এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় শুরু ১ জুলাই
jugantor
এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় শুরু ১ জুলাই

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে ভিত্তি টোল হিসাবে প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে কার্যকর করা হবে। তবে ওইদিন থেকে পোস্তগোলা, ধলেশ্বরী ও আড়িয়াল খাঁ সেতুর বিদ্যমান টোল উঠে যাবে। অর্থাৎ ঢাকা-মাওয়া ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ব্যবহারে গাড়ির শ্রেণি অনুযায়ী টোল পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া পদ্মা সেতুর টোলও পৃথকভাবে দিতে হবে। এর ফলে পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী গাড়ির ব্যয় আরও বাড়বে। তবে এ পথের তিন সেতুতে টোল দিতে থামতে হবে না। সময়ের সাশ্রয় হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

নতুন টোল হার অনুযায়ী, মহাসড়কের জন্য একটি বাস ৪৯৫ টাকা, মধ্যম আকারের ট্রাক ৫৫০ টাকা, মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপে ২২০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ১৩৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর মোটর সাইকেলের টোল ৫৫ টাকা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। সড়কের নতুন টোল আরোপ হতে যাওয়ায় পদ্মা সেতু দিয়ে চলা বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি সেতুর টোলের টাকা বাদ দিয়ে এ মহাসড়কের টোল যুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান যুগান্তরকে বলেন, এ মহাসড়ক যতটুকু ব্যবহার করবেন, ততটুকু পথের টোল দিতে হবে। নির্দিষ্ট টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধ করে ব্যবহারকারীরা বের হতে পারবেন। তিনি বলেন, সড়কের টোল কার্যকর হওয়ার পর এ মহাসড়কে থাকা তিনটি সেতুর টোল আর থাকবে না। এমনকি সার্ভিস লেন ব্যবহারকারীদেরও টোল দিতে হবে না।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বাবুবাজার থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার ও পাঁচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। সবমিলিয়ে এ পথের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে পথের দূরত্ব চার কিলোমিটার কমে ৫১ কিলোমিটার। এ মহাসড়কে প্রবেশ করলেই প্রতি কিলোমিটার হিসাবে টোল পরিশোধ করতে হবে। সমন্বিত ভিত্তি টোলের হার ১০ টাকা। এ এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব ফাহমিদা হক খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য মাঝারি ট্রাকের জন্য সমন্বিতভাবে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হলো। পরবর্তীতে টোল নীতিমালা-২০১৪ অনুসারে যথাসময়ে টোল হার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, টোল হার অনুযায়ী, ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারে ১০ টাকা হিসাবে মাঝারি ট্রাকে ৫৫০ টাকা টোল দিতে হবে। বাসের টোল মাঝারি ট্রাকের ৯০ শতাংশ বা কিলোমিটারে ৯ টাকা। এ হিসাবে ৪০ আসনের বাসের টোল হবে ৪৯৫ টাকা। গাড়ির জন্য (সেডান) ১৩৮ টাকা (ভিত্তি টোলের ২৫ শতাংশ), হেভি ট্রাক ১১০০ (২০০ শতাংশ), মাইক্রোবাস (৪০ শতাংশ) ২২০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

মাঝারি আকারের ট্রাকে পদ্মা সেতু পার হতে টোল দিতে হয় ২ হাজার ১০০ টাকা, বাসের জন্য ২ হাজার টাকা, গাড়ির জন্য ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৩০০ টাকা, কার ৭৫০ টাকা এবং মোটর সাইকেলের জন্য ১০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু ব্যবহার করলে একটি বাসের টোল দিতে ২৪৯৫ টাকা, মাঝারি ট্রাকের ২৬৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৫২০ টাকা ও কার ও জিপের ৮৮৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ১৫৫ টাকায়।

আরও জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রাবাড়ী-মাওয়া অংশের কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এবং পদ্মা সেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুলিয়াবাজার মালিগ্রামে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ রাখা হয়েছে। এসব স্থান দিয়ে গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বের হতে এবং প্রবেশ করতে পারবে। বের হওয়ার আগে একটি গাড়ি যত কিলোমিটার চলবে- সেই হিসাবে টোল দিতে হবে।

এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় শুরু ১ জুলাই

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে ভিত্তি টোল হিসাবে প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে কার্যকর করা হবে। তবে ওইদিন থেকে পোস্তগোলা, ধলেশ্বরী ও আড়িয়াল খাঁ সেতুর বিদ্যমান টোল উঠে যাবে। অর্থাৎ ঢাকা-মাওয়া ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ব্যবহারে গাড়ির শ্রেণি অনুযায়ী টোল পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া পদ্মা সেতুর টোলও পৃথকভাবে দিতে হবে। এর ফলে পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী গাড়ির ব্যয় আরও বাড়বে। তবে এ পথের তিন সেতুতে টোল দিতে থামতে হবে না। সময়ের সাশ্রয় হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

নতুন টোল হার অনুযায়ী, মহাসড়কের জন্য একটি বাস ৪৯৫ টাকা, মধ্যম আকারের ট্রাক ৫৫০ টাকা, মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপে ২২০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ১৩৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর মোটর সাইকেলের টোল ৫৫ টাকা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। সড়কের নতুন টোল আরোপ হতে যাওয়ায় পদ্মা সেতু দিয়ে চলা বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি সেতুর টোলের টাকা বাদ দিয়ে এ মহাসড়কের টোল যুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান যুগান্তরকে বলেন, এ মহাসড়ক যতটুকু ব্যবহার করবেন, ততটুকু পথের টোল দিতে হবে। নির্দিষ্ট টোলপ্লাজায় টোল পরিশোধ করে ব্যবহারকারীরা বের হতে পারবেন। তিনি বলেন, সড়কের টোল কার্যকর হওয়ার পর এ মহাসড়কে থাকা তিনটি সেতুর টোল আর থাকবে না। এমনকি সার্ভিস লেন ব্যবহারকারীদেরও টোল দিতে হবে না।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বাবুবাজার থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার ও পাঁচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। সবমিলিয়ে এ পথের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে পথের দূরত্ব চার কিলোমিটার কমে ৫১ কিলোমিটার। এ মহাসড়কে প্রবেশ করলেই প্রতি কিলোমিটার হিসাবে টোল পরিশোধ করতে হবে। সমন্বিত ভিত্তি টোলের হার ১০ টাকা। এ এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব ফাহমিদা হক খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য মাঝারি ট্রাকের জন্য সমন্বিতভাবে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হলো। পরবর্তীতে টোল নীতিমালা-২০১৪ অনুসারে যথাসময়ে টোল হার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, টোল হার অনুযায়ী, ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারে ১০ টাকা হিসাবে মাঝারি ট্রাকে ৫৫০ টাকা টোল দিতে হবে। বাসের টোল মাঝারি ট্রাকের ৯০ শতাংশ বা কিলোমিটারে ৯ টাকা। এ হিসাবে ৪০ আসনের বাসের টোল হবে ৪৯৫ টাকা। গাড়ির জন্য (সেডান) ১৩৮ টাকা (ভিত্তি টোলের ২৫ শতাংশ), হেভি ট্রাক ১১০০ (২০০ শতাংশ), মাইক্রোবাস (৪০ শতাংশ) ২২০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

মাঝারি আকারের ট্রাকে পদ্মা সেতু পার হতে টোল দিতে হয় ২ হাজার ১০০ টাকা, বাসের জন্য ২ হাজার টাকা, গাড়ির জন্য ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৩০০ টাকা, কার ৭৫০ টাকা এবং মোটর সাইকেলের জন্য ১০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু ব্যবহার করলে একটি বাসের টোল দিতে ২৪৯৫ টাকা, মাঝারি ট্রাকের ২৬৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৫২০ টাকা ও কার ও জিপের ৮৮৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ১৫৫ টাকায়।

আরও জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রাবাড়ী-মাওয়া অংশের কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এবং পদ্মা সেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুলিয়াবাজার মালিগ্রামে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ রাখা হয়েছে। এসব স্থান দিয়ে গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বের হতে এবং প্রবেশ করতে পারবে। বের হওয়ার আগে একটি গাড়ি যত কিলোমিটার চলবে- সেই হিসাবে টোল দিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন