বাজেট প্রতিক্রিয়া

উদ্যোক্তারা দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও ঋণ পাবেন না : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উদ্যোক্তারা দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও ঋণ পাবেন না : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

প্রস্তাবিত বাজেটে নতুনত্ব নেই। বিশেষ কিছু নেই। সবই গতানুগতিক। নির্বাচনের বছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট- এখানে শুধু কিছু লোকের তুষ্টি সাধন হবে। এ ছাড়া কয়েকটি দেশি শিল্পের কথা বলা হলেও সার্বিকভাবে বিনিয়োগ বাড়বে না।

কারণ বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী এবং এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। অথচ ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা নিয়ে সরকার নির্বিকার। কেউ কেউ বলছেন ব্যাংকিং খাতে বিপ্লব ঘটেছে। হ্যাঁ, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি এবং অদক্ষতার বিপ্লব ঘটেছে।

এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি নিয়ে এ বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে সুদের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হবে সরকারের। বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে স্বল্পসুদের ঋণের জন্য অধিক তৎপরতা থাকা উচিত হবে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকারের উচ্চসুদে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কাটছে না। বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে এর পেছনে বড় অঙ্কের সুদ ব্যয় না করে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উচ্চ মুনাফা দেয়া ভালো। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোটাকে আমি সমর্থন করি না। এখানে গরিব লোকজন বিনিয়োগ করেন। তাদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।

তাছাড়া ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়লে ব্যাংক কর্মকর্তারা অলস হয়ে যাবেন। তারা আর কাজ করতে চাইবেন না। যদিও ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসরকারি উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য ব্যাংকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও ঋণ পাবেন না। এতে দেশের শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণে বাজেট পাস হওয়ার আগেই বাহুল্য ব্যয় কাটছাঁট করা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সমতাভিত্তিক কর্মসংস্থানবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

বাজেট বাস্তবায়ন নিঃসন্দেহে কঠিন হবে। কেননা বিশাল এ বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা সরকারের সংস্থাগুলো অর্জন করতে পারেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাদের কী এমন দক্ষতা বাড়ল যে তারা বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণ করতে পারবেন?

প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এ ব্যয়ের গুণগত দিক নিয়ে কিছু বলা নেই। শিক্ষা খাতে যে বাজেট দেয়া হয়েছে সেটা খুব বেশি নয়। শিক্ষকদের বেতন-ভাতায়ই এ অর্থ ব্যয় হবে। কিন্তু শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো বরাদ্দ নেই।

লেখাপড়ার উপকরণ, শ্রেণীকক্ষের উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ নেই। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। স্বাস্থ্য খাতেও একই রকম। রোগীদের সেবার মান বাড়ানোর কোনো কথা নেই। চিকিৎসা যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নে কোনো বরাদ্দ নেই। ডাক্তারদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও কোনো বরাদ্দ নেই।

প্রতিবছর সরকার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ধরছে। এবার তা ধরা হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে। বিগত বছরগুলোয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সুফল দেশের সব মানুষ পাচ্ছে না। এখানে বৈষম্য রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগে ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে। এটা ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ এখনও স্থিতিশীল হয়নি।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়েই চলেছে। তাছাড়া সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ব্যবসা বা উৎপাদনশীল খাতের প্রবৃদ্ধি বেশি দরকার। এখানে কর্মসংস্থান হয় বেশি।

মনে রাখতে হবে, কর্মসংস্থান বাড়লে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। সুতরাং বাজেট প্রণয়নের সময় দেখতে হবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যেন কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে হয়। প্রবৃদ্ধি কোন খাত থেকে আসবে সেটাই মুখ্য।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কর কমানোর ফলে পুঁজিবাজারের কিছুটা উন্নয়ন হতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আসবে।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×