কেন্দ্র-তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ
jugantor
ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি
কেন্দ্র-তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্র ও তৃণমূলের সব নেতাকর্মীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।

এজন্য সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

থানা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন হচ্ছে কিনা তা কেন্দ্র থেকে মনিটর করা হবে। জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। এরপর ২২ আগস্ট উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণভাবে জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, লুটপাট ও চুরি করে সরকার দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে। আজকে জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং, বিদ্যুতের সংকট-সবকিছুর মূলে এ সরকারের দুর্নীতি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও কমেছে। এর ফলে এখন সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়েছে। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে। কৃষকের সেচ ব্যাহত হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সবকিছুর দাম আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে দিনযাপন করছে। সবাই এখন সরকারের পদত্যাগ চায়।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চিত্রসহ নানা ইস্যু নিয়ে আজ দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে নতুন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলবেন তিনি। তবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি থাকবে না বিএনপির। ২২ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেবেন।

সম্প্রতি কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন বিএনপির দুই নীতিনির্ধারক। ঢাকায় এক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে, মিছিলে নামতে হবে, হরতালে যেতে হবে, অবরোধে যেতে হবে। তাহলে সরকারের পতন ঘটবে।’ এছাড়া চট্টগ্রামে এক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার পতনে সামনে হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি আসবে।’

সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার একদিন পর রোববার কর্মসূচি নির্ধারণে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব। এর প্রতিবাদে হরতাল দেওয়ার পক্ষে ছিল বিএনপির একটি অংশ।

তাদের মতে, এ ইস্যুতে হরতাল দিলে জনসমর্থন পাওয়া যাবে। তবে আরেক অংশ হরতালের বিপক্ষে ছিল। তাদের মতে, হরতাল দিলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ঘোষনণর পরদিনই দিতে হতো। এ অবস্থায় সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ এবং শুক্রবার সারা দেশে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, নয়াপল্টনের সমাবেশ সফল করতে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার নেতাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা ছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের সমাগম দলটির নেতাকর্মীদের আরও উজ্জীবিত করেছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এত বড় সমবেশ সফল করায় মহানগরের শীর্ষ নেতারাসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবারের সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি বিএনপি থেকে একটি মেসেজ দেওয়া হয়েছে যে, সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ওই সমাবেশই প্রমাণ করেছে দ্রুতই স্বৈরাচার সরকারের পতনের দাবিতে জনগণ ও নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষে জেলা, থানা থেকে গ্রাম পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন করার পর কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে। কারণ একই দাবিতে সরকারবিরোধী সব দলও এখন মাঠে রয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন হবে। সরকার পতনের ‘এক দফা এক দাবি’ নিয়ে বড় কর্মসূচির দিকে যাবে বিএনপি।

ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি

কেন্দ্র-তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্র ও তৃণমূলের সব নেতাকর্মীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।

এজন্য সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

থানা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন হচ্ছে কিনা তা কেন্দ্র থেকে মনিটর করা হবে। জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। এরপর ২২ আগস্ট উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণভাবে জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, লুটপাট ও চুরি করে সরকার দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে। আজকে জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং, বিদ্যুতের সংকট-সবকিছুর মূলে এ সরকারের দুর্নীতি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও কমেছে। এর ফলে এখন সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়েছে। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে। কৃষকের সেচ ব্যাহত হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সবকিছুর দাম আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে দিনযাপন করছে। সবাই এখন সরকারের পদত্যাগ চায়।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চিত্রসহ নানা ইস্যু নিয়ে আজ দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে নতুন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলবেন তিনি। তবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি থাকবে না বিএনপির। ২২ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেবেন।

সম্প্রতি কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন বিএনপির দুই নীতিনির্ধারক। ঢাকায় এক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে, মিছিলে নামতে হবে, হরতালে যেতে হবে, অবরোধে যেতে হবে। তাহলে সরকারের পতন ঘটবে।’ এছাড়া চট্টগ্রামে এক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার পতনে সামনে হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি আসবে।’

সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার একদিন পর রোববার কর্মসূচি নির্ধারণে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব। এর প্রতিবাদে হরতাল দেওয়ার পক্ষে ছিল বিএনপির একটি অংশ।

তাদের মতে, এ ইস্যুতে হরতাল দিলে জনসমর্থন পাওয়া যাবে। তবে আরেক অংশ হরতালের বিপক্ষে ছিল। তাদের মতে, হরতাল দিলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ঘোষনণর পরদিনই দিতে হতো। এ অবস্থায় সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ এবং শুক্রবার সারা দেশে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, নয়াপল্টনের সমাবেশ সফল করতে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার নেতাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা ছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের সমাগম দলটির নেতাকর্মীদের আরও উজ্জীবিত করেছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এত বড় সমবেশ সফল করায় মহানগরের শীর্ষ নেতারাসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবারের সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি বিএনপি থেকে একটি মেসেজ দেওয়া হয়েছে যে, সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ওই সমাবেশই প্রমাণ করেছে দ্রুতই স্বৈরাচার সরকারের পতনের দাবিতে জনগণ ও নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষে জেলা, থানা থেকে গ্রাম পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন করার পর কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে। কারণ একই দাবিতে সরকারবিরোধী সব দলও এখন মাঠে রয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন হবে। সরকার পতনের ‘এক দফা এক দাবি’ নিয়ে বড় কর্মসূচির দিকে যাবে বিএনপি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন