বাজেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সৎসাহস আছে সরকারের: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বড় বাজেট, বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সৎসাহস শেখ হাসিনা সরকারের আছে। এ কারণে বড় বাজেট পেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি আরও বলেন, বুঝে না-বুঝে বিএনপি সব সময় বিরোধী কথা বলে, সমালোচনা করে। এই বাজেট আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচনী বাজেট নয়। এটা জনবান্ধব বাজেট।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুরাতন মেঘনা ঘাটে শুক্রবার দুপুরে ফেরি সার্ভিস কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজার যানজট নিরসনের বিকল্প হিসেবে ১২ জুন থেকে যানবাহন পারাপারে ফেরি সার্ভিস চলবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্ক কাভারেজের আওতায় কয়েক লাখ দরিদ্র মানুষকে আনা হয়েছে। সরকার বাজেটে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা মাথায় রেখেছে তা হচ্ছে দরিদ্র মানুষের স্বার্থ। সেখানে কিছু কিছু সমালোচনা আছে।

তিনি বলেন, বুঝে না-বুঝে বিএনপি সব সময় বিরোধী কথা বলে, সমালোচনা করে। তাদের মতো করে বললে বেপরোয়া। সবকিছুতেই তারা নেগেটিভ খোঁজে। আর বাজেটটা বড় হয়েছে বলেই বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়াটা একটু বেশি হবে, সেটা আমরা জানি।

আর এ বাজেট আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচনী বাজেট নয়। এটা একটা জনবান্ধব বাজেট। আলোচনা-সমালোচনার পর বাজেটে কোনটি থাকবে, কোনটা থাকবে না, সেটা দেখা যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মেঘনা টোল প্লাজায় যানজট নিরসনের বিকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আপদকালীন সময়ের জন্য পুরাতন মেঘনা ঘাটে ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে। ঈদের আগে ১২ জুন থেকে এই ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করবে। এ কারণে দ্রুতগতিতে রাস্তা ও নদীর ঘাট মেরামত করার কাজ চলছে। বরিশাল থেকে আনা হচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন। আঠারোটি গাড়ি এই ফেরিগুলো বহন করতে পারবে। দশটার মতো ট্রাক বহন করা যাবে।

তবে মেঘনা-গোমতী নদীতে (কুমিল্লার দাউদকান্দি) ফেরি সার্ভিস চালু ডিফিকাল্ট। নদীতে পলি জমে গেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা তাড়াতাড়ি ড্রেজিং করে দিলে ঈদুল আজহার সময় গোমতীতে ফেরি সার্ভিস চালু করা যাবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে চারলাইনের মূল সেতু চালু হয়ে যাবে বলে আশা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এরপর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে অবাধে চলাচল করা যাবে। অপেক্ষায় আছি। সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি।

রাস্তায় কোথাও যানজট হবে না দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় গাড়ি বিকল হলে বা রং সাইডে গাড়ি এলে যানজট হবে। এটা ঠেকানো খুব কঠিন। আমরা সিরিয়াসলি চেষ্টা করছি রং সাইডে গাড়ি চলাচল ঠেকাতে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম আট লেনের মহাসড়কে সোনারগাঁয়ের মেঘনায় সেতুর টোল আদায়ে ভাংতি টাকা লেনদেনে দেরি হওয়াই যানজটের অন্যতম কারণ। টোলের সমপরিমাণ টাকা প্রস্তুত রাখার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে।

সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।