‘মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব’
jugantor
অশ্রুঝরা আগস্ট
‘মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। ধীরে ধীরে পরিণত হন মানুষের নির্ভরতায়। হয়ে ওঠেন ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’। তিনি বাংলার নিপীড়িত মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতার, মুক্তির। তার হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির এই মুক্তির দিশারী গোটা জীবনই উৎসর্গ করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। মাত্র ৫৫ বছরের যে জীবন তিনি কাটিয়েছেন, তার পুরোটাই ছিল সংগ্রামমুখর।

শেষ জীবনে তার সংগ্রাম ছিল দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করার। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনে এলেন, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বসলেন তিনি। শুরুতেই বললেন, ‘জনগণের মাঝে ফিরে যেতে চাই।’ ওই সংবাদ সম্মেলনেই ফোনে কথা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে।

তাজউদ্দীন আহমদকে ফোন করেই বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘হ্যালো, তাজউদ্দীন; আমি সাংবাদিক পরিবেষ্টিত হয়ে আছি। আমি তাদের কী বলব? দেশের মানুষ কেমন আছে? বর্বর পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে যে অগণিত নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে, এ মুহূর্তে তাদের কথা আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে।’ ঠিক এভাবেই আজীবন মানুষের কথাই ভেবেছেন বঙ্গবন্ধু। মানুষের জন্যই উৎসর্গ করেছেন জীবন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়। দেশকে করে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর। সেই শোকাবহ আগস্টের একাদশতম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১১ আগস্ট ছিল সোমবার। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর এই নৃশংস হত্যা জাতি মেনে নিতে পারেনি। কবি মহাদেব সাহা তার ‘কফিন কাহিনী’ কবিতায় লিখেছেন, ‘আমি প্রতিশোধ নেব/আমার রক্ত ও শ্রম দিয়ে/এই বিশ্বের মাটি ও মানুষের দেখা/সবচেয়ে মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব।’

পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়ে বিশ্বের দরবারে যিনি বাঙালিদের একটি বীরের জাতি হিসাবে পরিচিত করালেন, মাত্র চার বছরের মধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে ঘাতকেরা সেই মানুষটিকে সপরিবারে হত্যা করে। বাঙালি জাতিকে পরিয়ে দেয় কলঙ্কের তিলক। ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, হত্যার বিচার যাতে না হয়, সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যা বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতিকে আরেকবার হেয়প্রতিপন্ন করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর জাতি হিসাবে আমরা যে কলঙ্কের বোঝা বহন করেছি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের মাধ্যমে সেই কলঙ্কের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা করেছেন। খুনিদের অনেকেই যারা এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ রয়েছে।

অশ্রুঝরা আগস্ট

‘মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। ধীরে ধীরে পরিণত হন মানুষের নির্ভরতায়। হয়ে ওঠেন ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’। তিনি বাংলার নিপীড়িত মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতার, মুক্তির। তার হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির এই মুক্তির দিশারী গোটা জীবনই উৎসর্গ করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। মাত্র ৫৫ বছরের যে জীবন তিনি কাটিয়েছেন, তার পুরোটাই ছিল সংগ্রামমুখর।

শেষ জীবনে তার সংগ্রাম ছিল দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করার। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনে এলেন, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বসলেন তিনি। শুরুতেই বললেন, ‘জনগণের মাঝে ফিরে যেতে চাই।’ ওই সংবাদ সম্মেলনেই ফোনে কথা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে।

তাজউদ্দীন আহমদকে ফোন করেই বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘হ্যালো, তাজউদ্দীন; আমি সাংবাদিক পরিবেষ্টিত হয়ে আছি। আমি তাদের কী বলব? দেশের মানুষ কেমন আছে? বর্বর পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে যে অগণিত নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে, এ মুহূর্তে তাদের কথা আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে।’ ঠিক এভাবেই আজীবন মানুষের কথাই ভেবেছেন বঙ্গবন্ধু। মানুষের জন্যই উৎসর্গ করেছেন জীবন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়। দেশকে করে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর। সেই শোকাবহ আগস্টের একাদশতম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১১ আগস্ট ছিল সোমবার। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর এই নৃশংস হত্যা জাতি মেনে নিতে পারেনি। কবি মহাদেব সাহা তার ‘কফিন কাহিনী’ কবিতায় লিখেছেন, ‘আমি প্রতিশোধ নেব/আমার রক্ত ও শ্রম দিয়ে/এই বিশ্বের মাটি ও মানুষের দেখা/সবচেয়ে মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব।’

পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়ে বিশ্বের দরবারে যিনি বাঙালিদের একটি বীরের জাতি হিসাবে পরিচিত করালেন, মাত্র চার বছরের মধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে ঘাতকেরা সেই মানুষটিকে সপরিবারে হত্যা করে। বাঙালি জাতিকে পরিয়ে দেয় কলঙ্কের তিলক। ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, হত্যার বিচার যাতে না হয়, সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যা বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতিকে আরেকবার হেয়প্রতিপন্ন করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর জাতি হিসাবে আমরা যে কলঙ্কের বোঝা বহন করেছি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের মাধ্যমে সেই কলঙ্কের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা করেছেন। খুনিদের অনেকেই যারা এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অশ্রুঝরা আগস্ট

১৫ আগস্ট, ২০২২
১৫ আগস্ট, ২০২২