উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে আনন্দ উৎসব
jugantor
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে আনন্দ উৎসব

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গৌরবের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ ও খুশির ঢেউ দেশজুড়ে লেগেছে। বহুলপ্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক ও মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে সারা দেশে নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এসব উৎসব আয়োজনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পদ্মা সেতুর ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবন ছেয়ে যায়।

শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনন্দ উৎসব ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে। অনেক স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এতে মানুষজন নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দেশাত্মবোধক ও পদ্মা সেতু নিয়ে গানবাজানো হয়। অনেক স্থানে আলোচনাসভা এবং রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কোথাও কোথাও লেজার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে করার লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিল সর্বত্র।

অনেক স্থানে টিভির বড় পর্দায় সরাসরি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দে ঢাকা মহানগরীর মানুষজন মুখর ছিলেন। তাদের কেউ বাসায় বসে টিভিতে দেখছেন, কেউবা ছুটে গেছেন পদ্মাপারে।

আর কেউবা জড়ো হয়েছেন বড় পর্দার সামনে। এ কারণে এদিন নগরীর রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক পথচারীর সঙ্গে আলাপ করে এমন চিত্র চোখে পড়ে। এ সম্পর্কে যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে রাজধানী ঢাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। এদিন আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে উঠে রাতের আকাশ। সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও শোভাযাত্রা বের করে। নগরীর হাতিরঝিল, টিএসসিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিটি পর্দার সামনে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়।

মিরপুর, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, শাহবাগ, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। এসব ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী ও পদ্মা সেতুর ছবি এবং ‘স্বপ্নপূরণের বার্তা’, ‘লড়াই করতে পারার গৌরব’ লেখা ছিল। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পদ্মা সেতুর থিম সং বাজানো হয়।

হাতিরঝিলে যতদূর চোখ যায় নান্দনিক আলোকসজ্জা দেখা যায়। রাস্তার দুপাশে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো হয়।

তরুণী সায়মা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদ্যাপনের আনন্দটা অনুভব করতে পারলেও ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তরুণ অনন্য জাইফ যুগান্তরকে বলেন, ‘হাতিরঝিলে এসে মনে হয়েছে, পদ্মাপারেই আছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।

এতে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, নার্সসহ অন্যরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

কাওরান বাজার এলাকায় পথচারী কামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নগরীর রাস্তাঘাটে যানজট নেই। বাইরে বের হয়ে মনে হয়েছে, দিনটা যেন একটা ঈদের আনন্দ।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সজল মিয়া বলেন, টাউনহল এলাকা থেকে ২০ মিনিটে তিনি শাহবাগ পৌঁছতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সিগন্যালগুলোয় কোনো জট ছিল না।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মনিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গাড়ির চাপ এবং মানুষের চাপ কম। এ কারণে যানজটও কম।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে সামনে রেখে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দোলাইরপাড় টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে পোস্তগোলা ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ (১ম) এবং পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করা হয়।

সর্বত্র পদ্মা সেতু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত নানা ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড শোভা পায়। ব্যানার-ফেস্টুনে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবিও স্থান পায়।

চট্টগ্রাম : পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খুশির ঢেউ লেগেছিল চট্টগ্রামেও। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, দোয়া-মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। জামালখানে প্রতীকী পদ্মা সেতু বসানো হয়েছিল।

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বিশ্বের ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া বাঙালির আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রকাশের, আত্মমর্যাদার একটি চিরঞ্জীব মহাকাব্য। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারায় বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে সম্মানিত।

রাজশাহী : পদ্মা সেতুর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাজশাহীতে বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বড় পর্দায় কয়েক হাজার মানুষ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

নগরীর সাহেব বাজার বড় মসজিদের সামনে মহানগর আওয়ামী লীগ সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া নগরীর অলোকার মোড়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।

সেতুর উদ্বোধন করার পর তিনটি অনুষ্ঠানেই মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এছাড়া সকালে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রা শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেন। বড় পর্দায় সেখানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়।

বরিশাল : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সকাল ৮টায় বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন, রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক প্রমুখ। নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি সার্কিট হাউজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ওয়াহেদুর রহমান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার প্রমুখ।

বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক হয়ে বান্দরোডে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এর শেষভাগে থাকা ট্রাকের মাধ্যমে দেশাত্মবোধক ও পদ্মা সেতু নিয়ে গান প্রচার করা হয়।

পরে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভা ও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এদিকে আজ সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আতশবাজি ও লেজার প্রদর্শনীর আ?য়োজন করা হয়েছে। রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রংপুর : রংপুর জিলা স্কুল মাঠের বটতলায় বেলুন উড়িয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় রংপুর জেলা প্রশাসন। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগতদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।

এরপর চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় একই মাঠে আতশবাজি জ্বালিয়ে আনন্দ-উল্লাস করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা হয়।

এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদের নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, বেগম রোকেয়া কলেজ, কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, এটি একটি স্বপ্নের সফল ও বিস্ময়কর বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বাঙালি সব কাজই করতে পারে।

বাঙালি ও বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না; সেই কথার সার্থকতা প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এর আগে সকালে টাউন হল চত্বর থেকে একটি বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রতীকী পদ্মা সেতু, ঘোড়ার গাড়িসহ শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বানানো ফেস্টুন, প্লেকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

সিলেট : সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনে বড় ধরনের উৎসব হয়নি। এরপরও নিজেদের দুর্দিন ভুলে সিলেটবাসী উৎসবে শামিল হয়েছে। বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চলে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কোনো অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তবুও উৎসব থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেনি সিলেটবাসী। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ এ অনুষ্ঠান দেখতে জড়ো হন। এ উপলক্ষ্যে জেলা ও মহানগর পুলিশ নগরীতে শোভাযাত্রা বের করে।

ময়মনসিংহ : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাউনহল থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

এতে প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

এছাড়া আলোচনাসভা, আতশবাজি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় নানা রঙের আতশবাজির ঝলকানিতে স্টেডিয়াম আলোকিত হয়ে পড়ে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বিন্দু কনা সংগীত পরিবেশন করেন।

বগুড়া : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বগুড়াবাসীরাও উৎসবে মেতে ওঠে। সকালে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও সেতুর ডামি নিয়ে অংশ নেয়।

শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বড় পর্দায় দেখানো হয়। এখানে সন্ধ্যায় নাটিকা, নৃত্য ও আনন্দ কনসার্ট এবং রাত ৮টায় আতশবাজি করা হয়। এসব অনুষ্ঠান হাজারো মানুষ উপভোগ করেন।

অন্যদিকে শহরের সাতমাথা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুজিব মঞ্চে শেষ হয়। এখানে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের বাজারঘাট, চায়ের দোকান, আড্ডা-সর্বত্র আলোচনায় ছিল পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান। ইসদাইরের শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করেন কয়েক হাজার মানুষ।

সকালে জেলা প্রশাসন শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মুষলধারে বৃষ্টি হলেও শোভাযাত্রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। এটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গেলাম দস্তগীর গাজী বলেন, অনেক কষ্টের বিনিময়ে এ পদ্মা সেতু আমাদের মাঝে এসেছে। একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা উপহার দিয়েছিলেন। আজ সেই উপহারের সঙ্গে আরেকটি উপহার এসেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। সেই কথা আজ সত্য হয়েছে। বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি।

শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগের নয়-দেশের সম্পদ, আপনাদের সম্পদ। তিনি আরও বলেন, সামনে ষড়যন্ত্র আছে। সবাই প্রস্তুত থাকুন, এক থাকুন।

যশোর : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে যশোরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সদস্যরা ব্যানার নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল টাউনহল ময়দানে জড়ো হন।

সেখানে বড় পর্দায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। সুসজ্জিত রওশন আলী মঞ্চে পদ্মা সেতুর অনুষ্ঠান সরসরি দেখানো হয়। শহরের গাড়িখানার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। জেলা পুলিশের উদ্যোগেও আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি শহিদ রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়। সেখানে বড় পর্দায় পদ্মা সেতু উদ্বোধন সরাসরি দেখানো হয়। সন্ধ্যায় আতশবাজি ও আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে সাতক্ষীরা।

বাগেরহাট : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও প্লেকার্ড নিয়ে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরে সপ্তাহব্যাপী পদ্মা সেতু আনন্দমেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও মোংলা বন্দর বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।

কিশোরগঞ্জ : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি পুরোনো স্টেডিয়ামে মূল মঞ্চের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে নির্মিত বিশাল মঞ্চ থেকে বড় পর্দায় বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।

কক্সবাজার : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ডিসি কার্যালয়ের বাইরের সড়ক, শহিদ দৌলত ময়দান, পৌর কার্যালয়ের সামনের অংশ সাজানো হয়। ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি দেখাতে জেলা প্রশাসক চত্বরে টিভির বড় পর্দা লাগানো হয়।

পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ, জেলা প্রশাসনের আশপাশের এলাকা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মাথায় পদ্মা সেতুর ছবি সংবলিত ক্যাপ ও পতাকা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ এখন উল্লসিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাক্ষী হতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ জনসভাস্থলে হাজির হয়। লঞ্চ, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও নৌকায় করে লাখ লাখ মানুষ জনসভাস্থলে যান। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তারা উল্লাস করেন।

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : পদ্মা সেতুর হাইওয়ে এক্সপ্রেস মহাসড়কে হাজার হাজার বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসভর্তি সাধারণ মানুষ উদ্বোধনী জনসভায় যোগ দেন। হাজার হাজার মানুষ হেঁটে জনসভায় যোগ দিতে পেরে তারা আনন্দিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে আনন্দ উৎসব

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গৌরবের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ ও খুশির ঢেউ দেশজুড়ে লেগেছে। বহুলপ্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক ও মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে সারা দেশে নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এসব উৎসব আয়োজনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পদ্মা সেতুর ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবন ছেয়ে যায়।

শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনন্দ উৎসব ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে। অনেক স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এতে মানুষজন নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দেশাত্মবোধক ও পদ্মা সেতু নিয়ে গানবাজানো হয়। অনেক স্থানে আলোচনাসভা এবং রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কোথাও কোথাও লেজার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে করার লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিল সর্বত্র। 

অনেক স্থানে টিভির বড় পর্দায় সরাসরি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দে ঢাকা মহানগরীর মানুষজন মুখর ছিলেন। তাদের কেউ বাসায় বসে টিভিতে দেখছেন, কেউবা ছুটে গেছেন পদ্মাপারে।

আর কেউবা জড়ো হয়েছেন বড় পর্দার সামনে। এ কারণে এদিন নগরীর রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক পথচারীর সঙ্গে আলাপ করে এমন চিত্র চোখে পড়ে। এ সম্পর্কে যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে রাজধানী ঢাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। এদিন আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে উঠে রাতের আকাশ। সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও শোভাযাত্রা বের করে। নগরীর হাতিরঝিল, টিএসসিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিটি পর্দার সামনে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়।

মিরপুর, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, শাহবাগ, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। এসব ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী ও পদ্মা সেতুর ছবি এবং ‘স্বপ্নপূরণের বার্তা’, ‘লড়াই করতে পারার গৌরব’ লেখা ছিল। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পদ্মা সেতুর থিম সং বাজানো হয়। 

হাতিরঝিলে যতদূর চোখ যায় নান্দনিক আলোকসজ্জা দেখা যায়। রাস্তার দুপাশে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো হয়।

তরুণী সায়মা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদ্যাপনের আনন্দটা অনুভব করতে পারলেও ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তরুণ অনন্য জাইফ যুগান্তরকে বলেন, ‘হাতিরঝিলে এসে মনে হয়েছে, পদ্মাপারেই আছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।

এতে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, নার্সসহ অন্যরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

কাওরান বাজার এলাকায় পথচারী কামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নগরীর রাস্তাঘাটে যানজট নেই। বাইরে বের হয়ে মনে হয়েছে, দিনটা যেন একটা ঈদের আনন্দ।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সজল মিয়া বলেন, টাউনহল এলাকা থেকে ২০ মিনিটে তিনি শাহবাগ পৌঁছতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সিগন্যালগুলোয় কোনো জট ছিল না।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মনিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গাড়ির চাপ এবং মানুষের চাপ কম। এ কারণে যানজটও কম। 

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে সামনে রেখে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দোলাইরপাড় টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে পোস্তগোলা ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ (১ম) এবং পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করা হয়।

সর্বত্র পদ্মা সেতু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত নানা ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড শোভা পায়। ব্যানার-ফেস্টুনে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবিও স্থান পায়। 

চট্টগ্রাম : পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খুশির ঢেউ লেগেছিল চট্টগ্রামেও। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, দোয়া-মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। জামালখানে প্রতীকী পদ্মা সেতু বসানো হয়েছিল।

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বিশ্বের ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া বাঙালির আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রকাশের, আত্মমর্যাদার একটি চিরঞ্জীব মহাকাব্য। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারায় বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে সম্মানিত। 

রাজশাহী : পদ্মা সেতুর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাজশাহীতে বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বড় পর্দায় কয়েক হাজার মানুষ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

নগরীর সাহেব বাজার বড় মসজিদের সামনে মহানগর আওয়ামী লীগ সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া নগরীর অলোকার মোড়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।

সেতুর উদ্বোধন করার পর তিনটি অনুষ্ঠানেই মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এছাড়া সকালে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রা শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেন। বড় পর্দায় সেখানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হয়। 

বরিশাল : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সকাল ৮টায় বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন, রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক প্রমুখ। নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি সার্কিট হাউজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ওয়াহেদুর রহমান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার প্রমুখ।

বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক হয়ে বান্দরোডে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এর শেষভাগে থাকা ট্রাকের মাধ্যমে দেশাত্মবোধক ও পদ্মা সেতু নিয়ে গান প্রচার করা হয়।

পরে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভা ও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এদিকে আজ সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আতশবাজি ও লেজার প্রদর্শনীর আ?য়োজন করা হয়েছে। রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

রংপুর : রংপুর জিলা স্কুল মাঠের বটতলায় বেলুন উড়িয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় রংপুর জেলা প্রশাসন। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগতদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।

এরপর চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় একই মাঠে আতশবাজি জ্বালিয়ে আনন্দ-উল্লাস করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা হয়।

এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদের নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, বেগম রোকেয়া কলেজ, কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, এটি একটি স্বপ্নের সফল ও বিস্ময়কর বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বাঙালি সব কাজই করতে পারে।

বাঙালি ও বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না; সেই কথার সার্থকতা প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এর আগে সকালে টাউন হল চত্বর থেকে একটি বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রতীকী পদ্মা সেতু, ঘোড়ার গাড়িসহ শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বানানো ফেস্টুন, প্লেকার্ড প্রদর্শন করা হয়। 

সিলেট : সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনে বড় ধরনের উৎসব হয়নি। এরপরও নিজেদের দুর্দিন ভুলে সিলেটবাসী উৎসবে শামিল হয়েছে। বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চলে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কোনো অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তবুও উৎসব থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেনি সিলেটবাসী। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ এ অনুষ্ঠান দেখতে জড়ো হন। এ উপলক্ষ্যে জেলা ও মহানগর পুলিশ নগরীতে শোভাযাত্রা বের করে।

ময়মনসিংহ : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাউনহল থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

এতে প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

এছাড়া আলোচনাসভা, আতশবাজি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় নানা রঙের আতশবাজির ঝলকানিতে স্টেডিয়াম আলোকিত হয়ে পড়ে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বিন্দু কনা সংগীত পরিবেশন করেন।

বগুড়া : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বগুড়াবাসীরাও উৎসবে মেতে ওঠে। সকালে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও সেতুর ডামি নিয়ে অংশ নেয়।

শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বড় পর্দায় দেখানো হয়। এখানে সন্ধ্যায় নাটিকা, নৃত্য ও আনন্দ কনসার্ট এবং রাত ৮টায় আতশবাজি করা হয়। এসব অনুষ্ঠান হাজারো মানুষ উপভোগ করেন।

অন্যদিকে শহরের সাতমাথা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুজিব মঞ্চে শেষ হয়। এখানে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের বাজারঘাট, চায়ের দোকান, আড্ডা-সর্বত্র আলোচনায় ছিল পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান। ইসদাইরের শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করেন কয়েক হাজার মানুষ।

সকালে জেলা প্রশাসন শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মুষলধারে বৃষ্টি হলেও শোভাযাত্রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। এটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গেলাম দস্তগীর গাজী বলেন, অনেক কষ্টের বিনিময়ে এ পদ্মা সেতু আমাদের মাঝে এসেছে। একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা উপহার দিয়েছিলেন। আজ সেই উপহারের সঙ্গে আরেকটি উপহার এসেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন। 

অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। সেই কথা আজ সত্য হয়েছে। বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি।

শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগের নয়-দেশের সম্পদ, আপনাদের সম্পদ। তিনি আরও বলেন, সামনে ষড়যন্ত্র আছে। সবাই প্রস্তুত থাকুন, এক থাকুন। 

যশোর : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে যশোরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সদস্যরা ব্যানার নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল টাউনহল ময়দানে জড়ো হন।

সেখানে বড় পর্দায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। সুসজ্জিত রওশন আলী মঞ্চে পদ্মা সেতুর অনুষ্ঠান সরসরি দেখানো হয়। শহরের গাড়িখানার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। জেলা পুলিশের উদ্যোগেও আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সাতক্ষীরা : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি শহিদ রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়। সেখানে বড় পর্দায় পদ্মা সেতু উদ্বোধন সরাসরি দেখানো হয়। সন্ধ্যায় আতশবাজি ও আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে সাতক্ষীরা। 

বাগেরহাট : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও প্লেকার্ড নিয়ে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরে সপ্তাহব্যাপী পদ্মা সেতু আনন্দমেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও মোংলা বন্দর বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। 

কিশোরগঞ্জ : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি পুরোনো স্টেডিয়ামে মূল মঞ্চের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে নির্মিত বিশাল মঞ্চ থেকে বড় পর্দায় বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।

কক্সবাজার : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ডিসি কার্যালয়ের বাইরের সড়ক, শহিদ দৌলত ময়দান, পৌর কার্যালয়ের সামনের অংশ সাজানো হয়। ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি দেখাতে জেলা প্রশাসক চত্বরে টিভির বড় পর্দা লাগানো হয়।

পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ, জেলা প্রশাসনের আশপাশের এলাকা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মাথায় পদ্মা সেতুর ছবি সংবলিত ক্যাপ ও পতাকা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ এখন উল্লসিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাক্ষী হতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ জনসভাস্থলে হাজির হয়। লঞ্চ, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও নৌকায় করে লাখ লাখ মানুষ জনসভাস্থলে যান। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তারা উল্লাস করেন। 

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : পদ্মা সেতুর হাইওয়ে এক্সপ্রেস মহাসড়কে হাজার হাজার বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসভর্তি সাধারণ মানুষ উদ্বোধনী জনসভায় যোগ দেন। হাজার হাজার মানুষ হেঁটে জনসভায় যোগ দিতে পেরে তারা আনন্দিত।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন