অস্থির সোনার বাজার এক লাফে বেড়েছে ৪ হাজার ২শ টাকা
jugantor
অস্থির সোনার বাজার এক লাফে বেড়েছে ৪ হাজার ২শ টাকা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অস্থির হয়ে উঠেছে সোনার বাজার। গত এক মাসে ৫ বার ওঠানামা করেছে দাম। এরমধ্যে তিন বারই বেড়েছে। শনিবার এক লাফেই ভরিতে বেড়েছে ৪ হাজার ২শ টাকা। এরফলে ২২ ক্যারটের ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা। দেশের ইতিহাসে এটি সোনার দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড। আজ রোববার থেকে এ দাম কার্যকর হবে। বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এক্ষেত্রে বাজুস বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশে বেশির ভাগ সোনা আসে চোরাচালানের মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এর সুবিধা পায়।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম ওঠানামা করছে। বিশ্বের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা। স্বস্তিতে নেই মুদ্রাবাজার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। সবকিছু মিলে বিনিয়োগকারীরা সোনায় বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করছেন। এতে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এদিকে শনিবার দুবাইয়ের বাজারে ২২ ক্যারটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ছিল ৫৭ দশমিক ২৪ ডলার। প্রতি ডলার ৯৫ টাকা ধরলেও স্থানীয় মুদ্রায় প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ৪শ টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশি দামের সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার টাকা ব্যবধান।

জানা গেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই সোনার দাম বাড়তে থাকে। গত ১১ এপ্রিল এক লাফে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়ানো হয়। ওই সময়ে ২২ ক্যারটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৮৪৮ টাকা। তবে ২৫ এপ্রিল আবার ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। এরপর ১০ মে আবারও ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হলে সোনার ভরি দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৫১৫ টাকা। তবে ১৭ মে আবারও ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ায় বাজুস। ওই সময়ে সোনার ভরি দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা। শনিবার আরও বাড়ানো হলো।

সাধারণত, অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। অস্থির জ্বালানি তেলের বাজার। মার্কিন ডলারের পাশাপাশি প্রভাবশালী মুদ্রাগুলোর দাম ওঠানামা করছে। যার প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে।

মানভেদে দেশে ৪ ধরনের সোনা বিক্রি হয়। এর মধ্যে ২২ ক্যারটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। ২১ ক্যারটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। আর পুরোনো স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা হয় সনাতন পদ্ধতির সোনা। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ সোনার পরিমাণ নির্দিষ্ট করা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ৬০ শতাংশের মতো পাওয়া যায় বিশুদ্ধ সোনা। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা। ২১ ক্যারটের প্রতি ভরি ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা, ১৮ ক্যারট ৬৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং সনাতন ৫৬ হাজার ২২০ টাকা।

দেশের বাজারে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা প্রায় ২১ টন। অর্থাৎ কমবেশি এই পরিমাণের স্বর্ণ বা অলংকার কেনাবেচা হয়। তবে বৈধভাবে আমদানি একেবারে কম। সূত্র জানায়, দেশে স্বর্ণের চাহিদার বেশিরভাগই চোরাচালান থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিমানে করে স্বর্ণের বার, স্বর্ণালংকার পাচার হয়ে আসছে। এসব দেশে বাংলাদেশের একটি চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া বৈধভাবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা আনা যায়। তবে তা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম।

অস্থির সোনার বাজার এক লাফে বেড়েছে ৪ হাজার ২শ টাকা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অস্থির হয়ে উঠেছে সোনার বাজার। গত এক মাসে ৫ বার ওঠানামা করেছে দাম। এরমধ্যে তিন বারই বেড়েছে। শনিবার এক লাফেই ভরিতে বেড়েছে ৪ হাজার ২শ টাকা। এরফলে ২২ ক্যারটের ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা। দেশের ইতিহাসে এটি সোনার দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড। আজ রোববার থেকে এ দাম কার্যকর হবে। বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এক্ষেত্রে বাজুস বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশে বেশির ভাগ সোনা আসে চোরাচালানের মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এর সুবিধা পায়।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম ওঠানামা করছে। বিশ্বের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা। স্বস্তিতে নেই মুদ্রাবাজার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। সবকিছু মিলে বিনিয়োগকারীরা সোনায় বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করছেন। এতে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এদিকে শনিবার দুবাইয়ের বাজারে ২২ ক্যারটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ছিল ৫৭ দশমিক ২৪ ডলার। প্রতি ডলার ৯৫ টাকা ধরলেও স্থানীয় মুদ্রায় প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ৪শ টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশি দামের সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার টাকা ব্যবধান।

জানা গেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই সোনার দাম বাড়তে থাকে। গত ১১ এপ্রিল এক লাফে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়ানো হয়। ওই সময়ে ২২ ক্যারটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৮৪৮ টাকা। তবে ২৫ এপ্রিল আবার ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। এরপর ১০ মে আবারও ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হলে সোনার ভরি দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৫১৫ টাকা। তবে ১৭ মে আবারও ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ায় বাজুস। ওই সময়ে সোনার ভরি দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা। শনিবার আরও বাড়ানো হলো।

সাধারণত, অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। অস্থির জ্বালানি তেলের বাজার। মার্কিন ডলারের পাশাপাশি প্রভাবশালী মুদ্রাগুলোর দাম ওঠানামা করছে। যার প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে।

মানভেদে দেশে ৪ ধরনের সোনা বিক্রি হয়। এর মধ্যে ২২ ক্যারটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। ২১ ক্যারটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। আর পুরোনো স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা হয় সনাতন পদ্ধতির সোনা। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ সোনার পরিমাণ নির্দিষ্ট করা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ৬০ শতাংশের মতো পাওয়া যায় বিশুদ্ধ সোনা। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা। ২১ ক্যারটের প্রতি ভরি ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা, ১৮ ক্যারট ৬৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং সনাতন ৫৬ হাজার ২২০ টাকা।

দেশের বাজারে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা প্রায় ২১ টন। অর্থাৎ কমবেশি এই পরিমাণের স্বর্ণ বা অলংকার কেনাবেচা হয়। তবে বৈধভাবে আমদানি একেবারে কম। সূত্র জানায়, দেশে স্বর্ণের চাহিদার বেশিরভাগই চোরাচালান থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিমানে করে স্বর্ণের বার, স্বর্ণালংকার পাচার হয়ে আসছে। এসব দেশে বাংলাদেশের একটি চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া বৈধভাবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা আনা যায়। তবে তা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন