পদ্মা পারে জনস্রোত বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
jugantor
পদ্মা পারে জনস্রোত বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে দুই পারসহ দেশের মানুষ উচ্ছ্বসিত। স্বপ্ন পূরণের আবেশ মিশেছিল শিবচরের বাতাসে। দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসের বিচ্ছুরণ ঘটে চারিদিকে। পদ্মার পারে মানুষের ঘরে ঘরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। শনিবার এ মেগাপ্রকল্পের উদ্বোধন ঘিরে শিবচরের কাঁঠালবাড়ি প্রান্তের জনসভায় ফজরের পর থেকেই দক্ষিণের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। বাস, লঞ্চ ও ফেরিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে ছুটে আসেন তারা। নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে সমাবেশে হাজির হন।

সকাল থেকে আকাশে মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলছিল। ৯টায় ধীরে ধীরে মেঘাচ্ছন্ন হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। চলে প্রায় ১৫ মিনিট। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি এমন বিরূপ পরিবেশ থাকলেও উপস্থিত লাখো মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। বেলা ১১টার আগেই ১৫ একর এলাকার জনসভাস্থল কানায় কানায় মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে ঠাঁই না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। দুপুর ১টা ৯ মিনিটে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতির ভাষণ দেন তখন জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পর্র্যন্ত শুধুই ছিল মানুষের স্রোত। জনসভাস্থল ছাড়াও আশপাশের সব সড়ক ও অলিগলি ছিল লোকে লোকারণ্য।

নিজস্ব অর্থায়নে সর্ববৃহৎ অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে আসেন আনোয়ার হোসেন (৭৬)। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ পূরণ হচ্ছে। আজ আমাদের কাছে ঈদের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমাদের আজন্ম দুর্দশা থেকে মুক্তি দিলেন।

বাগেরহাটের মোল্লার হাট থেকে এসেছিলেন লাভলু শেখ। এই সেতু তাদের জীবন অনেক সহজ করে দেবে বলে জানান। তিনি বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী হতেই এসেছিলাম। চুয়াডাঙ্গা যুবলীগের সভাপতি নইম হাসান জোয়ার্দারের নেতৃত্বে যুবলীগের প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী ভোরে এসে পৌঁছেছেন বলে জানান রহিম শেখ। শরীয়তপুরের জয়নগর ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল হালিম তালুকদার অন্যদের সঙ্গে রাতেই চলে এসেছেন। তিনি জমাদ্দার স্ট্যান্ডে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেছেন। সারা রাত অনুষ্ঠান দেখে ভোরে সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করে আসেন জনসভাস্থলে। তিনি বলেন, এতবড় উৎসব আমাদের জীবনে আর হবে কিনা জানি না। তাই কষ্ট করে হলেও চলে এসেছি। স্বপ্নপূরণের এমন আবেগ আর উচ্ছ্বাসের কথা ছিল জনসভায় আসা প্রায় সবার মুখেই।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাওয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। গাড়িবহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রথম ব্যক্তি হিসাবে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন। এ সময় তিনি সেতুর নির্ধারিত টোলও পরিশোধ করেন। সেতুর মাঝামঝি অংশে গাড়ি থেকে নেমে চারদিকের দৃশ্য দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের মাস্ক পরিহিত প্রধানমন্ত্রীকে বেশ প্রাণবন্ত দেখায়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিমানবাহিনীর ৬টি হেলিকপ্টার প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রী কাঁঠালবাড়ির জনসভায় পৌঁছানোর পর মঞ্চে বাজানো হয় বাংলাদেশের লোকগানের উজ্জ্বল নক্ষত্র শিল্পী আবদুল আলীমের ‘সর্বনাশা পদ্মা নদীরে’ গানটি। এরপর বেজে ওঠে ‘ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’ গানটি।

শতাধিক লঞ্চে জনসভায় নেতাকর্মী : জনসভায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক লঞ্চ আসে বাংলাবাজার ঘাটে। ভোর থেকে একে একে লঞ্চগুলো পন্টুনে ভিড়তে থাকে। লঞ্চের সামনে টানানো ছিল নানা ধরনের ব্যানার। সরেজমিন ১ থেকে ৬ নম্বর পন্টুন পর্র্যন্ত বড় লঞ্চগুলো ভিড়তে দেখা যায়। ঘাটে আসা মাত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) লোকজন লঞ্চগুলো সিরিয়ালে রেখে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। জনসভা শুরুর আগেই প্রতিটি পন্টুনে ৪-৫টি করে লঞ্চ ছিল। বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি থেকে আসা লঞ্চ থেকে লোক নামানো শেষে এগুলো মাঝ নদীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে অনেক নেতাকর্মী লঞ্চ থেকেই নামেননি। তারা সেখানে বসেই জনসভা দেখেছেন। অনেক নেতাকর্মী একই রং ও ধরনের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরেছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা-ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক লঞ্চ এসেছিল।

পটুয়াখালী থেকে আসা শরীফ হোসেন বলেন, রাতে লঞ্চে উঠেছি। সারা রাত আনন্দ করেছি। বাউফল উপজেলা থেকে সাতটি লঞ্চে প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মী জনসভায় যোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। পিরোজপুর থেকে আসা যুবলীগকর্মী মনির হোসেন জানান, তার জেলা থেকেও বেশ কয়েকটি লঞ্চে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন।

নদীতে বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ : এদিকে জনসভাস্থলে মানুষদের আনন্দ দিতে পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সকাল থেকেই নৌকাগুলো জনসভার পাশেই নদীতে ভাসতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে সুসজ্জিত ছয়টি নৌকা দিয়ে বাংলাবাজার লঞ্চঘাট এলাকায় এ বাইচ শুরু। মানিকগঞ্জ থেকে আসা বাইচ নৌকার মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবে অংশ নিতে আমরা প্রতিটি নৌকায় ৬০ জন করে মাঝি নিয়ে এসেছি। ছয়টি নৌকা দিয়ে নদীতে প্রতিযোগিতা করছি। আমরা আনন্দিত।

সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি : বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে সমাবেশস্থলে এসেছিল মানুষ। এর ফলে মূল সড়কে দেখা গেছে বাসের দীর্ঘ সারি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে আসছেন কেউ কেউ। মোটরবাইকে করে ছুটেছেন অনেকে। আশপাশের মানুষ আসছেন হেঁটে। দলীয় স্লোগান দিতে দিতে খুলনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। এদিকে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাঁশ ডিঙিয়ে কাউকে সমাবেশস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে চেকিং শেষে মানুষকে জনসভায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে সার্বিক পরিস্থিতির প্রতি নজর রেখেছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। সমগ্র এলাকা ছিল সিসিটিভির আওতায়।

এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সেতুর ওপর উঠে পড়েন জাজিরা এলাকার উৎসুক জনতা। তারা হাতে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর ওপরে ওঠা সবাইকে সরিয়ে দেন।

পদ্মা পারে জনস্রোত বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে দুই পারসহ দেশের মানুষ উচ্ছ্বসিত। স্বপ্ন পূরণের আবেশ মিশেছিল শিবচরের বাতাসে। দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসের বিচ্ছুরণ ঘটে চারিদিকে। পদ্মার পারে মানুষের ঘরে ঘরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। শনিবার এ মেগাপ্রকল্পের উদ্বোধন ঘিরে শিবচরের কাঁঠালবাড়ি প্রান্তের জনসভায় ফজরের পর থেকেই দক্ষিণের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। বাস, লঞ্চ ও ফেরিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে ছুটে আসেন তারা। নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে সমাবেশে হাজির হন।

সকাল থেকে আকাশে মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলছিল। ৯টায় ধীরে ধীরে মেঘাচ্ছন্ন হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। চলে প্রায় ১৫ মিনিট। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি এমন বিরূপ পরিবেশ থাকলেও উপস্থিত লাখো মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। বেলা ১১টার আগেই ১৫ একর এলাকার জনসভাস্থল কানায় কানায় মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে ঠাঁই না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। দুপুর ১টা ৯ মিনিটে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতির ভাষণ দেন তখন জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পর্র্যন্ত শুধুই ছিল মানুষের স্রোত। জনসভাস্থল ছাড়াও আশপাশের সব সড়ক ও অলিগলি ছিল লোকে লোকারণ্য।

নিজস্ব অর্থায়নে সর্ববৃহৎ অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে আসেন আনোয়ার হোসেন (৭৬)। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ পূরণ হচ্ছে। আজ আমাদের কাছে ঈদের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমাদের আজন্ম দুর্দশা থেকে মুক্তি দিলেন।

বাগেরহাটের মোল্লার হাট থেকে এসেছিলেন লাভলু শেখ। এই সেতু তাদের জীবন অনেক সহজ করে দেবে বলে জানান। তিনি বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী হতেই এসেছিলাম। চুয়াডাঙ্গা যুবলীগের সভাপতি নইম হাসান জোয়ার্দারের নেতৃত্বে যুবলীগের প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী ভোরে এসে পৌঁছেছেন বলে জানান রহিম শেখ। শরীয়তপুরের জয়নগর ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল হালিম তালুকদার অন্যদের সঙ্গে রাতেই চলে এসেছেন। তিনি জমাদ্দার স্ট্যান্ডে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেছেন। সারা রাত অনুষ্ঠান দেখে ভোরে সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করে আসেন জনসভাস্থলে। তিনি বলেন, এতবড় উৎসব আমাদের জীবনে আর হবে কিনা জানি না। তাই কষ্ট করে হলেও চলে এসেছি। স্বপ্নপূরণের এমন আবেগ আর উচ্ছ্বাসের কথা ছিল জনসভায় আসা প্রায় সবার মুখেই।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাওয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। গাড়িবহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রথম ব্যক্তি হিসাবে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন। এ সময় তিনি সেতুর নির্ধারিত টোলও পরিশোধ করেন। সেতুর মাঝামঝি অংশে গাড়ি থেকে নেমে চারদিকের দৃশ্য দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের মাস্ক পরিহিত প্রধানমন্ত্রীকে বেশ প্রাণবন্ত দেখায়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিমানবাহিনীর ৬টি হেলিকপ্টার প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রী কাঁঠালবাড়ির জনসভায় পৌঁছানোর পর মঞ্চে বাজানো হয় বাংলাদেশের লোকগানের উজ্জ্বল নক্ষত্র শিল্পী আবদুল আলীমের ‘সর্বনাশা পদ্মা নদীরে’ গানটি। এরপর বেজে ওঠে ‘ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’ গানটি।

শতাধিক লঞ্চে জনসভায় নেতাকর্মী : জনসভায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক লঞ্চ আসে বাংলাবাজার ঘাটে। ভোর থেকে একে একে লঞ্চগুলো পন্টুনে ভিড়তে থাকে। লঞ্চের সামনে টানানো ছিল নানা ধরনের ব্যানার। সরেজমিন ১ থেকে ৬ নম্বর পন্টুন পর্র্যন্ত বড় লঞ্চগুলো ভিড়তে দেখা যায়। ঘাটে আসা মাত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) লোকজন লঞ্চগুলো সিরিয়ালে রেখে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। জনসভা শুরুর আগেই প্রতিটি পন্টুনে ৪-৫টি করে লঞ্চ ছিল। বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি থেকে আসা লঞ্চ থেকে লোক নামানো শেষে এগুলো মাঝ নদীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে অনেক নেতাকর্মী লঞ্চ থেকেই নামেননি। তারা সেখানে বসেই জনসভা দেখেছেন। অনেক নেতাকর্মী একই রং ও ধরনের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরেছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা-ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক লঞ্চ এসেছিল।

পটুয়াখালী থেকে আসা শরীফ হোসেন বলেন, রাতে লঞ্চে উঠেছি। সারা রাত আনন্দ করেছি। বাউফল উপজেলা থেকে সাতটি লঞ্চে প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মী জনসভায় যোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। পিরোজপুর থেকে আসা যুবলীগকর্মী মনির হোসেন জানান, তার জেলা থেকেও বেশ কয়েকটি লঞ্চে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন।

নদীতে বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ : এদিকে জনসভাস্থলে মানুষদের আনন্দ দিতে পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সকাল থেকেই নৌকাগুলো জনসভার পাশেই নদীতে ভাসতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে সুসজ্জিত ছয়টি নৌকা দিয়ে বাংলাবাজার লঞ্চঘাট এলাকায় এ বাইচ শুরু। মানিকগঞ্জ থেকে আসা বাইচ নৌকার মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবে অংশ নিতে আমরা প্রতিটি নৌকায় ৬০ জন করে মাঝি নিয়ে এসেছি। ছয়টি নৌকা দিয়ে নদীতে প্রতিযোগিতা করছি। আমরা আনন্দিত।

সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি : বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে সমাবেশস্থলে এসেছিল মানুষ। এর ফলে মূল সড়কে দেখা গেছে বাসের দীর্ঘ সারি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে আসছেন কেউ কেউ। মোটরবাইকে করে ছুটেছেন অনেকে। আশপাশের মানুষ আসছেন হেঁটে। দলীয় স্লোগান দিতে দিতে খুলনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। এদিকে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাঁশ ডিঙিয়ে কাউকে সমাবেশস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে চেকিং শেষে মানুষকে জনসভায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে সার্বিক পরিস্থিতির প্রতি নজর রেখেছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। সমগ্র এলাকা ছিল সিসিটিভির আওতায়।

এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সেতুর ওপর উঠে পড়েন জাজিরা এলাকার উৎসুক জনতা। তারা হাতে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর ওপরে ওঠা সবাইকে সরিয়ে দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন