আশুলিয়ায় স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষককে হত্যা
jugantor
আশুলিয়ায় স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষককে হত্যা

  আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় উৎপল কুমার সরকার (৩৫) নামে এক কলেজ শিক্ষককে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারই এক ছাত্র। শনিবার দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ওই শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু। সোমবার ভোরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। এছাড়া কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত জিতু। এ নিয়ে সম্প্রতি তাকে শাসন করেছিলেন শিক্ষক উৎপল সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই শিক্ষকের ওপর হামলা করে সে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতু আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার উজ্জ্বল হাজীর ছেলে। সে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক সুমন মিয়ার ভাতিজা। হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ওইদিন কলেজ মাঠে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। উৎপল সরকার মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। হঠাৎ জিতু এসে ক্রিকেট খেলার একটি স্টাম্প দিয়ে শিক্ষককে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য শিক্ষকরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

তিনি বলেন, উৎপল সরকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন। বিভিন্ন অপরাধের বিচারও করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব ক্ষোভ থেকেই এটি ঘটেছে।

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। উৎপল সরকারের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের যৌন হয়রানিসহ নানা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে শিক্ষার্থীদের শাসন করত উৎপল। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত জিতুকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনচার্জ ইউসুফ আলী বলেন, প্রচণ্ড আঘাতে শিক্ষক উৎপল সরকারের কলিজা ও কিডনি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, জিতু কলেজের পরিচালকের ভাতিজা হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকদের পরোয়া করতেন না। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মামলা করেছেন। অভিযুক্ত জিতুসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আশুলিয়ায় স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষককে হত্যা

 আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় উৎপল কুমার সরকার (৩৫) নামে এক কলেজ শিক্ষককে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারই এক ছাত্র। শনিবার দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ওই শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু। সোমবার ভোরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। এছাড়া কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত জিতু। এ নিয়ে সম্প্রতি তাকে শাসন করেছিলেন শিক্ষক উৎপল সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই শিক্ষকের ওপর হামলা করে সে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতু আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার উজ্জ্বল হাজীর ছেলে। সে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক সুমন মিয়ার ভাতিজা। হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ওইদিন কলেজ মাঠে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। উৎপল সরকার মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। হঠাৎ জিতু এসে ক্রিকেট খেলার একটি স্টাম্প দিয়ে শিক্ষককে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য শিক্ষকরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

তিনি বলেন, উৎপল সরকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন। বিভিন্ন অপরাধের বিচারও করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব ক্ষোভ থেকেই এটি ঘটেছে।

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। উৎপল সরকারের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের যৌন হয়রানিসহ নানা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে শিক্ষার্থীদের শাসন করত উৎপল। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত জিতুকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনচার্জ ইউসুফ আলী বলেন, প্রচণ্ড আঘাতে শিক্ষক উৎপল সরকারের কলিজা ও কিডনি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, জিতু কলেজের পরিচালকের ভাতিজা হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকদের পরোয়া করতেন না। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মামলা করেছেন। অভিযুক্ত জিতুসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন