পাচারের সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল
jugantor
অর্থবিল-২০২২ পাশ
পাচারের সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাচারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন শুধু নির্ধারিত হারে কর দিয়ে নগদ টাকা দেশে আনা যাবে।

এ ছাড়া করপোরেট কর হ্রাসের সুবিধা পেতে শর্ত শিথিলসহ কিছু সংশোধনী এনে অর্থবিল-২০২২ পাশ করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এরপর তিনি সেটি উপস্থাপন করলে কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এ অর্থবিল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

সংশোধনীতে নতুন করে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তা হলো-দেশের বাইরে কারও সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে সেই সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।

সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে ওই সম্পদের মূল্যের সমপরিমাণ জরিমানা অথবা বাজেয়াপ্ত করা হবে। বিকাল ৫টায় শুরু হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাত ৯টা পর্যন্ত অধিবেশন চলে। শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থবিলের ওপর প্রশ্ন-উত্তর উপস্থাপন করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বিলটি পাশের প্রস্তাব করেন।

সংসদে বিল পাশ হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ-সদস্যদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থবিল ২০২২ জাতীয় সংসদে পাশ হয়।

বিদেশ থেকে পাচারের সম্পদ ফেরত আনতে গত ৯ জুন ঘোষিত বাজেটে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, স্থাবর সম্পদ দেশে আনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ফেরত আনা যাবে।

আর কেউ যদি নগদ টাকা দেশে আনতে চায় তাকে কর দিতে হবে ৭ শতাংশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মূলত এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট প্রস্তাবে এই সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধনীতে শুধু নগদ টাকা আনার সুযোগ রেখে বাকি দুটি অর্থাৎ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হ্রাস করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা নগদে খরচ করতে হবে।

এর বেশি অর্থ নগদে খরচ করলে কর হ্রাসের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠায় শেষ পর্যন্ত অর্থবিলে নগদ অর্থ খরচের অঙ্ক বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন জমার নিয়ম সহজ করা হয়েছে। যেসব কোম্পানির ব্যবসার বয়স এক কিংবা দুই বছর সেসব কোম্পানি শুধু টিআইএন সনদ দিলেই রিটার্ন গ্রহণ করা হবে।

সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গিক দলিলপত্র জমা না দিলেও চলবে। তবে তৃতীয় বছর থেকে সব ডকুমেন্টসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। শ্রমিকদের কল্যাণে সব প্রতিষ্ঠানে একটি তহবিল থাকার কথা।

নিয়ম অনুযায়ী, মালিক পক্ষ ওই তহবিলে যে পরিমাণ টাকা দেয় তা কোম্পানির খরচ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে করে কোম্পানির ওপর করের চাপ কমে।

প্রস্তাবিত বাজেটে খরচের বিধান বাতিল করলেও সংশোধন করে তা ফের আগের অবস্থানে নেওয়া হয়। তবে এই সুযোগ এক বছরের জন্য বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা তার বক্তেব্যে বলেন, অর্থনৈতিক এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান নয়। এটি সবাই স্বীকার করেন।

কিন্তু যদি আজকে স্বাভাবিক সময় হতো, তাহলে যেসব প্রস্তাব সংশোধনের প্রস্তাব আমাদের কাছে আসছে আমরা অনেক সংশোধনী গ্রহণ করতে পারতাম।

যেহেতু আমি আগেই বলেছি সময়টি এখন স্বাভাবিক নয়, সে বিবেচনায় আমি বাকি সংশোধনীগুলো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও গ্রহণ করতে পারছি না। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি বিশেষভাবে আরও একবার বহুবার ধন্যবাদ জানাতে চাই, কেননা, পদ্মা সেতুর হাত ধরে তিনি আমাদের বিশ্ব মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৯ সময়ে, জিডিপিতে ১৮৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম, যেখানে ১৭৭% প্রবৃদ্ধি নিয়ে চায়না দ্বিতীয়।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের হিসাবে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার হবে এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

অর্থবিল-২০২২ পাশ

পাচারের সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাচারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন শুধু নির্ধারিত হারে কর দিয়ে নগদ টাকা দেশে আনা যাবে।

এ ছাড়া করপোরেট কর হ্রাসের সুবিধা পেতে শর্ত শিথিলসহ কিছু সংশোধনী এনে অর্থবিল-২০২২ পাশ করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এরপর তিনি সেটি উপস্থাপন করলে কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এ অর্থবিল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

সংশোধনীতে নতুন করে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তা হলো-দেশের বাইরে কারও সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে সেই সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।

সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে ওই সম্পদের মূল্যের সমপরিমাণ জরিমানা অথবা বাজেয়াপ্ত করা হবে। বিকাল ৫টায় শুরু হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাত ৯টা পর্যন্ত অধিবেশন চলে। শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থবিলের ওপর প্রশ্ন-উত্তর উপস্থাপন করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বিলটি পাশের প্রস্তাব করেন।

সংসদে বিল পাশ হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ-সদস্যদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থবিল ২০২২ জাতীয় সংসদে পাশ হয়। 

বিদেশ থেকে পাচারের সম্পদ ফেরত আনতে গত ৯ জুন ঘোষিত বাজেটে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, স্থাবর সম্পদ দেশে আনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ফেরত আনা যাবে।

আর কেউ যদি নগদ টাকা দেশে আনতে চায় তাকে কর দিতে হবে ৭ শতাংশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মূলত এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট প্রস্তাবে এই সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধনীতে শুধু নগদ টাকা আনার সুযোগ রেখে বাকি দুটি অর্থাৎ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হ্রাস করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা নগদে খরচ করতে হবে।

এর বেশি অর্থ নগদে খরচ করলে কর হ্রাসের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠায় শেষ পর্যন্ত অর্থবিলে নগদ অর্থ খরচের অঙ্ক বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন জমার নিয়ম সহজ করা হয়েছে। যেসব কোম্পানির ব্যবসার বয়স এক কিংবা দুই বছর সেসব কোম্পানি শুধু টিআইএন সনদ দিলেই রিটার্ন গ্রহণ করা হবে।

সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গিক দলিলপত্র জমা না দিলেও চলবে। তবে তৃতীয় বছর থেকে সব ডকুমেন্টসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। শ্রমিকদের কল্যাণে সব প্রতিষ্ঠানে একটি তহবিল থাকার কথা।

নিয়ম অনুযায়ী, মালিক পক্ষ ওই তহবিলে যে পরিমাণ টাকা দেয় তা কোম্পানির খরচ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে করে কোম্পানির ওপর করের চাপ কমে।

প্রস্তাবিত বাজেটে খরচের বিধান বাতিল করলেও সংশোধন করে তা ফের আগের অবস্থানে নেওয়া হয়। তবে এই সুযোগ এক বছরের জন্য বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা তার বক্তেব্যে বলেন, অর্থনৈতিক এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান নয়। এটি সবাই স্বীকার করেন।

কিন্তু যদি আজকে স্বাভাবিক সময় হতো, তাহলে যেসব প্রস্তাব সংশোধনের প্রস্তাব আমাদের কাছে আসছে আমরা অনেক সংশোধনী গ্রহণ করতে পারতাম।

যেহেতু আমি আগেই বলেছি সময়টি এখন স্বাভাবিক নয়, সে বিবেচনায় আমি বাকি সংশোধনীগুলো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও গ্রহণ করতে পারছি না। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি বিশেষভাবে আরও একবার বহুবার ধন্যবাদ জানাতে চাই, কেননা, পদ্মা সেতুর হাত ধরে তিনি আমাদের বিশ্ব মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৯ সময়ে, জিডিপিতে ১৮৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম, যেখানে ১৭৭% প্রবৃদ্ধি নিয়ে চায়না দ্বিতীয়।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের হিসাবে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার হবে এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন