আয়ের ভিত্তি দুর্বল, বাস্তবায়ন অসম্ভব

  ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ০৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিশ্রুতিগুলো রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব অনেক। দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর ঘোষিত হয়েছে বাজেট। ফলে এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

সংশোধিত বাজেটে অনেক কিছু কমাতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে প্রধান সমস্যা হল- বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে যে ধরনের সংস্কার ও উৎসাহমূলক পদক্ষেপ দরকার, এবারের বাজেটেও তা নেই।

ফলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমি মনে করি না। এছাড়া দারিদ্র্যবিমোচন, আয়বৈষম্য কমানো হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। শুনেছি ব্যাংকের আমানতের ওপর কর আরোপ হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলবে।

বাজেটের খারাপ দিক হল- প্রতিবছরই মানুষকে দেখাতে হবে অনেক বড় বাজেট দেয়া হল। উন্নয়ন বাজেট বিশাল আকার থাকে। কিন্তু বছর শেষে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় কমানো হয়। এটি যৌক্তিক নয়।

বাজেটে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এটিকে কঠিন বললে উদার বিশ্লেষণ হবে।

এটি একেবারে অসম্ভব। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। চলতি বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে, অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সূচকের মধ্যে বেশিরভাগ সূচক নিুমুখী। বিশেষ করে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি কমছে। কিন্তু এরপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই হারে প্রবৃদ্ধির জন্য জিডিপির ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু এ পরিমাণ বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এ বছর ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। এটা প্রশ্নবিদ্ধ। এর প্রথম যুক্তি- জিডিপি বাড়লে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির কথা; কিন্তু রাজস্ব বাড়েনি। দ্বিতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। জিডিপির আনুপাতিক হারে বিনিয়োগ বাড়েনি।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাজেটে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা দরকার, এ মুহূর্তে তা সরকারের নেই।

সামগ্রিক অর্থনীতির আলোকে বাজেটের চ্যালেঞ্জ হল বিনিয়োগ বাড়ানো। দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু এই অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগ বাড়ানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সবার আগে অবকাঠামো দুর্বলতা দূর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে। এটি বলার কারণ হল, আপাতত রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। তবে যে কোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, মানুষের মধ্যে এমন শঙ্কা রয়েছে।

এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খারাপ অবস্থা। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আস্থার সংকটে রয়েছে। ফলে নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না।

লেখক : সাবেক অর্থ উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter