মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিব্রত আওয়ামী লীগ
jugantor
মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিব্রত আওয়ামী লীগ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলও বিব্রত। তারা মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তা সরকারের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সারা দেশে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বর্তমানে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা। এই সংকটে চিন্তিত সরকারের নীতিনির্ধারকরাও। এ অবস্থায় মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য মানুষের মধ্যে অসন্তোষের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের বাংলাদেশকে বেহেশতের সঙ্গে তুলনা, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির পরও ফসল উৎপাদনের ওপর প্রভাব না পড়ার দাবি, প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড় রয়েছে বলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের মন্তব্য, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনো কেউ মারা যায়নি জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের আশাবাদ, মানুষ চাইলে তিন বেলা মাংস খেতে পারে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের আশার বাণী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মন্তব্য-ভবিষ্যতে দারিদ্র্য দেখতে মিউজিয়ামে যেতে হবে এবং ‘ছেঁড়া জামা গায়ে কাউকে দেখা যায় না’-তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন মন্তব্য নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রত্যেককে কথাবার্তায় এবং আচার আচরণে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের এই সময়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো কথা বলা এবং ক্ষমতার দাপট দেখানো সমীচীন নয়।’ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা শ্রমিক লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘ঠান্ডা মাথায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, এটাই আজকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ম্যাসেজ।’

শুক্রবার সিলেটে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে, একটি পক্ষ প্যানিক ছড়ানোর জন্য এমন কথা বলছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে।’ এর আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য দেশটিকে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করার কথা সাংবাদিকদের জানিয়ে সমালোচিত হন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুক্রবার সিলেটে দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে তুলে দেওয়া হয় যৌক্তিক সমালোচনা করার এই বল। ফলে শনিবারই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক হাত নেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে জনগণের সঙ্গে তামাশা বলে মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রী (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হয়তো নিজের কথা বলেছেন। তবে সবাই কি সেটা মনে করেন? করেন না। আমাদের দলীয় নেতাকর্মী, এমপি-মন্ত্রী সবাইকেই সতর্ক হয়ে কথা বলা উচিত।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সবার মার্জিত ভাষায় সীমিতভাবে দায়িত্বশীল কথা বলা উচিত। জনমনের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে উলটাপালটা কথা বলা উচিত নয়।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এ নির্মম সত্যটি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যতটা বেশি অনুধাবন করবেন তত বেশি মঙ্গল হবে। চার দিকে হতাশাজনক খবরাখবর, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণের মন মেজাজ ভালো নেই। এ অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা প্রাপ্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের লাগামহীন কথাবার্তা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে।

এর আগে ৭ আগস্ট কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কুমিল্লায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘এ দেশের কৃষকেরা এত ত্যাগী যে তারা বউয়ের গলার হার, কানের দুল বিক্রি করেও চাষাবাদ করে। তারা গরু-ছাগল বিক্রি করে সার কিনে ফসল উৎপাদন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদনের ওপর জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলবে না। যদিও কৃষকের লাভ কিছুটা কম হবে।’ গত সপ্তাহে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেকটি মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড় রয়েছে। গ্রামের প্রায় সব রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেছে। প্রত্যেক গ্রামে প্রাইমারি স্কুল করা হয়েছে, ঘর না থাকলে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে।’ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ১০ আগস্ট সুনামগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে আমাদের পছন্দ করে না। তারা বলছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, মানুষ মরে যাবে। তবে আমরা অস্বীকার করব না। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে, এটা সত্যি। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনো কেউ মারা যায়নি, আশা করি মরবেও না।’

এর আগে মানুষ চাইলে তিন বেলা মাংস খেতে পারে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য ছিল- ‘দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা এখানে এসেছি। ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মের মতো লোকদের এগুলো (দারিদ্র্য) দেখতে মিউজিয়ামে যেতে হবে।’ সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কেবল দেশ বদলে যায়নি। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ছেঁড়া জামা গায়ে কাউকে দেখা যায়? না। আপনারা খালি পায়ে কাউকে দেখতে পান? পান না। উপর থেকে কোনো কুঁড়েঘর দেখতে পান? না।’

মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিব্রত আওয়ামী লীগ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলও বিব্রত। তারা মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তা সরকারের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সারা দেশে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বর্তমানে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা। এই সংকটে চিন্তিত সরকারের নীতিনির্ধারকরাও। এ অবস্থায় মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য মানুষের মধ্যে অসন্তোষের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের বাংলাদেশকে বেহেশতের সঙ্গে তুলনা, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির পরও ফসল উৎপাদনের ওপর প্রভাব না পড়ার দাবি, প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড় রয়েছে বলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের মন্তব্য, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনো কেউ মারা যায়নি জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের আশাবাদ, মানুষ চাইলে তিন বেলা মাংস খেতে পারে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের আশার বাণী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মন্তব্য-ভবিষ্যতে দারিদ্র্য দেখতে মিউজিয়ামে যেতে হবে এবং ‘ছেঁড়া জামা গায়ে কাউকে দেখা যায় না’-তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন মন্তব্য নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রত্যেককে কথাবার্তায় এবং আচার আচরণে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের এই সময়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো কথা বলা এবং ক্ষমতার দাপট দেখানো সমীচীন নয়।’ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা শ্রমিক লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘ঠান্ডা মাথায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, এটাই আজকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ম্যাসেজ।’

শুক্রবার সিলেটে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে, একটি পক্ষ প্যানিক ছড়ানোর জন্য এমন কথা বলছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে।’ এর আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য দেশটিকে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করার কথা সাংবাদিকদের জানিয়ে সমালোচিত হন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুক্রবার সিলেটে দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে তুলে দেওয়া হয় যৌক্তিক সমালোচনা করার এই বল। ফলে শনিবারই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক হাত নেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে জনগণের সঙ্গে তামাশা বলে মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রী (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হয়তো নিজের কথা বলেছেন। তবে সবাই কি সেটা মনে করেন? করেন না। আমাদের দলীয় নেতাকর্মী, এমপি-মন্ত্রী সবাইকেই সতর্ক হয়ে কথা বলা উচিত।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সবার মার্জিত ভাষায় সীমিতভাবে দায়িত্বশীল কথা বলা উচিত। জনমনের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে উলটাপালটা কথা বলা উচিত নয়।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এ নির্মম সত্যটি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যতটা বেশি অনুধাবন করবেন তত বেশি মঙ্গল হবে। চার দিকে হতাশাজনক খবরাখবর, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণের মন মেজাজ ভালো নেই। এ অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা প্রাপ্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের লাগামহীন কথাবার্তা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে।

এর আগে ৭ আগস্ট কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কুমিল্লায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘এ দেশের কৃষকেরা এত ত্যাগী যে তারা বউয়ের গলার হার, কানের দুল বিক্রি করেও চাষাবাদ করে। তারা গরু-ছাগল বিক্রি করে সার কিনে ফসল উৎপাদন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদনের ওপর জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলবে না। যদিও কৃষকের লাভ কিছুটা কম হবে।’ গত সপ্তাহে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেকটি মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড় রয়েছে। গ্রামের প্রায় সব রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেছে। প্রত্যেক গ্রামে প্রাইমারি স্কুল করা হয়েছে, ঘর না থাকলে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে।’ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ১০ আগস্ট সুনামগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে আমাদের পছন্দ করে না। তারা বলছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, মানুষ মরে যাবে। তবে আমরা অস্বীকার করব না। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে, এটা সত্যি। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনো কেউ মারা যায়নি, আশা করি মরবেও না।’

এর আগে মানুষ চাইলে তিন বেলা মাংস খেতে পারে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য ছিল- ‘দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা এখানে এসেছি। ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মের মতো লোকদের এগুলো (দারিদ্র্য) দেখতে মিউজিয়ামে যেতে হবে।’ সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কেবল দেশ বদলে যায়নি। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ছেঁড়া জামা গায়ে কাউকে দেখা যায়? না। আপনারা খালি পায়ে কাউকে দেখতে পান? পান না। উপর থেকে কোনো কুঁড়েঘর দেখতে পান? না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন