পিরিয়ড বিষয়ে ৭১ শতাংশ নারী অসচেতন
jugantor
বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ
পিরিয়ড বিষয়ে ৭১ শতাংশ নারী অসচেতন

  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  

২৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিরিয়ড (মাসিক) কালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে দেশের ৭১ শতাংশ নারী অসচেতন। সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক নানা ট্যাবুর কারণে তারা এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে ও শুনতে অস্বস্তিবোধ করেন।

ফলে নানা রোগসহ গর্ভধারণে জটিলতার সম্মুখীন হন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি এ বিষয়ে নারীদের সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করতে হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ সারা বিশ্বের মতো দেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২২। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘এমন একটি বিশ্ব তৈরি করা যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো নারী বা কন্যাশিশু ঋতুস্রাবের কারণে আটকে থাকবে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী জানান, নারীরা মাসিক নিয়ে সামাজিক নানা ট্যাবুর কারণে খোলামেলা আলোচনায় অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে গর্ভধারণসহ নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

-+তিনি বলেন, সঠিক সময়ে মাসিক হওয়া মেয়েদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার পূর্বশর্ত। তাই মাসিক চলাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানা থাকা তার অধিকার। এ অধিকার আদায়ে সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়-সচেতনতার অভাব আর দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় দেশের ৭১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী এখনো পিরিয়ডের সময় ডিসপোজেবল প্যাড ব্যবহার করেন না। প্যাডের পরিবর্তে পুরোনো আর অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহারে নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। জরিপ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৫০ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিনের পরিবর্তে অস্বাস্থ্যকর পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে।

পিরিয়ডের সময় কিশোরীদের অনেকে স্কুলে যায় না। ক্ষেত্র বিশেষে পরীক্ষায়ও অংশ নেয় না। কারণ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাবান্ধব টয়লেট নেই। টয়লেটগুলোতে জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ থাকে না এবং ব্যবহৃত ন্যাপকিন ফেলার জন্যও থাকে না কোনো স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা। অথচ গড়ে একজন শিক্ষার্থী পিরিয়ডের সময় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা স্কুলে থাকে।

সেজন্য স্কুলগুলোতে জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ এবং তা ফেলার স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর ন্যাপকিন পালটানো দরকার। তা না হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এ সময় সুস্থ থাকার জন্য বেশ কিছু করণীয় রয়েছে।

যেমন, মাসিকের সময় পরিষ্কার সুতি কাপড় বা ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করা (স্যানিটারি প্যাড সবচেয়ে নিরাপদ); প্রতিদিন গোসল করা এবং গোসলের সময় যোনিপথ ও এর চারপাশ পানি দিয়ে পরিষ্কার; মাসিকের কাপড় বা প্যাড ভিজে গেলে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর বদলানো; কাপড় বা প্যাড বদলানোর পর হাত ভালো করে ধোয়া। কাপড় রোদে শুকিয়ে, শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে রাখলে পরবর্তী মাসিকের সময় তা ব্যবহার করা যায়। এ সময় মেয়েদের শরীরে যে ঘাটতি সৃষ্টি হয় তা পূরণে বেশি করে পুষ্টিকর, আয়রন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ‘নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের (নাসাসু)’সহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও বেসরকারি এনজিও নানা কর্মসূচি পালন করবে। মাসিক সম্পর্কে সচেতন করতে উঠান বৈঠক, কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের উদ্যোগে গোলটেবিল বৈঠক হবে। পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হবে।

বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

পিরিয়ড বিষয়ে ৭১ শতাংশ নারী অসচেতন

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 
২৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিরিয়ড (মাসিক) কালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে দেশের ৭১ শতাংশ নারী অসচেতন। সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক নানা ট্যাবুর কারণে তারা এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে ও শুনতে অস্বস্তিবোধ করেন।

ফলে নানা রোগসহ গর্ভধারণে জটিলতার সম্মুখীন হন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি এ বিষয়ে নারীদের সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করতে হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ সারা বিশ্বের মতো দেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২২। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘এমন একটি বিশ্ব তৈরি করা যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো নারী বা কন্যাশিশু ঋতুস্রাবের কারণে আটকে থাকবে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী জানান, নারীরা মাসিক নিয়ে সামাজিক নানা ট্যাবুর কারণে খোলামেলা আলোচনায় অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে গর্ভধারণসহ নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

-+তিনি বলেন, সঠিক সময়ে মাসিক হওয়া মেয়েদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার পূর্বশর্ত। তাই মাসিক চলাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানা থাকা তার অধিকার। এ অধিকার আদায়ে সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়-সচেতনতার অভাব আর দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় দেশের ৭১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী এখনো পিরিয়ডের সময় ডিসপোজেবল প্যাড ব্যবহার করেন না। প্যাডের পরিবর্তে পুরোনো আর অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহারে নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। জরিপ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৫০ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিনের পরিবর্তে অস্বাস্থ্যকর পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে।

পিরিয়ডের সময় কিশোরীদের অনেকে স্কুলে যায় না। ক্ষেত্র বিশেষে পরীক্ষায়ও অংশ নেয় না। কারণ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাবান্ধব টয়লেট নেই। টয়লেটগুলোতে জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ থাকে না এবং ব্যবহৃত ন্যাপকিন ফেলার জন্যও থাকে না কোনো স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা। অথচ গড়ে একজন শিক্ষার্থী পিরিয়ডের সময় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা স্কুলে থাকে।

সেজন্য স্কুলগুলোতে জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ এবং তা ফেলার স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর ন্যাপকিন পালটানো দরকার। তা না হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এ সময় সুস্থ থাকার জন্য বেশ কিছু করণীয় রয়েছে।

যেমন, মাসিকের সময় পরিষ্কার সুতি কাপড় বা ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করা (স্যানিটারি প্যাড সবচেয়ে নিরাপদ); প্রতিদিন গোসল করা এবং গোসলের সময় যোনিপথ ও এর চারপাশ পানি দিয়ে পরিষ্কার; মাসিকের কাপড় বা প্যাড ভিজে গেলে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর বদলানো; কাপড় বা প্যাড বদলানোর পর হাত ভালো করে ধোয়া। কাপড় রোদে শুকিয়ে, শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে রাখলে পরবর্তী মাসিকের সময় তা ব্যবহার করা যায়। এ সময় মেয়েদের শরীরে যে ঘাটতি সৃষ্টি হয় তা পূরণে বেশি করে পুষ্টিকর, আয়রন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ‘নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের (নাসাসু)’সহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও বেসরকারি এনজিও নানা কর্মসূচি পালন করবে। মাসিক সম্পর্কে সচেতন করতে উঠান বৈঠক, কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের উদ্যোগে গোলটেবিল বৈঠক হবে। পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন