নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ
jugantor
গোয়াহাটিতে মোমেন-জয়শঙ্কর বৈঠক
নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ
৩০ মের সভা স্থগিত * দিল্লিতে জেসিসি বৈঠক ১৮-১৯ জুন * বাংলাদেশকে গম দেবে ভারত

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক  

২৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন’ (জেসিসি) বৈঠক ৩০ মে হচ্ছে না। এর পরিবর্তে ১৮ ও ১৯ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হবে এ বৈঠক। শনিবার ভারতের আসামের গোয়াহাটিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে নতুন এই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।

এদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন গোয়াহাটিতে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশকে গম দেবে ভারত। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই গম আমদানি করা হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জেসিসি গঠিত হয়। দুদেশের দুটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে ২৭ ও ২৮ মে গোয়াহাটিতে এশীয় নদী সম্মেলন করেছে।

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর আমন্ত্রিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে গোয়াহাটি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন দিল্লি গিয়ে ৩০ মে জেসিসি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গোয়াহাটিতে নদী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

জেসিসি বৈঠকের কর্মসূচি কেন পিছিয়ে গেল জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন শনিবার গোয়াহাটি থেকে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এখানে (গোয়াহাটি) বৈঠক করেছি। তার একদিন পর আবার দিল্লিতে জেসিসি বৈঠক করে আমরা কী করব। আলোচনা এখানেই হয়ে গেছে। তাই আমরা পরস্পরের সম্মতিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছি ১৮ ও ১৯ জুন।’

জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে কী কী বিষয় আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, নদী, বিদ্যুৎ, ডাম্পিং প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় ছিল।’

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কোন বিষয় জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়ার কারণে আসামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এটা তারা স্বীকার করেছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রীও এটা বলেছেন। এই বিষয়ে ভারত খুবই খুশি।’

ভারত থেকে গম কেনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে তারা গম বিক্রি করবে। তবে তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী কেউ গম কিনে ইউরোপে কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে রপ্তানি করে কিনা।

এটা কেউ করবে না। তাই সরকার চাহিদা দিলে এবং বেসরকারি ঋণপত্রের গম বাংলাদেশে আসবে।’ পিকে হালদারকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী আলোচনা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতকে একটা সম্ভাব্য তারিখ দেব। জুনে বাজেট অধিবেশন তাই জুনে ভারত সফর সম্ভব নয়। জুলাইয়ের কোনো এক সময়ে হতে পারে। আগস্ট শোকের মাস হওয়ায় ওই সময়ে তিনি বাইরে যান না। জুলাইয়ে না হলে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে সফরটি হতে পারে। এটা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদির আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে জেসিসির সপ্তম রাউন্ডের বৈঠক ১৮ ও ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেসিসি মূল বৈঠক হবে ১৯ জুন। ১৮ জুন প্রয়োজনীয় অন্যান্য বৈঠক হবে।

ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্র বলছে, অনেকটা হঠাৎ করেই বৈঠক পিছিয়ে গেছে। জেসিসি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যে ঢাকা থেকে অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা দিল্লি রওয়ানা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুই মন্ত্রী শনিবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তারিখ পিছিয়ে দেন। এ নিয়ে কিছুটা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানিকটা রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমি আসাম থেকে সিলেট চলে যাব।’ একজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুদেশের মধ্যে কয়েকটা বৈঠক বাকি আছে। বিদ্যুৎ খাতের বৈঠক চলছে। আরও ছোটখাটো কয়েকটা বৈঠক বাকি আছে। নতুন তারিখে বৈঠক হওয়ার আগে এগুলো শেষ হবে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, কানেকটিভিটি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের সঙ্গে জোরদার সহযোগিতায় আগ্রহী আসাম। তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সৌজন্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। এতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর, ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং ভারতে আসিয়ান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

গোয়াহাটিতে মোমেন-জয়শঙ্কর বৈঠক

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ

৩০ মের সভা স্থগিত * দিল্লিতে জেসিসি বৈঠক ১৮-১৯ জুন * বাংলাদেশকে গম দেবে ভারত
 কূটনৈতিক প্রতিবেদক 
২৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন’ (জেসিসি) বৈঠক ৩০ মে হচ্ছে না। এর পরিবর্তে ১৮ ও ১৯ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হবে এ বৈঠক। শনিবার ভারতের আসামের গোয়াহাটিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে নতুন এই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।

এদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন গোয়াহাটিতে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশকে গম দেবে ভারত। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই গম আমদানি করা হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জেসিসি গঠিত হয়। দুদেশের দুটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে ২৭ ও ২৮ মে গোয়াহাটিতে এশীয় নদী সম্মেলন করেছে।

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর আমন্ত্রিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে গোয়াহাটি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন দিল্লি গিয়ে ৩০ মে জেসিসি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গোয়াহাটিতে নদী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

জেসিসি বৈঠকের কর্মসূচি কেন পিছিয়ে গেল জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন শনিবার গোয়াহাটি থেকে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এখানে (গোয়াহাটি) বৈঠক করেছি। তার একদিন পর আবার দিল্লিতে জেসিসি বৈঠক করে আমরা কী করব। আলোচনা এখানেই হয়ে গেছে। তাই আমরা পরস্পরের সম্মতিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছি ১৮ ও ১৯ জুন।’ 

জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে কী কী বিষয় আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, নদী, বিদ্যুৎ, ডাম্পিং প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় ছিল।’

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কোন বিষয় জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়ার কারণে আসামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এটা তারা স্বীকার করেছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রীও এটা বলেছেন। এই বিষয়ে ভারত খুবই খুশি।’ 

ভারত থেকে গম কেনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে তারা গম বিক্রি করবে। তবে তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী কেউ গম কিনে ইউরোপে কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে রপ্তানি করে কিনা।

এটা কেউ করবে না। তাই সরকার চাহিদা দিলে এবং বেসরকারি ঋণপত্রের গম বাংলাদেশে আসবে।’ পিকে হালদারকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী আলোচনা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতকে একটা সম্ভাব্য তারিখ দেব। জুনে বাজেট অধিবেশন তাই জুনে ভারত সফর সম্ভব নয়। জুলাইয়ের কোনো এক সময়ে হতে পারে। আগস্ট শোকের মাস হওয়ায় ওই সময়ে তিনি বাইরে যান না। জুলাইয়ে না হলে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে সফরটি হতে পারে। এটা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।’ 

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদির আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে জেসিসির সপ্তম রাউন্ডের বৈঠক ১৮ ও ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেসিসি মূল বৈঠক হবে ১৯ জুন। ১৮ জুন প্রয়োজনীয় অন্যান্য বৈঠক হবে। 

ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্র বলছে, অনেকটা হঠাৎ করেই বৈঠক পিছিয়ে গেছে। জেসিসি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যে ঢাকা থেকে অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা দিল্লি রওয়ানা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুই মন্ত্রী শনিবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তারিখ পিছিয়ে দেন। এ নিয়ে কিছুটা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানিকটা রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমি আসাম থেকে সিলেট চলে যাব।’ একজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুদেশের মধ্যে কয়েকটা বৈঠক বাকি আছে। বিদ্যুৎ খাতের বৈঠক চলছে। আরও ছোটখাটো কয়েকটা বৈঠক বাকি আছে। নতুন তারিখে বৈঠক হওয়ার আগে এগুলো শেষ হবে। 

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, কানেকটিভিটি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের সঙ্গে জোরদার সহযোগিতায় আগ্রহী আসাম। তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সৌজন্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। এতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর, ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং ভারতে আসিয়ান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন