অর্থায়ন বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ

  এমকে মুজেরী ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট
ছবি: যুগান্তর

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ সময় রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নির্বাচনমুখী থাকবে।

ফলে বাজেট বাস্তবায়নের ধাপগুলো ব্যাহত হবে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার চাইবে বিভিন্ন সেক্টরে যতটা সম্ভব হয় বাজেট বাস্তবায়নের যে কাঠামো তার বাইরে গিয়ে আপসকামী মনোভাব দেখাতে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপস করার প্রবণতা বেড়ে যাবে।

নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক ঝুঁকি শুধু বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে তাই নয়, বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সবকিছুতেই ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।

একটি বিষয় লক্ষণীয়, নির্বাচনের আগে জনতুষ্টির একটি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন ক্ষমতার অভাব আছে। অতীতেও দেখা গেছে, বাস্তবায়ন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। বাজেটের মানসম্মত বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব টার্গেট পূরণ করতে হলে এনবিআরের প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রায় ৩০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। নির্বাচনী বছরের বাজেটে এটা এক ধরনের অসম্ভব লক্ষ্য বলেই মনে হয়। বাজেটের আরেক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রশ্নটিও। কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ না হলে বাজেটে ঘোষিত ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে কিনা সেটি ভাবার বিষয়।

সরকার যে বিভিন্ন বিষয়ে আপস করার চেষ্টা করছে প্রস্তাবিত বাজেটে সেটি স্পষ্ট। একটি বিষয় বলতে পারি, ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা, দুর্নীতি ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে সেদিকে নজর দেয়া জরুরি ছিল। অথচ ব্যাংক খাতের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স হার কমানো হয়েছে। নৈরাজ্য সমাধান না করে বিশেষ মহলের চাপে কর্পোরেট করহার কমানোয় ব্যাংকের এ অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেবে। এ রকম আরও অনেক বিষয়ে আপসের প্রবণতা দেখা গেছে। আগের বাজেটগুলোর তুলনায় এবারের বাজেটে সমাজের পেশাজীবী থেকে বিত্তশালী সবার সঙ্গে আপসের চিত্র বড় আকারে ফুটে উঠেছে।

বিভিন্ন মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। সঠিক সময়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারায় এর সুফল থেকে জাতি বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি দায় সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তেমন কোনো দিকনির্দেশনাও নেই বাজেটে।

বিগত দিনের বাজেট থেকে আমরা যেটা দেখি তা হল, বছর শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে বিভিন্নভাবে টাকা খরচ করার একটা প্রবণতা। এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের এ অপচয় রোধ করতে হবে। বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে অনাকাক্সিক্ষত অপচয় রোধ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কাজ করা যায় তাহলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, বিআইডিএস

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter