নৈতিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার লক্ষণ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
jugantor
নৈতিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার লক্ষণ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আলাদা স্থানে ও সময়ে শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং সংলগ্নতা আছে। আমরা যে সাংস্কৃতিক ও নৈতিকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছি-এসব ঘটনা তারই লক্ষণ।

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রতি আগে মানুষের আগ্রহ ছিল। সেই সূত্রে শিক্ষকদের সম্মান করা হতো। এখন তা কমে গেছে। কেননা এখন টাকা আর রাজনৈতিক জোরেই অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে। যে কারণে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। এর সমান্তরালে শিক্ষকদের প্রতিও আগ্রহ কমেছে। শিক্ষকদের প্রতি এ ধরনের আচরণ আগে ছিল অকল্পনীয়।

এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের এই যে ঘটনা, তা সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধচর্চার সংকট থেকে উদ্ভূত। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদির চর্চার ঘাটতি দীর্ঘ। মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা আছে। দুর্বৃত্তদের আধিক্য সমাজে। শিক্ষক নির্যাতনের এই সামাজিক সমস্যা এসেছে সেখান থেকেই। যে উন্নয়নের কথা আমরা শুনছি, তা হচ্ছে মুনাফার, জ্ঞানের উৎকর্ষ নয়।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন কিছু নয়। সবার আগে আমাদেরকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উৎসাহিত করতে হবে। স্বাধীনতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মুক্তি এসেছে। কিন্তু আমাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন সামাজিক মুক্তি। রাষ্ট্রীয় মুক্তি আর সামাজিক মুক্তি এক নয়। অনেক কিছুই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর মতো হয়ে গেছে। যা মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়, সেটার পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। এজন্য প্রয়োজনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এমন সমাজ কাম্য নয়, যেখানে বলবানেরা শক্তিশালীর ওপর নির্যাতন করবে। যারা শিক্ষক নির্যাতন করছে, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় নিজেদের শক্তিশালী মনে করছে। তারা তাদের ক্ষমতা শিক্ষকের ওপর প্রয়োগ করছে, যেভাবে সবল দুর্বলের ওপর লাঞ্ছনা করে। সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে সমাজে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।

নৈতিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার লক্ষণ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আলাদা স্থানে ও সময়ে শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং সংলগ্নতা আছে। আমরা যে সাংস্কৃতিক ও নৈতিকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছি-এসব ঘটনা তারই লক্ষণ।

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রতি আগে মানুষের আগ্রহ ছিল। সেই সূত্রে শিক্ষকদের সম্মান করা হতো। এখন তা কমে গেছে। কেননা এখন টাকা আর রাজনৈতিক জোরেই অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে। যে কারণে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। এর সমান্তরালে শিক্ষকদের প্রতিও আগ্রহ কমেছে। শিক্ষকদের প্রতি এ ধরনের আচরণ আগে ছিল অকল্পনীয়।

এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের এই যে ঘটনা, তা সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধচর্চার সংকট থেকে উদ্ভূত। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদির চর্চার ঘাটতি দীর্ঘ। মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা আছে। দুর্বৃত্তদের আধিক্য সমাজে। শিক্ষক নির্যাতনের এই সামাজিক সমস্যা এসেছে সেখান থেকেই। যে উন্নয়নের কথা আমরা শুনছি, তা হচ্ছে মুনাফার, জ্ঞানের উৎকর্ষ নয়।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন কিছু নয়। সবার আগে আমাদেরকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উৎসাহিত করতে হবে। স্বাধীনতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মুক্তি এসেছে। কিন্তু আমাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন সামাজিক মুক্তি। রাষ্ট্রীয় মুক্তি আর সামাজিক মুক্তি এক নয়। অনেক কিছুই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর মতো হয়ে গেছে। যা মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়, সেটার পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। এজন্য প্রয়োজনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এমন সমাজ কাম্য নয়, যেখানে বলবানেরা শক্তিশালীর ওপর নির্যাতন করবে। যারা শিক্ষক নির্যাতন করছে, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় নিজেদের শক্তিশালী মনে করছে। তারা তাদের ক্ষমতা শিক্ষকের ওপর প্রয়োগ করছে, যেভাবে সবল দুর্বলের ওপর লাঞ্ছনা করে। সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে সমাজে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন