খোলাবাজারে এক ডলার সমান ১১৫ টাকা
jugantor
৬ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
খোলাবাজারে এক ডলার সমান ১১৫ টাকা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খোলাবাজারে ডলারের দাম ১১৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে এ দামেই লেনদেন হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছিল ১১২ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কত অভিযান, এত পদক্ষেপ তেমন কাজে আসছে না।

এদিকে ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার পাঁচটি দেশি এবং একটি বিদেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার রাতে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

জানা গেছে, সোমবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১০৮ থেকে ১১০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছিল। সেখান থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সেও ডলারের দাম বেড়েছে। কার্ব মার্কেট থেকে যে কেউ ডলার কিনতে পারেন। ব্যাংক থেকে কিনতে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করতে হয়। যে কারণে অনেকে এখন খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে শেয়ারবাজারের মতো বিনিয়োগ করছেন, যা অবৈধ।

রাজধানীর মতিঝিলে যমুনা মানি এক্সচেঞ্জের স্বত্বাধিকারী আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে ডলারের সংকট। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ অবস্থায় অনেকেই ডলার কিনে ধরে রাখতে চাইছে। এ জন্য লাগামহীনভাবে দাম বাড়ছে।’

এদিকে ডলারের কারসাজি রোধে খোলাবাজার ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কারসাজির অপরাধে পাঁচ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ৪২টিকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলার বাজারে কারসাজি রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

কার্ব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকের মতো খোলাবাজারেও ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রবাসীদের দেশে আসা কমেছে, বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। এ কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে।

মতিঝিলে খুচরা ডলার ব্যবসায়ী বেলাল জানান, খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে। সে কারণেই দর বেড়েছে। আজকে (সোমবার) নগদ ডলার বিক্রি করেছি ১১৫ টাকা থেকে ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা। কিনেছি ১১৩ টাকা থেকে ১১৪ টাকায়। একই কথা জানালেন অপর ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়াও।

পাইনিওর এক্সচেঞ্জ হাউজে ডলারের দাম জানতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মী জানান, আজকে (সোমবার) সর্বোচ্চ ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এখন ডলার নেই। চাইলে অন্য হাউজ থেকে এনে দিতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১০৭ থেকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরের প্রথম ৩৩ দিনে (২ আগস্ট পর্যন্ত) ১২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

৬ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

খোলাবাজারে এক ডলার সমান ১১৫ টাকা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খোলাবাজারে ডলারের দাম ১১৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে এ দামেই লেনদেন হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছিল ১১২ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কত অভিযান, এত পদক্ষেপ তেমন কাজে আসছে না।

এদিকে ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার পাঁচটি দেশি এবং একটি বিদেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার রাতে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

জানা গেছে, সোমবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১০৮ থেকে ১১০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছিল। সেখান থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সেও ডলারের দাম বেড়েছে। কার্ব মার্কেট থেকে যে কেউ ডলার কিনতে পারেন। ব্যাংক থেকে কিনতে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করতে হয়। যে কারণে অনেকে এখন খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে শেয়ারবাজারের মতো বিনিয়োগ করছেন, যা অবৈধ।

রাজধানীর মতিঝিলে যমুনা মানি এক্সচেঞ্জের স্বত্বাধিকারী আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে ডলারের সংকট। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ অবস্থায় অনেকেই ডলার কিনে ধরে রাখতে চাইছে। এ জন্য লাগামহীনভাবে দাম বাড়ছে।’

এদিকে ডলারের কারসাজি রোধে খোলাবাজার ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কারসাজির অপরাধে পাঁচ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ৪২টিকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলার বাজারে কারসাজি রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

কার্ব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকের মতো খোলাবাজারেও ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রবাসীদের দেশে আসা কমেছে, বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। এ কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে।

মতিঝিলে খুচরা ডলার ব্যবসায়ী বেলাল জানান, খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে। সে কারণেই দর বেড়েছে। আজকে (সোমবার) নগদ ডলার বিক্রি করেছি ১১৫ টাকা থেকে ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা। কিনেছি ১১৩ টাকা থেকে ১১৪ টাকায়। একই কথা জানালেন অপর ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়াও।

পাইনিওর এক্সচেঞ্জ হাউজে ডলারের দাম জানতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মী জানান, আজকে (সোমবার) সর্বোচ্চ ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এখন ডলার নেই। চাইলে অন্য হাউজ থেকে এনে দিতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১০৭ থেকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরের প্রথম ৩৩ দিনে (২ আগস্ট পর্যন্ত) ১২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন