মাদক ব্যবসায়ীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক

দুদকের হাতে ৩০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা * অনুসন্ধান শুরু ১০০ জনের বিরুদ্ধে * তালিকায় এমপি বদি ছাড়াও তার ভাইদের নাম রয়েছে

  মিজান মালিক ০৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক
দুদক

তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। তৈরি হচ্ছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একটি ‘তারকা চিহ্নিত’ তালিকা।

এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে অন্তত ৩০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা পেয়েছে দুদক। এদের মধ্যে একশ’ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এই তালিকায় কক্সবাজার টেকনাফের সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও আছে।

এদিকে মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ধরতে নতুন পরিকল্পনা করছে দুদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা বা সদস্য মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন, গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় তাদের একটি তালিকাও গোপনে তৈরি করছে দুদক।

গণমাধ্যমে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার নাম পদবি ও কর্মস্থলের ঠিকানা প্রকাশ পেয়েছে- দুদক তা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্য দিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং এ ব্যবসায় ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হল। এ তালিকায় অন্তত এক ডজন ওসির নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (কমিশনার-তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের অনুসন্ধান ছাড়াও তাদের অবৈধ সম্পদ জব্দ করা হবে। তাদের বিদেশ গমনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।’

এমপি বদি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবৈধ সম্পদের মামলায় এরই মধ্যে এমপি বদির তিন বছরের সাজা হয়েছে। মাদকের ব্যবসায়ীদের তালিকা অনুযায়ী আমরা এখন দেখব তার ব্যাপারে কি করা যায়। অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’ তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থের উৎস খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘তারা (মাদক ব্যবসায়ী) অবৈধ অর্থ ভোগ করতে পারবে না। আমরা সেই রাস্তা বন্ধ করে দেব।’

সূত্র জানায়, দুদকের চার পরিচালকের তত্ত্বাবধানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ঢাকার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকার বিভাগীয় কার্যালয় থেকে একযোগে অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় এবং জেলা কার্যালয়গুলো থেকেও অনুসন্ধান করছে দুদক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের করা মাদক ব্যবসায়ীদের ২৮১ জনের একটি তালিকা ২০১৭ সালের শুরুর দিকে দুদকে পাঠানো হয়। পরে ওই তালিকার ১৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এতে দেখা যায়, বেশকিছু নিরীহ লোকের নামও তালিকায় আছে।

পরে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা পেয়ে ওই তালিকাটি সংশোধন ও পরিমার্জন করে ১৪১ জনের একটি তালিকা চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে দুদকে পাঠায়। এছাড়া পরে আরও ৭০ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয় দুদকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে দুই দফায় ২১১ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা পায় দুদক। এর বাইরে আরও ৯০ জনের নাম আসে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে। এছাড়া আর কোনো তালিকা থাকলে তা দুদককে সরবরাহ করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাটি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে দুদক। দুদক নিজস্ব গোয়েন্দাদের দিয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে।

মাদকের তালিকায় এমপি বদি : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে পাওয়া তালিকায় কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদিকে মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি বলা হয়। উল্লেখ করা হয়, ‘সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি দেশের ইয়াবা জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী। তার ইশারার বাইরে কিছুই হয় না। দেশের ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধের জন্য তার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।’

দুদকের তালিকায় বদি ছাড়ও তার পাঁচ ভাইয়ের নামও উঠে আসে। তারা হলেন- মৌলভী মুজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, মো. সফিক, আবদুল আমিন ও মো. ফয়সাল। সরকারের অন্য সংস্থার তালিকায়ও এমপি আবদুর রহমান বদি ছাড়া তার ৫ ভাইয়ের নাম রয়েছে। তবে আপন ভাই ছাড়াও তালিকায় বদির পিএস মং মং সেন ও ভাগ্নে সাহেদুর রহমান নিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠভাজনের নাম রয়েছে। মং মং সেন ঢাকায় একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেফতারও হন। এছাড়া বদির ফুপাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলের নামও আছে তালিকায়।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter