বিআইডব্লিউটিসি খুঁজছে বিকল্প ফেরিরুট
jugantor
পদ্মা সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন
বিআইডব্লিউটিসি খুঁজছে বিকল্প ফেরিরুট

  কাজী জেবেল  

২৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর পর নিজেদের আয়ের উৎস ধরে রাখতে বিকল্প ফেরিরুট খুঁজছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

৮-৯টি রুট সার্ভে করেছে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নতুন নতুন ফেরিরুট চালুর ওপর জোর দিচ্ছে এ সংস্থাটি। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যমান তিনটি রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটটিতেও ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখবে।

সেতুতে গাড়ি চালুর পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরিতে গাড়ি পারাপার কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। তবে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে চলার কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেরির পাশাপাশি বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা যাত্রী কমে যাওয়ার ধাক্কা সামাল দিতে নিচ্ছেন নানা পদক্ষেপ। কয়েকজন লঞ্চ মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি পারাপার শুরুর কয়েক মাস লঞ্চে যাত্রীসংখ্যাও অনেক কমে যাবে-এমনই আশঙ্কা লঞ্চ মালিকদের। তবে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিকের কাছাকাছি চলে আসবে বলেও ধারণা তাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকে সেতুটিতে গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ শুরু হতে যাচ্ছে। এতে সড়ক পথে সময় কমে আসবে। এর প্রভাব ফেরি ও লঞ্চে পড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

পদ্মা সেতু চালুতে নৌপথের ওপর প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের বিরাট আবেগের জায়গা। এ সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর পর স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেতুতেই পার হবেন। তবে নৌপথে ফেরির চাহিদাও থাকবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফেরির চাহিদা রয়েছে। এসব চাহিদা সামনে রেখে রুট সার্ভে চলছে। জনসাধারণের উপকার হয় এমন রুটগুলোতে ফেরি চালু করা হবে।

নৌমন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হলেও রেললাইন নির্মাণ কাজের কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আসতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মালবহনকারী ট্রাক এ সেতুতে পারাপারের অনুমোদন পাবে না। ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কাটালাইনও চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিরুট চালু থাকবে। তবে ওই রুটে চলাচলকারী ৮৭টি লঞ্চের অনেকগুলোই যাত্রীর অভাবে বন্ধ হতে পারে।

জানা গেছে, বর্তমানে ছয়টি রুটে বিআইডব্লিউটিসির ফেরি চলাচল করে। সেগুলো হচ্ছে-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, ভোলা-লক্ষ্মীপুর এবং লাহারহাট-ভেদুরিয়া। এর মধ্যে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরিতে গাড়ি পারাপারই বিআইডব্লিউটিসির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজারের বেশি গাড়ি ফেরি পার হয়। এ রুট থেকে দৈনিক কমবেশি ৮০ লাখ টাকা আয় করে সংস্থাটি। অপরদিকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি রুটে ফেরিতে বড় আকারের গাড়ি পারাপার বন্ধ রয়েছে। তবুও এ দুটি রুটে দৈনিক দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৫০০টি গাড়ি পার হয়। এতে সংস্থাটির দৈনিক আয় ১২-১৫ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতুতে গাড়ি পারাপার শুরু হলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিরুটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের দুই রুট শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরিতে গাড়ি পারাপার কমে যাবে। এ দুটি রুটে বর্তমানে ২৮টি ফেরি রয়েছে। কমে যাবে ফেরির চাহিদা। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির বহরে ৫১টি ফেরি রয়েছে। চলতি বছরে বিআইডব্লিউটিসির বহরে নতুন ১২টি ফেরি যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ফেরিঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করে বিআইডব্লিউটিএ। আর ফেরি পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিসি। পদ্মা সেতু চালুর বিষয়টি মাথায় রেখে ৮-৯টি রুট সার্ভে করেছে এ দুই সংস্থা। রুটগুলো হচ্ছে-যমুনা নদীর রৌমারী (জামালপুর)-চিলমারী (কুড়িগ্রাম), মাদারগঞ্জ (জামালপুর)-সারিয়াকান্দি (বগুড়া) এবং বালাশী (জামালপুর)-বাহাদুরাবাদ (গাইবান্ধা)।

পদ্মা নদীর আরিচা (মানিকগঞ্জ)-খায়েরচর ও জৌকরা (রাজবাড়ী)-নাজিরগঞ্জ (পাবনা) এবং মেঘনা নদীর ইলিশা-মজুচৌধুরী হাট ও মনপুরা তজুমদ্দিন রুট। গত বুধবার বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ভোলার মনপুরা-তজুমদ্দিন রুট পরিদর্শন করে এসেছেন। এছাড়া শীত মৌসুমে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ও নোয়খালী-হাতিয়া রুটেও ফেরি চালানোর পরিকল্পনা করছে বিআইডব্লিউটিসি।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রৌমারী-চিলমারী নৌরুট পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী, পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান ও জিএম (মেরিন) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী।

এ রুটে ফেরি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যোগাযোগের পথ ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে এ ফেরিরুটে গাড়ি পার হতে পারবে।

তবে এ ফেরিরুট চালু করতে শেরপুর থেকে রৌমারী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে হবে। রৌমারী-চিলমারী নৌপথে ড্রেজিং করতে হবে।

এছাড়া আরিচা-খয়েরচর ফেরিরুট সার্ভে করেছে বিআইডব্লিউটিসি। ৮ কিলোমিটার দূরত্বের এ রুটে ফেরি চালু হলে পাবনা ও ঈশ্বরদী থেকে যমুনা সেতু হয়ে আসা-যাওয়ার দূরত্ব ৮০-৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। এ রুট চালু করতে ফেরিঘাট নির্মাণের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবগঞ্জের মৈনট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গোপালপুর রুট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। এ রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর সুপারিশ করেছেন তারা। এছাড়া কলাপাড়ার নিজামপুর থেকে তালতলী এবং বরগুনা থেকে তালতলী ফেরিরুট সার্ভে করতে কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিসি। একইভাবে অন্যান্য রুটে ফেরি চালুর বিষয়ে খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

সূত্র আরও জানায়, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুট থেকে চারটি ফেরি সরিয়ে এনে আরিচা-কাজিরহাট ও চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে ফেরি সার্ভিস শুরু করা হবে। একইভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একটি ফেরিরুট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী যুগান্তরকে বলেন, কোনো ফেরি বসে থাকবে না। আমরা বিদ্যমান রুটগুলোতে ফেরির সংখ্যা বাড়াব। পাশাপাশি নতুন রুটে ফেরি চালু করব।

লঞ্চ চলাচল : কয়েকজন লঞ্চ মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর প্রথম কয়েক মাস বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ আশপাশের রুটে প্রভাব পড়বে। সেতুর টোলহার ও বাসের ভাড়া এবং লঞ্চের কম ভাড়া বিবেচনায় আবার যাত্রীরা লঞ্চে ফিরে আসবেন। এছাড়া ঢাকা-চাঁদপুর ও কাছাকাছি রুটগুলোতে যাত্রীকমের কোনো প্রভাবই পড়বে না। এসব রুটে আগের মতোই যাত্রী থাকবে।

জানতে চাইলে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যা-প) সংস্থার সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চে যাত্রীসংখ্যার প্রভাব পড়বে না তা নয়। নৌপথ যাত্রা সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়ক। এসব কারণে যাত্রীরা লঞ্চকেই প্রাধান্য দেবেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন

বিআইডব্লিউটিসি খুঁজছে বিকল্প ফেরিরুট

 কাজী জেবেল 
২৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর পর নিজেদের আয়ের উৎস ধরে রাখতে বিকল্প ফেরিরুট খুঁজছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

৮-৯টি রুট সার্ভে করেছে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নতুন নতুন ফেরিরুট চালুর ওপর জোর দিচ্ছে এ সংস্থাটি। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যমান তিনটি রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটটিতেও ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখবে।

সেতুতে গাড়ি চালুর পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরিতে গাড়ি পারাপার কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। তবে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে চলার কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেরির পাশাপাশি বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা যাত্রী কমে যাওয়ার ধাক্কা সামাল দিতে নিচ্ছেন নানা পদক্ষেপ। কয়েকজন লঞ্চ মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি পারাপার শুরুর কয়েক মাস লঞ্চে যাত্রীসংখ্যাও অনেক কমে যাবে-এমনই আশঙ্কা লঞ্চ মালিকদের। তবে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিকের কাছাকাছি চলে আসবে বলেও ধারণা তাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকে সেতুটিতে গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ শুরু হতে যাচ্ছে। এতে সড়ক পথে সময় কমে আসবে। এর প্রভাব ফেরি ও লঞ্চে পড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

পদ্মা সেতু চালুতে নৌপথের ওপর প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের বিরাট আবেগের জায়গা। এ সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর পর স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেতুতেই পার হবেন। তবে নৌপথে ফেরির চাহিদাও থাকবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফেরির চাহিদা রয়েছে। এসব চাহিদা সামনে রেখে রুট সার্ভে চলছে। জনসাধারণের উপকার হয় এমন রুটগুলোতে ফেরি চালু করা হবে।

নৌমন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হলেও রেললাইন নির্মাণ কাজের কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আসতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মালবহনকারী ট্রাক এ সেতুতে পারাপারের অনুমোদন পাবে না। ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কাটালাইনও চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিরুট চালু থাকবে। তবে ওই রুটে চলাচলকারী ৮৭টি লঞ্চের অনেকগুলোই যাত্রীর অভাবে বন্ধ হতে পারে।

জানা গেছে, বর্তমানে ছয়টি রুটে বিআইডব্লিউটিসির ফেরি চলাচল করে। সেগুলো হচ্ছে-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, ভোলা-লক্ষ্মীপুর এবং লাহারহাট-ভেদুরিয়া। এর মধ্যে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরিতে গাড়ি পারাপারই বিআইডব্লিউটিসির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজারের বেশি গাড়ি ফেরি পার হয়। এ রুট থেকে দৈনিক কমবেশি ৮০ লাখ টাকা আয় করে সংস্থাটি। অপরদিকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি রুটে ফেরিতে বড় আকারের গাড়ি পারাপার বন্ধ রয়েছে। তবুও এ দুটি রুটে দৈনিক দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৫০০টি গাড়ি পার হয়। এতে সংস্থাটির দৈনিক আয় ১২-১৫ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতুতে গাড়ি পারাপার শুরু হলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিরুটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের দুই রুট শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরিতে গাড়ি পারাপার কমে যাবে। এ দুটি রুটে বর্তমানে ২৮টি ফেরি রয়েছে। কমে যাবে ফেরির চাহিদা। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির বহরে ৫১টি ফেরি রয়েছে। চলতি বছরে বিআইডব্লিউটিসির বহরে নতুন ১২টি ফেরি যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ফেরিঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করে বিআইডব্লিউটিএ। আর ফেরি পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিসি। পদ্মা সেতু চালুর বিষয়টি মাথায় রেখে ৮-৯টি রুট সার্ভে করেছে এ দুই সংস্থা। রুটগুলো হচ্ছে-যমুনা নদীর রৌমারী (জামালপুর)-চিলমারী (কুড়িগ্রাম), মাদারগঞ্জ (জামালপুর)-সারিয়াকান্দি (বগুড়া) এবং বালাশী (জামালপুর)-বাহাদুরাবাদ (গাইবান্ধা)।

পদ্মা নদীর আরিচা (মানিকগঞ্জ)-খায়েরচর ও জৌকরা (রাজবাড়ী)-নাজিরগঞ্জ (পাবনা) এবং মেঘনা নদীর ইলিশা-মজুচৌধুরী হাট ও মনপুরা তজুমদ্দিন রুট। গত বুধবার বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ভোলার মনপুরা-তজুমদ্দিন রুট পরিদর্শন করে এসেছেন। এছাড়া শীত মৌসুমে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ও নোয়খালী-হাতিয়া রুটেও ফেরি চালানোর পরিকল্পনা করছে বিআইডব্লিউটিসি।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রৌমারী-চিলমারী নৌরুট পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী, পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান ও জিএম (মেরিন) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী।

এ রুটে ফেরি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যোগাযোগের পথ ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে এ ফেরিরুটে গাড়ি পার হতে পারবে।

তবে এ ফেরিরুট চালু করতে শেরপুর থেকে রৌমারী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে হবে। রৌমারী-চিলমারী নৌপথে ড্রেজিং করতে হবে।

এছাড়া আরিচা-খয়েরচর ফেরিরুট সার্ভে করেছে বিআইডব্লিউটিসি। ৮ কিলোমিটার দূরত্বের এ রুটে ফেরি চালু হলে পাবনা ও ঈশ্বরদী থেকে যমুনা সেতু হয়ে আসা-যাওয়ার দূরত্ব ৮০-৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। এ রুট চালু করতে ফেরিঘাট নির্মাণের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবগঞ্জের মৈনট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গোপালপুর রুট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। এ রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর সুপারিশ করেছেন তারা। এছাড়া কলাপাড়ার নিজামপুর থেকে তালতলী এবং বরগুনা থেকে তালতলী ফেরিরুট সার্ভে করতে কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিসি। একইভাবে অন্যান্য রুটে ফেরি চালুর বিষয়ে খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

সূত্র আরও জানায়, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুট থেকে চারটি ফেরি সরিয়ে এনে আরিচা-কাজিরহাট ও চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে ফেরি সার্ভিস শুরু করা হবে। একইভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একটি ফেরিরুট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী যুগান্তরকে বলেন, কোনো ফেরি বসে থাকবে না। আমরা বিদ্যমান রুটগুলোতে ফেরির সংখ্যা বাড়াব। পাশাপাশি নতুন রুটে ফেরি চালু করব।

লঞ্চ চলাচল : কয়েকজন লঞ্চ মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর প্রথম কয়েক মাস বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ আশপাশের রুটে প্রভাব পড়বে। সেতুর টোলহার ও বাসের ভাড়া এবং লঞ্চের কম ভাড়া বিবেচনায় আবার যাত্রীরা লঞ্চে ফিরে আসবেন। এছাড়া ঢাকা-চাঁদপুর ও কাছাকাছি রুটগুলোতে যাত্রীকমের কোনো প্রভাবই পড়বে না। এসব রুটে আগের মতোই যাত্রী থাকবে।

জানতে চাইলে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যা-প) সংস্থার সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চে যাত্রীসংখ্যার প্রভাব পড়বে না তা নয়। নৌপথ যাত্রা সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়ক। এসব কারণে যাত্রীরা লঞ্চকেই প্রাধান্য দেবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন