আলোকিত হই কোরআনের আলোয়

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাফেজ মুফতি তানজিল আমির

রমজানকে বলা হয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকতের মাস। এ কল্যাণ তিন ধরনের। এক. পরিবেশগত। রমজানে ইবাদত ও ভালো কাজ করার একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সে আবহ মানুষের মাঝে ভালো এবং উত্তম হওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা সৃষ্টি করে। দুই. শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন। রোজা ও অন্য আমলগুলোর প্রভাবে মানুষের শারীরিক-মানসিক উৎকর্ষ সাধন হয়। এর মাধ্যমে একজন মানুষ তাকওয়ার পথে অগ্রসর হতে পারে। এবং তিন. ফুরকান।

রমজান শেষ হলে পরিবেশগত কল্যাণটি শেষ হয়ে যায়। সচেষ্ট না থাকলে শারীরিক-মানসিক উৎকর্ষও অনেকটা হারিয়ে যায়। কিন্তু ফুরকান তখনও বাকি থাকে। কিন্তু এ ফুরকানকে ধারণ করার মানসিকতা ও বোধের অভাব রয়েছে আমাদের। বিষয়টি হল- আল্লাহ আমাদের রমজান দিয়েছেন কোরআন ও ফুরকান লাভ করার জন্য। রমজানের সব আলোচনার মূলে হল কোরআন; কোরআন অবতীর্ণের পবিত্র প্রেক্ষাপট হল মাহে রমজান। রমজান ও কোরআন যেন মানিকজোড়। কোরআনের রমজানবিষয়ক আলোচ্য বিষয় হল ফুরকান ও হুদা। আল্লাহ বলেন, তাবারাকাল্লাজি নাজজালাল ফুরকানা আলা আবদিহি লিয়াকুনা লিল আলামিনা নাজিরা অর্থাৎ ‘বড় বরকতময় সেই সত্তা, যিনি তার বান্দার প্রতি ফুরকান (ফায়সালাকারী কিতাব) নাজিল করেছেন, যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হয়।’ (সূরা ফুরকান, আয়াত-১)

ফুরকান কোরআনের উপনাম, কোরআনের সারনির্যাস। বিষয়টি সরলীকরণ করলে দাঁড়ায়- একজন ব্যক্তির গোলাপ ফুল পছন্দ। সে গোলাপের বাগান করল। নিত্য বাগান পরিচর্যা করল। ঘরেও তার গোলাপ চাই, তাই সে ফুলের টব রাখল। মাথার কাছে অথবা অফিসে চাই, তখন সে ফুলদানিতে গোলাপ রাখল। চলতি পথে সে যেখানে যায় সেখানেও তার গোলাপ চাই, এখন আর অবলম্বন বাগান নয়, গোলাপের আতর। সুপ্রিয় পাঠক- মাকতাবের কোরআন, মাদ্রাসায় পড়া কোরআন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর অধ্যয়নের কোরআন আমাদের ভেতরে যে কোরআনীয় বিবেকবোধ, মূল্যবোধ সৃষ্টি করে; তিলাওয়াত, তরজমা, তাফসির অধ্যয়নের পর যে স্বকীয় কোরআনীয় বোধের নির্যাস তৈরি করে তাকেই বলা হয় ফুরকান।

এতেকাফি, মসজিদের অঙ্গনে অথবা মহিলাদের নিভৃত গৃহকোণে রমজানবিষয়ক যে তিলাওয়াত চলে, রমজানের বাইরে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে এর মাত্রা, ব্যস্ততা কেড়ে নেবে তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের সুযোগ। তখন? তখনই তিলাওয়াত অথবা অধ্যয়নের নির্যাস হিসেবে কোরআন কাজ করবে জীবনের ভারসাম্য হয়ে, বিবেকের বিবেচনায় ব্যবসায়ীর ব্যবসায়, রাজনীতিকের রাজনীতিতে, অধ্যাপকের অধ্যয়নে, ভাবুকের ভাবনায়। খতিবের খুতবায় ফুরকানীয়বোধ কাজ করবে। রমজানের একান্ত কোরআনের তিলাওয়াত রমজানের বাইরে-ভেতরে আলো হয়ে থাকবে। জীবনের সমুদয় যাপনে জেগে উঠবে কোরআনিক মূল্যবোধ। এটাই রমজানবিষয়ক কোরআনিক নিয়ম-নির্দেশনা। অর্থাৎ ফুরকান হল বিবেকীয় কোরআন; যা মুমিনকে পার্থক্য করতে শেখায় ভালোমন্দ, আঁধার-আলো, ইহকাল-পরকাল, হালাল-হারাম বিষয়।

পার্থক্য করতে পারলেই বেছে নিতে সহজ, বাঁচা যাবে বিড়ম্বনা-বিভ্রান্ত হওয়া থেকে।

প্রিয় পাঠক- তাই আসুন, রমজানের অফুরন্ত কল্যাণ কুড়িয়ে নেই। কোরআনের ভালোবাসা ও বোধোদয় ফুটিয়ে তুলি জীবনে। রমজানের রহমত ও বরকতে পাপ জীবনকে থামিয়ে পুণ্যের পথে এগিয়ে যাই। আল্লাহতায়ালা সব সিয়াম সাধককে ফুরকান দান করুন। আমিন।

লেখক : নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

ই-মেইল : [email protected]