নাজাতের এই দিনে চেয়ে নিই মুক্তি

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২০ রমজান। পলকেই যেন চলে গেল বিশটি রাত। এ দিন ও রাতগুলোতে কতটুকু সফল হয়েছি একটু হিসাব নেয়া দরকার। প্রথম দশকে রহমতপ্রাপ্ত হয়েছি তো? সেই সূত্রে মাঝের দশকের মাগফিরাত নিশ্চিত হয়েছে তো? শেষ দশকে নাজাতে মিলবে তো?

ভেবে দেখা যাক রমজানের শিক্ষা কতটা অর্জন করেছি। ইবাদতের স্বাদ গ্রহণে কতটুকু সফলতা অর্জিত হয়েছে। মাওলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য কতটা আকর্ষণ বেড়েছে। করণীয় কাজগুলোর কতটুকু অর্জিত হয়েছে। অহমিকা, লোভ, লালসা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি কি? হিংসা গিবত থেকে বেঁচে থাকতে পারছি তো?

কতটুকু সংযমী হতে পেরেছি। বর্জনীয় কাজগুলোর কতগুলো বর্জন করতে পেরেছি। মিথ্যার কুফল সম্পর্কে নিশ্চয় জেনেছি যে, মিথ্যা ও সিয়াম একসঙ্গে চলতে পারে না। মিথ্যা আশ্রয়ীদের সাওমের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন হল, সেই মিথ্যা থেকে কি আমরা বিরত থাকার প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছি। কলুষিত নাফসকে কতটুকু কলুষমুক্ত করতে পেরেছি। নাজাতের মাসে যদি মুক্তি না পাই তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছুই হতে পারে না।

সায়্যিদুল মালাইকা জিবরিল আমিন দোয়া করছেন, ‘যে রমজান মাস পেয়েও এমনভাবে মৃত্যুবরণ করল যে তাকে ক্ষমা করা হয়নি আল্লাহ তাকে (তাঁর রহমত) থেকে দূরে সরিয়ে দিন’ আমি (নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললাম ‘আমিন’।

(মু’জামুল আওসাত : তাবারানী)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই যে রমজান এসেছে। এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। আগুনের (জাহান্নাম) দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে বেড়ি পরিয়ে দেয়া হয়। দূর হোক সে ব্যক্তি যে রমজান তো পেল কিন্তু নিজের জন্য ক্ষমা নিশ্চিত করতে পারল না। এ মাসে যদি তাকে ক্ষমা করা না হয় তাহলে আর কবে?’ (মু’জামুল আওসাত : তাবারানী)।

ইন্না লিল্লাহ! সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার কী হবে? বাকি আছে আর কয়টি দিন। পরীক্ষার হলে তিন ঘণ্টার দু’ঘণ্টা শেষ। লেখা এখনও অনেক বাকি। আমাকে লিখতেই হবে। হতাশ হলে চলবে না। সাহস হারালে চলবে না। আমাকে পারতেই হবে।

রাহমান রাহিমের দরবার থেকে আমাকে অবশ্যই নাজাত ও মুক্তি নিশ্চিত করতেই হবে। তিনিই তো আমাদের নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। বলেছেন, ‘বলুন, নিজেদের ওপর জুলুমকারী হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। নিশ্চিত তিনি সকল পাপ মোচন করে দেবেন। তিনিই একমাত্র মহান ক্ষমাশীল, মহাদয়াবান।’ (সুরা যুমার : ৫৪)। তাঁকে কীভাবে ডাকব? কীভাবে জানাব ফরিয়াদ?

তিনি কাছে না দূরে? উত্তর তিনিই (আল্লাহ) দিচ্ছেন, যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে প্রশ্ন করে (আমি কাছে না দূরে) তখন আপনি বলে দিন, আমি তো রয়েছি অতি কাছে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায় আমি সাড়া দিই যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে।’ (সুরা বাকারাহ : ১৮৬)।

আহ কী প্রশান্তির বাণী। সত্যিই তো আমাদের রাব্বি কারিম কতই না মহান। তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা যে তার ডাকে সাড়া দিতে পারি না। না, পারি না এ কথাটি আর নয়।

অল্প কটিই তো দিন রয়েছে বাকি। যে যেভাবে তাঁর সম্পর্কে ধারণা করবে তিনি তাঁর ডাকে সেভাবেই সাড়া দেবেন। তাই আসুন বাকি দিনগুলো এতেকাফে বসে তাঁর সান্নিধ্যে কাটাই। লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে মসজিদে আশ্রয় নিই। এতেকাফে বসে। দুই নয়নের অশ্রু ঝরাই তাঁর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হই। নিশ্চয় তিনি আমাদের বিমুখ করবেন না। অবশ্যই আমাদের ফরিয়াদ তিনি কবুল করবেন।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া