রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অবদান রাখুন
jugantor
নিক্কেই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অবদান রাখুন

  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  

২৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখতে জাপান এবং ওইসিডির দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক নিক্কেই সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকটের গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং সাহায্য করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ থাকব যদি জাপান ও ওইসিডির অন্য দেশগুলো কমপক্ষে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো প্রসারিত করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্নাতক অর্জন করে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এফটিএ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং জাপানসহ অন্যসব দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

এশিয়াকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও জনবহুল মহাদেশ হিসাবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বাস করে। এটি বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষেরও আবাসস্থল। ‘অতএব, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করে এশিয়ার দেশগুলো জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এসব বাস্তুচ্যুতদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ বাসভূমে নিরাপদ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, এ সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং আমাদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি।

ভবিষ্যৎ এশিয়া গড়ার জন্য সম্মেলনে পাঁচটি ধারণা শেয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের প্রতিফলনের জন্য কিছু ধারণা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোকে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং বিভাজন মোকাবিলায় সংহতি প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, কীভাবে আইসিটির সফ্ট পাওয়ারকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের কাজের মধ্যে সমতা আনয়ন করতে পারে এবং তারা তা অন্বেষণ করতে পারে।

চতুর্থ ও পঞ্চম ধারণায় তিনি বলেন, এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার উন্নতি এবং উভয়পক্ষের জন্য সুবিধাজনক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর এবং এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা উচিত।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই বিশ্ব এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও সমৃদ্ধ এশিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান ও সে দেশের জনগণের অমূল্য সমর্থন ও অবদানের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

কপ-২৬ সহ সব আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সক্রিয় এবং সোচ্চার হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে থাকা ৪৮-সদস্যের দেশগুলোর একটি কণ্ঠস্বর হিসাবে কাজ করতে ২০২০-২২ সালের জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছিলাম।

বাংলাদেশ সার্ক, বিমসটেক, আইওআরএ, ওআইসি, ন্যাম, এআরএফ, আসেম, সিকা, কমনওয়েলথের মতো আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সংলাপ প্রচারে সক্রিয় রয়েছে।

দুদিনব্যাপী সম্মেলনটি জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্ট্রিমিং ও অনসাইট উপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছরের সম্মেলনের সঙ্গে একটি হাইব্রিড বিন্যাসে হচ্ছে-এর শিরোনাম ‘বিভক্ত বিশ্বে এশিয়ার ভূমিকা পর্যালোচনা করা।’

নিক্কেই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অবদান রাখুন

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 
২৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখতে জাপান এবং ওইসিডির দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক নিক্কেই সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকটের গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং সাহায্য করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ থাকব যদি জাপান ও ওইসিডির অন্য দেশগুলো কমপক্ষে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো প্রসারিত করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্নাতক অর্জন করে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এফটিএ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং জাপানসহ অন্যসব দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

এশিয়াকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও জনবহুল মহাদেশ হিসাবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বাস করে। এটি বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষেরও আবাসস্থল। ‘অতএব, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করে এশিয়ার দেশগুলো জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এসব বাস্তুচ্যুতদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ বাসভূমে নিরাপদ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, এ সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং আমাদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি।

ভবিষ্যৎ এশিয়া গড়ার জন্য সম্মেলনে পাঁচটি ধারণা শেয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের প্রতিফলনের জন্য কিছু ধারণা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোকে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং বিভাজন মোকাবিলায় সংহতি প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, কীভাবে আইসিটির সফ্ট পাওয়ারকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের কাজের মধ্যে সমতা আনয়ন করতে পারে এবং তারা তা অন্বেষণ করতে পারে।

চতুর্থ ও পঞ্চম ধারণায় তিনি বলেন, এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার উন্নতি এবং উভয়পক্ষের জন্য সুবিধাজনক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর এবং এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা উচিত।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই বিশ্ব এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও সমৃদ্ধ এশিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান ও সে দেশের জনগণের অমূল্য সমর্থন ও অবদানের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

কপ-২৬ সহ সব আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সক্রিয় এবং সোচ্চার হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে থাকা ৪৮-সদস্যের দেশগুলোর একটি কণ্ঠস্বর হিসাবে কাজ করতে ২০২০-২২ সালের জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছিলাম।

বাংলাদেশ সার্ক, বিমসটেক, আইওআরএ, ওআইসি, ন্যাম, এআরএফ, আসেম, সিকা, কমনওয়েলথের মতো আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সংলাপ প্রচারে সক্রিয় রয়েছে।

দুদিনব্যাপী সম্মেলনটি জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্ট্রিমিং ও অনসাইট উপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছরের সম্মেলনের সঙ্গে একটি হাইব্রিড বিন্যাসে হচ্ছে-এর শিরোনাম ‘বিভক্ত বিশ্বে এশিয়ার ভূমিকা পর্যালোচনা করা।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর