নির্বাচন নিয়ে ভারত চীন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে
jugantor
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত
নির্বাচন নিয়ে ভারত চীন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে
আগের মতো নির্বাচন করা এবার কঠিন হবে -হুমায়ুন কবির * মনে হয় না নির্বাচনে বিদেশিরা কিছু করতে পারবে -ড. ইমতিয়াজ আহমেদ * প্রত্যেক দেশই চাইবে তাদের পক্ষের দল ক্ষমতায় থাকুক -তৌহিদ হোসেন

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক  

০৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে। দেশগুলো চাইবে তাদের পছন্দের দল ক্ষমতায় যাক। এতে ভবিষ্যতে তাদের কাজের সুবিধা হবে। তবে কোন দল কার পছন্দ বা কাকে কোন দেশ চায় সেটাই বিবেচ্য বিষয়। এটা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অংশীদাররাই মূলত দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণেই বাংলাদেশের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেশগুলো। দীর্ঘদিনে আমরা একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি। এতে বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণ থাকাই স্বাভাবিক। ফলে বিদেশিদের যে সফর হচ্ছে এটা খুবই স্বাভাবিক। এসব সফর শুধু বাংলাদেশের স্বার্থেই হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রয়োজনও কম নয়। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার কারণে এর সবই হচ্ছে বলে তারা জানান। এসব বিষয় নিয়ে সোমবার সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়।

এদিন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশকে নিজেদের পাশে পেতে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আছে। তিনি বলেন, তিনটি দেশই নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে চায়। চীনের নিজস্ব সমস্যার কারণে দেশটির জাতীয় কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিস্তায় চীনের এক বিলিয়ন ডলার প্রকল্প প্রস্তাবে ভারতের উদ্বেগের কারণে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ চীন থেকে দূরে থাকুক।

এম হুমায়ুন কবির সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ কিংবা ২০১৮ সালের মতো ভারত কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। বিশ্ব পরিস্থিতি এখন বেশ ঘোলাটে। এখানে আমেরিকা সুষ্ঠু নির্বাচন চাইবে। ভারত চাইবে আওয়ামী লীগ থাকুক। চীন চাইবে যেই আসুক সে যেন আমেরিকার পক্ষে না যায়। ফলে নির্বাচন ঘিরে আসলে কী অবস্থা হবে সেটা দেখতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আগের মতো নির্বাচন করা এবার কঠিন হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেপ্টেম্বরে ভারত সফর স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এখন ফিরতি সফরে যাওয়া স্বাভাবিক বিনিময়ের অংশ। তবে এই সফরের সুযোগে রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়ই শেখ হাসিনা ও মোদি কথা বলবেন।

সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় চীন বেশ চাপে আছে। যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন ধরে চীনকে প্রতিযোগী ভাবছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও চীনের ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ। তার ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করায় চীনারা চাপে পড়েছে। এছাড়া জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড গঠন করেছে। কেউ কেউ আবার বলছে, শ্রীলংকায় ঋণের ফাঁদের জন্য চীন দায়ী। এসব নিয়ে চীন এক ধরনের চাপে আছে।

তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন তার বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করছে। বন্ধুদের কাছে আবারও শুনতে চায় যে, তাইওয়ান চীনের অংশ। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সম্পর্কের কাঠামোতে যেন কোনো পরিবর্তন না ঘটে বেইজিং সেটাই প্রত্যাশা করে। এ কারণে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া সফর করেছেন। দেশটির বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা চলছে; সেগুলোর ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন। তিনি বলেন, তিস্তায় চীন এক বিলিয়ন ডলার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে শোনার পর পরই ভারতে উদ্বেগ দেখা দেয়। চীনের সঙ্গে ভারতের টেনশন আছেই। তার ওপর চীন তিস্তা প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়ার পর টেনশন বাড়ে। তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দ্রুত বাংলাদেশ সফরে আসেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন দেশে বিনিয়োগ করে যেখান থেকে তারা রিটার্ন পাবে। সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দ্বীপ যেখানে মাত্র ৬০ লাখ মানুষের বাস; সেখানে গোটা বিশ্বের আগ্রহ রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ ৫০ বছরে একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণ থাকা স্বাভাবিক। ফলে বিদেশিদের যে সফর হচ্ছে এটা খুবই স্বাভাবিক। বরং অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে আরও বেশি বিদেশিকে আমাদের আকৃষ্ট করার কথা। কোভিড আমরা সামলাতে পেরেছি। জ্বালানি সংকট সামলাতে পারলে আরও বিদেশি আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশের ভ্যাকসিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। একটা বিষয় কিছুতেই পরিবর্তন করতে পারছি না। আমার মনে হয় না নির্বাচনে বিদেশিরা কিছু করতে পারবে। বরং দেশের অভ্যন্তরের অংশীদার যেমন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী, জনগণ নিজেরা নির্বাচনে ফ্যাক্টর। বিদেশিরা সুবিধা করতে পারবে না। অংশীদাররা যদি পালটে যায় তবে বিদেশিরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বিদেশিদের সফর খুবই রুটিন কাজ। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মহাসচিব পদে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রুশ প্রার্থী। সিডোর বাংলাদেশের প্রার্থী ইসমত জাহানের পক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সবাই জানে বাংলাদেশ এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে। এই নীতিতে পরিবর্তন হবে না। তবুও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে দেশগুলোর আগ্রহ বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রত্যেক দেশই চাইবে তাদের দেশের পক্ষের দল ক্ষমতায় থাকুক। এখন কোন দেশ কোন দলকে সমর্থন করবে সেটাই প্রশ্ন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

নির্বাচন নিয়ে ভারত চীন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে

আগের মতো নির্বাচন করা এবার কঠিন হবে -হুমায়ুন কবির * মনে হয় না নির্বাচনে বিদেশিরা কিছু করতে পারবে -ড. ইমতিয়াজ আহমেদ * প্রত্যেক দেশই চাইবে তাদের পক্ষের দল ক্ষমতায় থাকুক -তৌহিদ হোসেন
 কূটনৈতিক প্রতিবেদক 
০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে। দেশগুলো চাইবে তাদের পছন্দের দল ক্ষমতায় যাক। এতে ভবিষ্যতে তাদের কাজের সুবিধা হবে। তবে কোন দল কার পছন্দ বা কাকে কোন দেশ চায় সেটাই বিবেচ্য বিষয়। এটা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অংশীদাররাই মূলত দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণেই বাংলাদেশের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেশগুলো। দীর্ঘদিনে আমরা একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি। এতে বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণ থাকাই স্বাভাবিক। ফলে বিদেশিদের যে সফর হচ্ছে এটা খুবই স্বাভাবিক। এসব সফর শুধু বাংলাদেশের স্বার্থেই হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রয়োজনও কম নয়। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার কারণে এর সবই হচ্ছে বলে তারা জানান। এসব বিষয় নিয়ে সোমবার সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়।

এদিন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশকে নিজেদের পাশে পেতে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আছে। তিনি বলেন, তিনটি দেশই নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে চায়। চীনের নিজস্ব সমস্যার কারণে দেশটির জাতীয় কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিস্তায় চীনের এক বিলিয়ন ডলার প্রকল্প প্রস্তাবে ভারতের উদ্বেগের কারণে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ চীন থেকে দূরে থাকুক।

এম হুমায়ুন কবির সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ কিংবা ২০১৮ সালের মতো ভারত কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। বিশ্ব পরিস্থিতি এখন বেশ ঘোলাটে। এখানে আমেরিকা সুষ্ঠু নির্বাচন চাইবে। ভারত চাইবে আওয়ামী লীগ থাকুক। চীন চাইবে যেই আসুক সে যেন আমেরিকার পক্ষে না যায়। ফলে নির্বাচন ঘিরে আসলে কী অবস্থা হবে সেটা দেখতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আগের মতো নির্বাচন করা এবার কঠিন হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেপ্টেম্বরে ভারত সফর স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এখন ফিরতি সফরে যাওয়া স্বাভাবিক বিনিময়ের অংশ। তবে এই সফরের সুযোগে রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়ই শেখ হাসিনা ও মোদি কথা বলবেন।

সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় চীন বেশ চাপে আছে। যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন ধরে চীনকে প্রতিযোগী ভাবছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও চীনের ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ। তার ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করায় চীনারা চাপে পড়েছে। এছাড়া জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড গঠন করেছে। কেউ কেউ আবার বলছে, শ্রীলংকায় ঋণের ফাঁদের জন্য চীন দায়ী। এসব নিয়ে চীন এক ধরনের চাপে আছে।

তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন তার বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করছে। বন্ধুদের কাছে আবারও শুনতে চায় যে, তাইওয়ান চীনের অংশ। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সম্পর্কের কাঠামোতে যেন কোনো পরিবর্তন না ঘটে বেইজিং সেটাই প্রত্যাশা করে। এ কারণে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া সফর করেছেন। দেশটির বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা চলছে; সেগুলোর ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন। তিনি বলেন, তিস্তায় চীন এক বিলিয়ন ডলার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে শোনার পর পরই ভারতে উদ্বেগ দেখা দেয়। চীনের সঙ্গে ভারতের টেনশন আছেই। তার ওপর চীন তিস্তা প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়ার পর টেনশন বাড়ে। তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দ্রুত বাংলাদেশ সফরে আসেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন দেশে বিনিয়োগ করে যেখান থেকে তারা রিটার্ন পাবে। সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দ্বীপ যেখানে মাত্র ৬০ লাখ মানুষের বাস; সেখানে গোটা বিশ্বের আগ্রহ রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ ৫০ বছরে একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণ থাকা স্বাভাবিক। ফলে বিদেশিদের যে সফর হচ্ছে এটা খুবই স্বাভাবিক। বরং অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে আরও বেশি বিদেশিকে আমাদের আকৃষ্ট করার কথা। কোভিড আমরা সামলাতে পেরেছি। জ্বালানি সংকট সামলাতে পারলে আরও বিদেশি আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশের ভ্যাকসিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। একটা বিষয় কিছুতেই পরিবর্তন করতে পারছি না। আমার মনে হয় না নির্বাচনে বিদেশিরা কিছু করতে পারবে। বরং দেশের অভ্যন্তরের অংশীদার যেমন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী, জনগণ নিজেরা নির্বাচনে ফ্যাক্টর। বিদেশিরা সুবিধা করতে পারবে না। অংশীদাররা যদি পালটে যায় তবে বিদেশিরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বিদেশিদের সফর খুবই রুটিন কাজ। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মহাসচিব পদে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রুশ প্রার্থী। সিডোর বাংলাদেশের প্রার্থী ইসমত জাহানের পক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সবাই জানে বাংলাদেশ এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে। এই নীতিতে পরিবর্তন হবে না। তবুও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে দেশগুলোর আগ্রহ বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রত্যেক দেশই চাইবে তাদের দেশের পক্ষের দল ক্ষমতায় থাকুক। এখন কোন দেশ কোন দলকে সমর্থন করবে সেটাই প্রশ্ন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন