করোনায় ৩ মৃত্যু শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল
jugantor
করোনায় ৩ মৃত্যু শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু ও শনাক্তের হার বাড়ছে। গত একদিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০ দিন মৃত্যুহীন থাকার পর ২০ জুন করোনায় একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পর থেকে টানা চার দিন করোনায় একজন করে মৃত্যু হয়। আগের ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হলো। দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশ থেকে ৮ হাজার ৪৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগে জমা হওয়া স্যাম্পলসহ এদিন ৮ হাজার ৮৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে এদিন রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৭। আগের দিন এ হার ছিল ১২ দশমিক ১৮। এ সময় ১ হাজার ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। দেশে এ পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৫১৯ জন। ১৩ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ ছাড়াল। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর মৃত্যু হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এর আগে দেশে করোনা শনাক্তের হার ১০-এর উপরে ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি ১০ দশমিক ২৪। এরপর শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে কমছিল। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের চিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা করতে দেখা গেছে। করোনা পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমেছে। দেশে সংক্রমণ কমে আসায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। তুলে নেওয়া হয় করোনাকালীন বিধিনিষেধ। ২৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০-এর নিচেই ছিল। এরপর থেকে তা প্রতিদিন বাড়তে থাকে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ১ হাজার ২৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১ হাজার ২১৪ জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯০ জনই মহানগরসহ ঢাকা জেলার। এ সময় রংপুর বিভাগ বাদ দিয়ে সব বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫০, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ৫ জন করে, খুলনা ৪, সিলেট ও রাজশাহীতে ১ জন করে করোনা শনাক্ত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাকি একজন বরিশাল বিভাগের।

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগসহ ছয় দফা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারের করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। পরামর্শের মধ্যে আরও রয়েছে-স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে আবারও উদ্বুদ্ধ করার জন্য সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও জনসমাগম বর্জন করতে হবে। ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানে (যেমন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়ালি এক সভায় কমিটি এসব পরামর্শ দেয়।

করোনায় ৩ মৃত্যু শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু ও শনাক্তের হার বাড়ছে। গত একদিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০ দিন মৃত্যুহীন থাকার পর ২০ জুন করোনায় একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পর থেকে টানা চার দিন করোনায় একজন করে মৃত্যু হয়। আগের ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হলো। দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশ থেকে ৮ হাজার ৪৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগে জমা হওয়া স্যাম্পলসহ এদিন ৮ হাজার ৮৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে এদিন রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৭। আগের দিন এ হার ছিল ১২ দশমিক ১৮। এ সময় ১ হাজার ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। দেশে এ পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৫১৯ জন। ১৩ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ ছাড়াল। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর মৃত্যু হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এর আগে দেশে করোনা শনাক্তের হার ১০-এর উপরে ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি ১০ দশমিক ২৪। এরপর শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে কমছিল। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের চিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা করতে দেখা গেছে। করোনা পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমেছে। দেশে সংক্রমণ কমে আসায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। তুলে নেওয়া হয় করোনাকালীন বিধিনিষেধ। ২৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০-এর নিচেই ছিল। এরপর থেকে তা প্রতিদিন বাড়তে থাকে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ১ হাজার ২৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১ হাজার ২১৪ জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯০ জনই মহানগরসহ ঢাকা জেলার। এ সময় রংপুর বিভাগ বাদ দিয়ে সব বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫০, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ৫ জন করে, খুলনা ৪, সিলেট ও রাজশাহীতে ১ জন করে করোনা শনাক্ত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাকি একজন বরিশাল বিভাগের।

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগসহ ছয় দফা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারের করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। পরামর্শের মধ্যে আরও রয়েছে-স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে আবারও উদ্বুদ্ধ করার জন্য সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও জনসমাগম বর্জন করতে হবে। ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানে (যেমন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়ালি এক সভায় কমিটি এসব পরামর্শ দেয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন