একরাম নিহতের ঘটনা তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।ফাইল ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার বিষয়টি একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ওই ম্যাজিস্ট্রেটের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যদি প্রলুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, একরামের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অডিও রেকর্ডটি দেয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর তদন্ত শুরু করবেন।

২৬ মে রাতে একরাম নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে। যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে কেউ দেয়নি। তারপরও অডিও রেকর্ডটি শুনেছি।

শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কমিশনার একরামুল হক প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, যদি কেউ অন্যায় কাজ করে থাকে, কিংবা প্রলুব্ধ হয়ে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করে থাকে, তাহলে তার বিচার হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আবারও রিপিট করতে চাই, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

তিনি বলেন, অন্যায় করলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেন না। সেটাও আপনারা দেখেছেন। অডিও রেকর্ডটি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে অডিওটির কথা বলছেন। আমাদের কাছে অফিসিয়ালি আসেনি সেটি। আমাদের কাছে সেরকম তথ্য নেই। কেউ অফিসিয়ালি ঘটনাটি বলেনি। তথ্য এলে আমাদের যা করণীয় তাই করব।

মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যে তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলছে তা শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের না। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনছে। যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাকে সাড়া দিচ্ছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা নির্দোষ তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অভিযানে আটক ও গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার অভিযুক্তকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের কারাগারে প্রায় ৮৩-৮৫ হাজার বন্দি আছে, যার প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ মাদকের মামলার আসামি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মাদকের একটা নতুন আইন হচ্ছে, সেটি হলে সবকিছুর সমাধান হবে।

২৬ মে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাম নিহত হন। এরপর র‌্যাব দাবি করে, একরাম একজন মাদক ব্যবসায়ী। তবে বৃহস্পতিবার টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত কাউন্সিলর একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, বন্দুকযুদ্ধের নামে অন্যায়ভাবে তার স্বামীকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।