ব্যাংকের কর্পোরেট কর কমছে

ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকছে * ভ্যাটের ৫ স্তর ও অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট (এটিভি) ৫ শতাংশ হচ্ছে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ০৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শুধু ব্যাংকিং খাতের কর্পোরেট কর কমানো হচ্ছে। এতে তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা ব্যাংকগুলোর কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। মূলত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ও সুদ হার কমাতে সরকার এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।

পাশাপাশি ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না, আড়াই লাখ টাকা বলবৎ রাখা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) খাতে স্তর কমিয়ে ৯টির পরিবর্তে ৫টি করা হচ্ছে। নতুন খাত হিসেবে মোবাইল উৎপাদনকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া হেলিকপ্টার সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ, মদ-বিয়ারের সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি, জর্দা-গুলের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে, এতে ৬ হাজার ৪৯৩ পণ্য আমদানির খরচ বাড়বে। শুল্ক খাতে নতুন নতুন খাতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী এসব বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে সব খাতে কর্পোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও রাজস্ব আয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীকালে শুধু ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর ঐকমত্যে পৌঁছায়।

কারণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সুফল আসেনি। নগদ জমার হার (সিআরআর) হ্রাস, বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি তহবিল জমার সীমা বৃদ্ধি, রেপোর সুদ হার হ্রাস করা হলেও টাকার সংকটে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না। উল্টো পুরনো ঋণের সুদ হার বাড়িয়ে উদ্যোক্তাদের চিঠি দিচ্ছে।

এ কারণে ব্যাংকের কর্পোরেট কর কমানো সমাধান হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তাই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কর্পোরেট কর ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর কথা থাকলেও সেটি শেষ পর্যন্ত করা হয়নি। কারণ করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলে বিশাল অঙ্কের জনগণ করের আওতার বাইরে চলে যাবে।

ভ্যাটের ৫ স্তর : বর্তমানে ২২টি সেবার ওপর ৯ স্তরে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে দেড় থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। এটিকে ৫টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। ১.৫, ২.৫, ৩, ৪, ৪.৫, ৫, ৬, ৭.৫, ১০- এ ৯টি স্তরের পরিবর্তে ২, ৪.৫, ৫, ৭, ১০ শতাংশের নতুন স্তর করা হচ্ছে। এতে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের সুবিধা ভোগ বেশ কয়েকটি সেবার ব্যয় বাড়বে।

এ তালিকায় আছে আসবাবপত্র, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা, পরিবহন ঠিকাদার, পণ্যের নিলাম এবং নতুন করে ই-কমার্স ব্যবসার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে অনলাইন থেকে কেনাকাটায় পণ্যের দাম বাড়বে।

এছাড়া ব্যবসা পর্যায়ে ভ্যাট ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুপারশপ খাত। বর্তমানে সুপারশপের কেনাকাটায় ৪ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে সেটি বেড়ে ৫ শতাংশ হবে। পাশাপাশি যারা ব্যবসা পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট দেন, তাদের বেশি কর দিতে হবে।

অন্যদিকে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ট্রেড ভ্যাটও (এটিভি) ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পপরিসরে পণ্য উৎপাদনে জড়িত থাকা ব্যবসায়ীদের ওপর, যারা বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে থাকেন। বর্তমানে ৬ হাজার ৪৯৩ আইটেমের পণ্য আমদানিতে এটিভি আরোপিত আছে।

দাম বাড়বে-কমবে যেসব পণ্যের : গ্রিন টি, টমেটো কেচাস, টমেটো সস, শেভিং ব্লেড, শেভিং জেল, চশমার ফ্রেম, সানগ্লাস, লুবব্লেন্ডিং ওয়েল, স্ক্র্যাপ, সিগারেট পেপার, সানস্ক্রিন, সিরামিক বাথটব, জিকুজি, শাওয়ার, শাওয়ার ট্রে, নারিকেল, কাজু বাদাম, ক্যালেন্ডার, ছাপানো ছবি (পোস্টার), জার্সি, শীতের কার্টিগান, কাশ্মীরি শাল, যানবাহনের লিফ স্প্রিং, চুলের ক্রিম, শরীরের পশম ওশানের সামগ্রী, সিআর কয়েল, জিপি শিট, সিআই শিট, বিভিন্ন ধরনের পেপারের দাম বাড়বে।

এছাড়া হাতে তৈরি রুটি-বিস্কুট, কেক, প্লাস্টিকের চপ্পল, কৃষি জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ কমবে।

এর পাশাপাশি আবাসন খাতের জন্য বাজেটে নতুন আকর্ষণ থাকছে। ছোট ফ্ল্যাট কেনায় ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। ১১শ’ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে আগে দেড় শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো, সেখানে আসন্ন বাজেটে ২ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া পুরনো ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে নতুন করে ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

আমদানি শুল্ক : শুল্ক খাতে খুব পরিবর্তন আসছে না। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা হবে। নতুন নতুন পণ্য যেমন কফি, চকোলেট, নারিকেল, কাজুবাদাম, গ্রিন টি, ক্যালেন্ডার, ছবি, জার্সি, শীতের পোশাকের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ন্যূনতম মূল্য সংশোধন করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter