খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১২০ টাকা
jugantor
খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১২০ টাকা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তীব্র সংকটে বাড়ছে ডলারের দাম। বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানি এক্সচেঞ্জে নজরদারি, পুলিশের অভিযান, দামে কারসাজির অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দর উঠেছিল ১১২ টাকা। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির পর কয়েকদিন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১০৮ টাকায় স্থির হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহ থেকে আবার ঊর্ধ্বগতি। সোমবার খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয় ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর সেদিনও ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। পরদিন তা আরও ২৫ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৯৫ পয়সা। এর পরদিন খোলাবাজারে আবার লাফ দেয় ডলার। একদিনে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা। খোলাবাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, তীব্র সংকট রয়েছে ডলারের। প্রবাসীদের দেশে আসা কমেছে, বিদেশি পর্যটকরাও কম আসছেন। এ কারণে ডলারের সরবরাহ কম।

দিলকুশা দোহার মানি এক্সচেঞ্জে ডলার কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রতি ডলার ১২০ টাকা চাচ্ছে। ব্যাংক রেট ৯৫ টাকা বললে প্রতিষ্ঠানটি বলে, ওসব বলে লাভ নেই। আমরা যে রেটে দিতে পারব সেটা বলেছি। এতে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকে গিয়েও ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো বলছে ডলার নেই।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দরে ডলার মিলছে না ব্যাংকেও। ব্যাংকের আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সেও দর অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। তখন ডলারের আনুষ্ঠানিক দর ও খোলাবাজারের দরের মধ্যে পার্থক্য ছিল কমই। বরং গোটা বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে দর ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে। তবে মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পের উপকরণের দর বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়। আর দাম বাড়তে থাকায় এখন খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে অবৈধভাবে মজুত করারও তথ্য মিলছে।

পল্টনের খুচরা ডলার ব্যবসায়ী বেলাল জানান, খোলাবাজারে ডলারের চা?হিদা বেশি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে।

আব্দুর রশিদ নামে মতিঝিলের এক ডলার বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে এনে নগদ ডলার কেনাবেচা করি। যারা বিদেশ যান, তাদের খুচরা কিছু ডলার লাগে। ব্যাংকে গেলে বিভিন্ন ঝামেলা হয়। আমাদের কাছ থেকে সহজে ডলার কিনতে পারে। খুচরা ৫০, ১০০ থেকে ১০০০ ডলার কেনাবেচা করি। শুধু খোলাবাজারে নয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয়ও ১০৮ থেকে ১১০ টাকার ওপরে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। দেশে খোলাবাজারে ডলার প্রথমবারের মতো ১০০ টাকার ঘর পেরিয়ে যায় ১৭ মে। এরপর আবার কমে আসে। পরে ১৭ জুলাই ফের ১০০ টাকা অতিক্রম করে।

এদিকে বুধবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ৫ পয়সা বেড়ে ডলারের বর্তমান মূল্য ৯৫ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে। মে মাসের শুরুর দিকে এ দর ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। এ হিসাবে দেড় মাসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা ৫৫ পয়সা।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ফলে ডলারের বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখন নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবুও কাজ হচ্ছে না।

খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১২০ টাকা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তীব্র সংকটে বাড়ছে ডলারের দাম। বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানি এক্সচেঞ্জে নজরদারি, পুলিশের অভিযান, দামে কারসাজির অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দর উঠেছিল ১১২ টাকা। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির পর কয়েকদিন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১০৮ টাকায় স্থির হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহ থেকে আবার ঊর্ধ্বগতি। সোমবার খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয় ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর সেদিনও ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। পরদিন তা আরও ২৫ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৯৫ পয়সা। এর পরদিন খোলাবাজারে আবার লাফ দেয় ডলার। একদিনে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা। খোলাবাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, তীব্র সংকট রয়েছে ডলারের। প্রবাসীদের দেশে আসা কমেছে, বিদেশি পর্যটকরাও কম আসছেন। এ কারণে ডলারের সরবরাহ কম।

দিলকুশা দোহার মানি এক্সচেঞ্জে ডলার কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রতি ডলার ১২০ টাকা চাচ্ছে। ব্যাংক রেট ৯৫ টাকা বললে প্রতিষ্ঠানটি বলে, ওসব বলে লাভ নেই। আমরা যে রেটে দিতে পারব সেটা বলেছি। এতে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকে গিয়েও ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো বলছে ডলার নেই।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দরে ডলার মিলছে না ব্যাংকেও। ব্যাংকের আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সেও দর অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। তখন ডলারের আনুষ্ঠানিক দর ও খোলাবাজারের দরের মধ্যে পার্থক্য ছিল কমই। বরং গোটা বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে দর ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে। তবে মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পের উপকরণের দর বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়। আর দাম বাড়তে থাকায় এখন খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে অবৈধভাবে মজুত করারও তথ্য মিলছে।

পল্টনের খুচরা ডলার ব্যবসায়ী বেলাল জানান, খোলাবাজারে ডলারের চা?হিদা বেশি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে।

আব্দুর রশিদ নামে মতিঝিলের এক ডলার বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে এনে নগদ ডলার কেনাবেচা করি। যারা বিদেশ যান, তাদের খুচরা কিছু ডলার লাগে। ব্যাংকে গেলে বিভিন্ন ঝামেলা হয়। আমাদের কাছ থেকে সহজে ডলার কিনতে পারে। খুচরা ৫০, ১০০ থেকে ১০০০ ডলার কেনাবেচা করি। শুধু খোলাবাজারে নয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয়ও ১০৮ থেকে ১১০ টাকার ওপরে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। দেশে খোলাবাজারে ডলার প্রথমবারের মতো ১০০ টাকার ঘর পেরিয়ে যায় ১৭ মে। এরপর আবার কমে আসে। পরে ১৭ জুলাই ফের ১০০ টাকা অতিক্রম করে।

এদিকে বুধবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ৫ পয়সা বেড়ে ডলারের বর্তমান মূল্য ৯৫ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে। মে মাসের শুরুর দিকে এ দর ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। এ হিসাবে দেড় মাসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা ৫৫ পয়সা।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ফলে ডলারের বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখন নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবুও কাজ হচ্ছে না।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন