অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
jugantor
অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  সিলেট ব্যুরো  

১৩ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি অনেক কম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে। বেহেশতে আছে। তারপরও জিনিসপত্রের দাম যাতে আর না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখছে সরকার।

শুক্রবার সকালে সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়াতে দেখলাম যে, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেছেন বাংলাদেশের সরকার তার দেশের কাছে টাকা পাচারকারীদের তথ্য চায়নি। কিন্তু আমি জানি যখন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা আছে বলে খবর এলো তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য চেয়ে তাদের চিঠি দেয়। এরপর তারা নাম নির্দিষ্ট করে তথ্য চাইতে বলে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ৬৭ জনের নামোল্লেখ করে তথ্য চায়। কিন্তু পরে তারা শুধু একজনের তথ্য দেয়। তারপরও বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রদূত কিভাবে বলেন বাংলাদেশ তথ্য চায়নি। তিনি হয়তো নতুন যোগ দিয়েছেন তাই তার এসব বিষয় জানা নেই। তিনি জানেন না, না জেনে একখানা বলে ফেলেছেন। এখন তার মন্তব্য নিয়ে মিডিয়ায় হইচই শুরু করেছে।

ড. মোমেন বলেন, গভর্নর ও অর্থ সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে তারা আমাকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। কবে কখন তথ্য চাওয়া হয়েছে আমাকে জানিয়েছেন। এছাড়া উচ্চ আদালত যেহেতু বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তাই তারা আদালতের জন্য কাগজপত্র তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র, কিন্তু এভাবে তথ্যের বিভ্রাট করা ঠিক না। শুধু সুইজারল্যান্ড নয় যারা বাংলাদেশকে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তারাও সহজে তথ্য দিতে চায় না। এটা তাদের মজ্জাগত সমস্যা।

এরপর বৈশ্বিক মন্দায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই মন্দার ভাব আসছে। একাধিক কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একটি হলো-করোনা মহামারি। অন্যটি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যুদ্ধের ফলে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেই কারণে সাপ্লাই চেইনে প্রভাব পড়েছে। সেটা অনেক দেশেই পড়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।

গত বছর জিডিপির গ্রোথ হয়েছে ৬.৯ শতাংশ। তিনি বলেন, এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি কম। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি ৯-এর উপরে। তুরস্কে প্রায় ৬০ শতাংশ দাম বেড়েছে। ইংল্যান্ডে লোকজন কষ্টে আছে। পাকিস্তানে ৩৭ শতাংশ। আসলে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে। সুখে আছে। বেহেশতে আছে। তবে হ্যাঁ আমাদেরও চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা এসব চ্যালেঞ্জ যাতে মোকাবিলা করতে পারি তাই আগেভাগেই সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে কিছু পণ্ডিত আছে তারা রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছেন। এক সময় যখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩.২ বিলিয়ন ছিল তা নিয়েই বড়াই করতেন। আর এখন ৪০ বিলিয়নের উপরে, হ্যাঁ এটা ৪৮ বিলিয়ন ছিল কমে গেছে, খরচ হয়েছে এটা স্বাভাবিক। রিজার্ভ ওঠানামা করতেই পারে। বাংলাদেশের জন্য ৪০ বিলিয়ন রিজার্ভ যথেষ্ট। কমপক্ষে ৮-৯ মাসের মজুত আছে।

তিনি বলেন, রিজার্ভ প্রয়োজন হয় গরিব দেশের। ধনী দেশের রিজার্ভ প্রয়োজন হয় না। গরিব দেশ আমদানি করতে চাইলে রিজার্ভ থেকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। বাংলাদেশ এখন আর গরিব নেই। রিজার্ভ নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। রিজার্ভ বাদ দেন, আগে দেখতে হবে আমার চাল-ডাল আছে কিনা। হ্যাঁ, একটু দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকার চেষ্টা করছে কিভাবে দাম কমানো যায়। জনগণের যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে নজর রাখছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুদিনের সফরে সিলেটে এসেছেন। সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিভিল এভিয়েশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 সিলেট ব্যুরো 
১৩ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি অনেক কম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে। বেহেশতে আছে। তারপরও জিনিসপত্রের দাম যাতে আর না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখছে সরকার।

শুক্রবার সকালে সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়াতে দেখলাম যে, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেছেন বাংলাদেশের সরকার তার দেশের কাছে টাকা পাচারকারীদের তথ্য চায়নি। কিন্তু আমি জানি যখন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা আছে বলে খবর এলো তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য চেয়ে তাদের চিঠি দেয়। এরপর তারা নাম নির্দিষ্ট করে তথ্য চাইতে বলে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ৬৭ জনের নামোল্লেখ করে তথ্য চায়। কিন্তু পরে তারা শুধু একজনের তথ্য দেয়। তারপরও বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রদূত কিভাবে বলেন বাংলাদেশ তথ্য চায়নি। তিনি হয়তো নতুন যোগ দিয়েছেন তাই তার এসব বিষয় জানা নেই। তিনি জানেন না, না জেনে একখানা বলে ফেলেছেন। এখন তার মন্তব্য নিয়ে মিডিয়ায় হইচই শুরু করেছে।

ড. মোমেন বলেন, গভর্নর ও অর্থ সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে তারা আমাকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। কবে কখন তথ্য চাওয়া হয়েছে আমাকে জানিয়েছেন। এছাড়া উচ্চ আদালত যেহেতু বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তাই তারা আদালতের জন্য কাগজপত্র তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র, কিন্তু এভাবে তথ্যের বিভ্রাট করা ঠিক না। শুধু সুইজারল্যান্ড নয় যারা বাংলাদেশকে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তারাও সহজে তথ্য দিতে চায় না। এটা তাদের মজ্জাগত সমস্যা।

এরপর বৈশ্বিক মন্দায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই মন্দার ভাব আসছে। একাধিক কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একটি হলো-করোনা মহামারি। অন্যটি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যুদ্ধের ফলে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেই কারণে সাপ্লাই চেইনে প্রভাব পড়েছে। সেটা অনেক দেশেই পড়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।

গত বছর জিডিপির গ্রোথ হয়েছে ৬.৯ শতাংশ। তিনি বলেন, এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি কম। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি ৯-এর উপরে। তুরস্কে প্রায় ৬০ শতাংশ দাম বেড়েছে। ইংল্যান্ডে লোকজন কষ্টে আছে। পাকিস্তানে ৩৭ শতাংশ। আসলে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে। সুখে আছে। বেহেশতে আছে। তবে হ্যাঁ আমাদেরও চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা এসব চ্যালেঞ্জ যাতে মোকাবিলা করতে পারি তাই আগেভাগেই সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে কিছু পণ্ডিত আছে তারা রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছেন। এক সময় যখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩.২ বিলিয়ন ছিল তা নিয়েই বড়াই করতেন। আর এখন ৪০ বিলিয়নের উপরে, হ্যাঁ এটা ৪৮ বিলিয়ন ছিল কমে গেছে, খরচ হয়েছে এটা স্বাভাবিক। রিজার্ভ ওঠানামা করতেই পারে। বাংলাদেশের জন্য ৪০ বিলিয়ন রিজার্ভ যথেষ্ট। কমপক্ষে ৮-৯ মাসের মজুত আছে।

তিনি বলেন, রিজার্ভ প্রয়োজন হয় গরিব দেশের। ধনী দেশের রিজার্ভ প্রয়োজন হয় না। গরিব দেশ আমদানি করতে চাইলে রিজার্ভ থেকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। বাংলাদেশ এখন আর গরিব নেই। রিজার্ভ নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। রিজার্ভ বাদ দেন, আগে দেখতে হবে আমার চাল-ডাল আছে কিনা। হ্যাঁ, একটু দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকার চেষ্টা করছে কিভাবে দাম কমানো যায়। জনগণের যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে নজর রাখছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুদিনের সফরে সিলেটে এসেছেন। সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিভিল এভিয়েশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন