সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়

  ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ০৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক লেনদেন, ব্যাংকিং অন্যতম। স্বাভাবিক নিয়মে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেটীয় কিছু পদক্ষেপ থাকা উচিত।

কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই, এমনকি সচেতনতাও নেই। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে সমস্যা চলছে। এটি নিরসনে দিকনির্দেশনা তো দূরের কথা সমস্যার স্বীকৃতি নেই। উল্টো করের টাকায় ব্যাংকের ভর্তুকি দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর্যন্ত এর বিরোধিতা করছি আমরা। অন্যদিকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দেশের আয় বাড়ানোর অন্যতম একটি উৎস ছিল। বাজেট ঘোষণার পর গত বছর ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী বছর তা বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে কিভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

অর্থনীতিতে অন্যতম একটি সমস্যা হল বৈষম্য। আয়, ভোগ ও সম্পদের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। এটি কমাতে বাজেটে দিকনির্দেশনা আশা করেছিলাম। কিন্তু সে রকম কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। আগামী অর্থবছরে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের আয় বাড়ানো। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নজরে আসেনি।

এছাড়াও বাজেটের অন্যতম একটি দিক হল- আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা থাকতে হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে যে সব খাতে রেয়াত দেয়া কিংবা বাড়ানো হয়েছে, এতে কার উপরে কত চাপ পড়বে, কোন খাত থেকে বাড়তি টাকা আসবে, সে ব্যাপারেও কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই।

কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে মালিকপক্ষেরই বেশি লাভ হবে। কেন এ কর কমানো হয়েছে তার পেছনে যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কোনো কারণ দেখছি না।

ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্যের মধ্যেও কর্পোরেট কর ছাড় দেয়া একেবারে অযৌক্তিক। ফলে চলতি অর্থবছরে যেসব চ্যালেঞ্জ ছিল, আগামী অর্থবছরেও তাই রয়েছে। এক কথায় এ বাজেটকে স্থিতাবস্থার বাজেট বলে অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ পুরনো কাঠামো ও পুরনো চিন্তার মধ্যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর বাজেট বাস্তবায়নের অবস্থা ভালো নয়। এ অবস্থায় বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো পরিকল্পনা দেখছি না। রোহিঙ্গাদের জন্য কি পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে সে রকম কোনো আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়নি। সঞ্চয়পত্রের ওপর চাপ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে চাঙ্গা করা উচিত ছিল। কিন্তু এ ঘোষিত বাজেট দেখে মনে হচ্ছে, সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকতে হবে। সিপিডির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চাল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানো হবে, এবার এটা বাজেটে বাড়ানো হয়েছে। এটা ইতিবাচক। পলিথিনের ওপর কর আরোপের ফলে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লেখক: বিশেষ ফেলো, সেন্টার পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.