লঞ্চ ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব
jugantor
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠকে চূড়ান্ত হয়নি
লঞ্চ ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টানা কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেও লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেনি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। তবে ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটি বিদ্যমান ভাড়ার চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির আটটি স্ল্যাব তৈরি করেছে। ওই আটটি স্ল্যাব থেকে যে কোনো একটি অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশনের আওতাধীন চলাচলরত ফেরির ভাড়া ২০ শতাংশ বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে বুধবার রাত ৮টার পর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বুধবার লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবিত স্ল্যাবগুলো হচ্ছে ১৯.৫, ২২, ২৫, ৩০, ৩৫, ৪০, ৪২ ও ৫০ শতাংশ। বিদ্যমান ভাড়ার সঙ্গে এই আটটি স্ল্যাবের যে কোনো একটি ধরে ভাড়া বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

জানতে চাইলে ওয়ার্কিং কমিটির প্রধান নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসএম ফেরদৌস আলম যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মালিকদের দাবি বিবেচনা করে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মালিকরা বিদ্যমান ভাড়ার অন্তত ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি না করলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন। আমরা যাত্রীদের কথাও বিবেচনায় রেখেছি। সবমিলিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির আটটি হার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে কোনো একটি হার চূড়ান্ত করবে। ওই হার অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বর্তমানে নৌপথে প্রথম একশ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য দুই টাকা ৩০ পয়সা ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা হারে ভাড়া আদায় করা হয়। বাসের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সর্বনিম্ন ১৯.৫ শতাংশ, অপরদিকে মালিকদের দাবি রক্ষা করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কোন স্ল্যাবে কত টাকা বাড়বে, এরও একটি পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে স্ল্যাবটি অনুমোদন দেবে, ওই হারে লঞ্চের ভাড়া বাড়বে। তারা আরও জানান, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় লঞ্চের বিদ্যমান ভাড়ার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষে রয়েছে। অপরদিকে লঞ্চ মালিকরা অন্তত ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির কম মানতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সোমবার সকালে নৌসচিব মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। এক ঘণ্টার বেশি ওই বৈঠকে ভাড়া নিয়ে মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসএম ফেরদৌস আলমকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে লঞ্চ মালিক, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের সদস্য রাখা হয়। ওই সভা শেষে নৌসচিব মো. মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভাড়া পুনর্নির্ধারণে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রাতেই প্রতিবেদন দেবে। তিন বলেন, লঞ্চমালিকরা লঞ্চের ভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অনেক বেশি। ভাড়া এত বাড়ানো হবে না; আরও কম হবে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগ পর্যন্ত বর্তমান ভাড়া কার্যকর থাকবে।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সহসভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। এজন্য গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তাটি যাত্রীদের চলাচলের জন্য সহজ করার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে নৌসচিব বলেন, গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক দিয়ে যাত্রী চলাচল সহজ করতে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সরকার শুক্রবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ বাড়িয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম লিটারে ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর লঞ্চমালিকরা লঞ্চভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেন। লঞ্চভাড়া প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া ১০০ কিলোমিটার পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকার জায়গায় ৪ টাকার প্রস্তাব করেন।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠকে চূড়ান্ত হয়নি

লঞ্চ ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টানা কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেও লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেনি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। তবে ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটি বিদ্যমান ভাড়ার চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির আটটি স্ল্যাব তৈরি করেছে। ওই আটটি স্ল্যাব থেকে যে কোনো একটি অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশনের আওতাধীন চলাচলরত ফেরির ভাড়া ২০ শতাংশ বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে বুধবার রাত ৮টার পর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বুধবার লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবিত স্ল্যাবগুলো হচ্ছে ১৯.৫, ২২, ২৫, ৩০, ৩৫, ৪০, ৪২ ও ৫০ শতাংশ। বিদ্যমান ভাড়ার সঙ্গে এই আটটি স্ল্যাবের যে কোনো একটি ধরে ভাড়া বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

জানতে চাইলে ওয়ার্কিং কমিটির প্রধান নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসএম ফেরদৌস আলম যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মালিকদের দাবি বিবেচনা করে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মালিকরা বিদ্যমান ভাড়ার অন্তত ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি না করলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন। আমরা যাত্রীদের কথাও বিবেচনায় রেখেছি। সবমিলিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির আটটি হার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে কোনো একটি হার চূড়ান্ত করবে। ওই হার অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বর্তমানে নৌপথে প্রথম একশ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য দুই টাকা ৩০ পয়সা ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা হারে ভাড়া আদায় করা হয়। বাসের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সর্বনিম্ন ১৯.৫ শতাংশ, অপরদিকে মালিকদের দাবি রক্ষা করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কোন স্ল্যাবে কত টাকা বাড়বে, এরও একটি পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে স্ল্যাবটি অনুমোদন দেবে, ওই হারে লঞ্চের ভাড়া বাড়বে। তারা আরও জানান, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় লঞ্চের বিদ্যমান ভাড়ার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষে রয়েছে। অপরদিকে লঞ্চ মালিকরা অন্তত ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির কম মানতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সোমবার সকালে নৌসচিব মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। এক ঘণ্টার বেশি ওই বৈঠকে ভাড়া নিয়ে মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসএম ফেরদৌস আলমকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে লঞ্চ মালিক, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের সদস্য রাখা হয়। ওই সভা শেষে নৌসচিব মো. মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভাড়া পুনর্নির্ধারণে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রাতেই প্রতিবেদন দেবে। তিন বলেন, লঞ্চমালিকরা লঞ্চের ভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অনেক বেশি। ভাড়া এত বাড়ানো হবে না; আরও কম হবে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগ পর্যন্ত বর্তমান ভাড়া কার্যকর থাকবে।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সহসভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। এজন্য গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তাটি যাত্রীদের চলাচলের জন্য সহজ করার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে নৌসচিব বলেন, গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক দিয়ে যাত্রী চলাচল সহজ করতে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সরকার শুক্রবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ বাড়িয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম লিটারে ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর লঞ্চমালিকরা লঞ্চভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেন। লঞ্চভাড়া প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া ১০০ কিলোমিটার পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকার জায়গায় ৪ টাকার প্রস্তাব করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন