহের সব ক্ষেত্রে সংক্রমিত করা কোনভাবেই সমীচীন হবে না।

পরিসংখ্যান দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে গ্যাসের উচ্চ মূল্য দিতে হয়। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাসের দামে যেই ভর্তুকি দেওয়া হয়, তা সরকার বহন করলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোর লাভ করার যৌক্তিকতা কতটুকু তা ভেবে দেখা দরকার।

মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে জসিম আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে হয়তো গ্যাস থাকবে, কিন্তু শিল্প থাকবে না। যারা এ কাজ করছেন তারা হয়তো না বুঝে অথবা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ কাজ করছেন। এর পরিবর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার-আধুনিকায়ন (বিএমআরই), কুইক রেন্টাল বন্ধ, গুরুত্ব অনুযায়ী শিল্প ও আবাসিক এলাকায় গ্যাস রেশনিং করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়েও কাজ করা দরকার। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করবেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গত ৩ বছরে তিতাস গ্যাস কর পূর্ববর্তী মুনাফা করেছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। গ্রাহকের ২২শ কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট আছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এ টাকা গ্যাস উত্তোলনে খরচ করার কথা। সব টাকা হিসাব করলে তিতাসের অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার কোটি টাকা আছে। সেই টাকা ফেরত দেওয়া হলে গ্যাসের দাম কোনোভাবেই বাড়বে না, বরং কমানো যাবে। এ সংকটকালীন অবস্থায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে এখন অর্ডার কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় হুজুগের মাথায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এ সিদ্ধান্ত শিল্পের জন্য আত্মঘাতী হবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনাপরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। যখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এলো তখন গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রেটেই অনেকের কাছে গ্যাস-বিদ্যুতের বিল বকেয়া পড়ে আছে। এখন যেই হারে দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তাতে শিল্প এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে, কারও বন্ধ করতে হবে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, দেশে এখন ডলার সংকট চলছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম বাড়ছে। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, সেটি ছুরি মেরে শিল্পকে বসিয়ে দেওয়ার শামিল হবে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর। এটা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উপযুক্ত সময় নয়।

অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, করোনায় স্টিল খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই রেশ কাটতে ৩-৪ বছর সময় লাগবে। এই মুহূর্তে সরকারকে প্রো-অ্যাকটিভ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কীভাবে ব্যবসার খরচ কমানো যায় সেই চিন্তা করতে হবে। অথচ বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। এ ভার স্টিল শিল্প সহ্য করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্টিল খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ আছে। অনেক ভালো গ্রাহকও করোনায় ঋণখেলাপি হয়ে গেছেন। এই মুহূর্তে দাম বাড়ানো হলে চরম ক্ষতিতে পড়বে স্টিল খাত।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, করোনার ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পেছনে সদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমলাতন্ত্র দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন প্রমুখ।

এফবিসিসিআইর সংবাদ সম্মেলন

সরকারকে বিপদে ফেলতে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে উৎপাদন কমে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার-আধুনিকায়ন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সিস্টেম লস কমিয়ে আনার মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব।

শনিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও স্টিল মিল মালিক সমিতির নেতারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ও পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি খাতের পক্ষে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে ব্যবসার খরচ (কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস) আরও বেড়ে যাবে। মূল্যস্ফীতির কারণে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, এ দুঃসময়ে মূল্যবৃদ্ধি বহুমাত্রিক মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হবে। ফলে কৃষি, শিল্প, সেবা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ জনগণের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি করবে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে।

এখন দাম বৃদ্ধির উপযুক্ত সময় নয়-এমন মন্তব্য করে জসিম উদ্দিন বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির আবেদন পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্যুৎ খাত বার্ক আইনের বিধান অনুযায়ী স্বচ্ছতা, মানসম্মত, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা সহকারে পরিচালিত হচ্ছে না। বরং এ খাতের সর্বত্র অদক্ষতা, যথেচ্ছ অনিয়ম, অস্বচ্ছতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং আইনের বিপরীতে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করে বিরাজমান অপব্যবস্থাপনার অহেতুক দায়ভার জাতীয় অর্থনীতি এবং জনগণের জীবন-জীবিকা নির্বাহের সব ক্ষেত্রে সংক্রমিত করা কোনভাবেই সমীচীন হবে না।

পরিসংখ্যান দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে গ্যাসের উচ্চ মূল্য দিতে হয়। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাসের দামে যেই ভর্তুকি দেওয়া হয়, তা সরকার বহন করলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোর লাভ করার যৌক্তিকতা কতটুকু তা ভেবে দেখা দরকার।

মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে জসিম আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে হয়তো গ্যাস থাকবে, কিন্তু শিল্প থাকবে না। যারা এ কাজ করছেন তারা হয়তো না বুঝে অথবা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ কাজ করছেন। এর পরিবর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার-আধুনিকায়ন (বিএমআরই), কুইক রেন্টাল বন্ধ, গুরুত্ব অনুযায়ী শিল্প ও আবাসিক এলাকায় গ্যাস রেশনিং করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়েও কাজ করা দরকার। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করবেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গত ৩ বছরে তিতাস গ্যাস কর পূর্ববর্তী মুনাফা করেছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। গ্রাহকের ২২শ কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট আছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এ টাকা গ্যাস উত্তোলনে খরচ করার কথা। সব টাকা হিসাব করলে তিতাসের অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার কোটি টাকা আছে। সেই টাকা ফেরত দেওয়া হলে গ্যাসের দাম কোনোভাবেই বাড়বে না, বরং কমানো যাবে। এ সংকটকালীন অবস্থায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে এখন অর্ডার কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় হুজুগের মাথায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এ সিদ্ধান্ত শিল্পের জন্য আত্মঘাতী হবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনাপরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। যখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এলো তখন গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রেটেই অনেকের কাছে গ্যাস-বিদ্যুতের বিল বকেয়া পড়ে আছে। এখন যেই হারে দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তাতে শিল্প এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে, কারও বন্ধ করতে হবে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, দেশে এখন ডলার সংকট চলছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম বাড়ছে। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, সেটি ছুরি মেরে শিল্পকে বসিয়ে দেওয়ার শামিল হবে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর। এটা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উপযুক্ত সময় নয়।

অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, করোনায় স্টিল খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই রেশ কাটতে ৩-৪ বছর সময় লাগবে। এই মুহূর্তে সরকারকে প্রো-অ্যাকটিভ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কীভাবে ব্যবসার খরচ কমানো যায় সেই চিন্তা করতে হবে। অথচ বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। এ ভার স্টিল শিল্প সহ্য করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্টিল খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ আছে। অনেক ভালো গ্রাহকও করোনায় ঋণখেলাপি হয়ে গেছেন। এই মুহূর্তে দাম বাড়ানো হলে চরম ক্ষতিতে পড়বে স্টিল খাত।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, করোনার ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পেছনে সদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমলাতন্ত্র দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন