চকের আগুনে অঙ্গার ঘুমন্ত ৬ শ্রমিক
jugantor
পুরান ঢাকায় ফের পোড়া লাশের গন্ধ
চকের আগুনে অঙ্গার ঘুমন্ত ৬ শ্রমিক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার বাতাসে ফের পোড়া লাশের গন্ধ। সোমবার চকবাজারের পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তারা ওই ভবনের নিচতলায় বরিশাল হোটেলের কর্মচারী।

হোটেলের ওপর মাচায় ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগায় বের হতে পারেনি। সেখানেই তারা পুড়ে মারা যায়। পোড়া হাত দেখে লাশের সন্ধান মেলে। শেষ মুহূর্তে আপনজনদের ফোন করেও সাহায্য পায়নি দুজন।

তাই নিয়ে আহাজারি করছেন স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধারের পর মিটফোর্ডে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দমকল বাহিনী। এর আগে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডি, ২০১৯ সালে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর ঘটে গেল আরেকটি ট্র্যাজেডি।

বেলা সাড়ে ১১টায় চকবাজারের কামালবাগের ৩০নং দেবিদ্বার ঘাট এলাকার বরিশাল হোটেলের রান্নাঘরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে।

ভবনটির দোতলা, তিনতলা ও চারতলায় প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানা এবং এসব পণ্যের গুদাম রয়েছে। এ কারণে আগুনের ভয়াবহতা দ্রুত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকালে হাসপাতালের বাইরে নিহতদের স্বজনের কান্না আর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

প্রত্যেকেই তাদের স্বজনের ছবি নিয়ে বারবার ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শনাক্তের দাবি জানান। মর্গের সামনে আহাজারি করতে দেখা যায় ওসমানের খালাতো ভাই রুবেলকে। তিনি বলেন, ওসমান বরিশাল হোটেলে কাজ করত।

সে রাতে কাজ শেষে ওই হোটেলের সিলিংয়ের রুমে ঘুমিয়েছিল। আগুন লাগার পর সে আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, আগুন লেগেছে। বের হতে পারছি না। এরপর তার ফোন কেটে যায়। আর যোগাযোগ করতে পারিনি।

বিল্লালের শ্যালক মো. আব্দুল্লাহ ও ছোটভাই আইয়ুব আলী বলেন, বিল্লালও বরিশাল হোটেলের মেসিয়ার ছিলেন। নাইট ডিউটি করে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লাগার পর তিনি আয়ূব আলীকে ফোন করেছিলেন।

বলেছিলেন, হোটেলে আগুন লেগেছে, বের হতে পারছি না। আগুন নেভার পর বিকাল ৪টার দিকে হোটেলের ওপর যে মাচায় ঘুমাতেন কর্মীরা সেটাই দেখাচ্ছিলেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা।

ঠিক তখনই একজনের পোড়া হাত বের হয়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইকবাল নামের এক তরুণ।

তিনি জানালেন, তার ভাই ওসমান ওই রেস্তোরাঁয় রাতের পালার কর্মী। এরপরই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মই দিয়ে মাচায় উঠে একে একে ছয়জনের পোড়া দেহের সন্ধান পান।

চকবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ূম জানিয়েছেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরা হলেন বরিশালের মুলাদি থানার টুমচর গ্রামের মৃত আলম সরদারের ছেলে বিল্লাল সরদার (৩৩), হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের রাকেশ সরকারের ছেলে স্বপন সরকার (২২), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বড় কাসমা গ্রামের আবুল কালাম সরদারের ছেলে আব্দুল ওয়াহাব ওসমান (২৭), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তিতচর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে শরীফ (১৫), বরিশালের হিজলা উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোতালেব (১৬), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ আকাল বরিশ গ্রামের হিলালুরের ছেলে রুবেল হোসেন। এরা সবাই বরিশাল হোটেলের কর্মচারী।

রাতভর কাজ করার পর সকালে সিলিংয়ের ওপরে একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন তারা। এই হোটেলেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় তারা আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। হোটেল থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারতলা ভবনে।

দ্রুত আশপাশের ভবনেও ছড়ায় আগুন। প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারখানার কারনে আগুনের সঙ্গে প্রচণ্ড ধোঁয়া হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় শোক দিবসের ছুটি থাকায় সোমবার কারখানা বন্ধ ছিল।

যে কারণে ওই ভবনে লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। বন্ধ না থাকলে আরও বেশি হতাহতের শঙ্কা ছিল। এই ভবনের আশপাশে একাধিক পলিথিন কারখানা রয়েছে বলে জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী আলী হোসেন বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে প্লাস্টিক কাঁচামাল থাকায় তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। আগুন এত বড় না হলেও ধোঁয়ার সমস্যার কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগে।

বাতাসের কারণে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রাও অংশ নেন আগুন নেভানোর কাজে। আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করব। কমিটি নিশ্চিত করবে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

তিনি বলেন, এই এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে গড়ে ওঠা ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া কারখানাগুলোও অবৈধ। ৩০নং দেবিদ্বার ঘাট এলাকার ৩ তলা ভবনের ওপরে টিনশেডের আরেক তলা করা হয়।

ভবনটির নিচতলায় একটি খাবার হোটেল ছিল, নাম বরিশাল রেস্তোরাঁ। দ্বিতীয় তলা ও তৃতীয় তলার ছিল প্লাস্টিকের গুদাম আর কারখানা। চতুর্থ তলায় প্লাস্টিকের খেলনার গুদামও আগুনে পুড়ে গেছে।

এছাড়া পাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বরিশাল হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে প্রথমে আগুন লাগে।

এরপর ওই আগুন ওপরে পলিথিন ও খেলনা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, যে ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেটাসহ আশপাশের কোনো ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি মানা হয়নি।

এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এত দেরি হয়েছে। লালবাগ পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে এসব কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

দেবিদ্বার ঘাটের চারতলা ওই ভবনের আগুন নেভানোর পর পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

প্রথমে কয়েকজন ঢুকলে তীব্র গ্যাসের কারণে বেরিয়ে আসেন তারা। পরে অক্সিজেন নিয়ে মুখে মাস্ক পরে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভান। ভলান্টিয়াররা জীবন হুমকিতে রেখেও সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন।

পুরান ঢাকায় ফের পোড়া লাশের গন্ধ

চকের আগুনে অঙ্গার ঘুমন্ত ৬ শ্রমিক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার বাতাসে ফের পোড়া লাশের গন্ধ। সোমবার চকবাজারের পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তারা ওই ভবনের নিচতলায় বরিশাল হোটেলের কর্মচারী।

হোটেলের ওপর মাচায় ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগায় বের হতে পারেনি। সেখানেই তারা পুড়ে মারা যায়। পোড়া হাত দেখে লাশের সন্ধান মেলে। শেষ মুহূর্তে আপনজনদের ফোন করেও সাহায্য পায়নি দুজন।

তাই নিয়ে আহাজারি করছেন স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধারের পর মিটফোর্ডে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দমকল বাহিনী। এর আগে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডি, ২০১৯ সালে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর ঘটে গেল আরেকটি ট্র্যাজেডি। 

বেলা সাড়ে ১১টায় চকবাজারের কামালবাগের ৩০নং দেবিদ্বার ঘাট এলাকার বরিশাল হোটেলের রান্নাঘরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে।

ভবনটির দোতলা, তিনতলা ও চারতলায় প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানা এবং এসব পণ্যের গুদাম রয়েছে। এ কারণে আগুনের ভয়াবহতা দ্রুত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকালে হাসপাতালের বাইরে নিহতদের স্বজনের কান্না আর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

প্রত্যেকেই তাদের স্বজনের ছবি নিয়ে বারবার ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শনাক্তের দাবি জানান। মর্গের সামনে আহাজারি করতে দেখা যায় ওসমানের খালাতো ভাই রুবেলকে। তিনি বলেন, ওসমান বরিশাল হোটেলে কাজ করত।

সে রাতে কাজ শেষে ওই হোটেলের সিলিংয়ের রুমে ঘুমিয়েছিল। আগুন লাগার পর সে আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, আগুন লেগেছে। বের হতে পারছি না। এরপর তার ফোন কেটে যায়। আর যোগাযোগ করতে পারিনি।

বিল্লালের শ্যালক মো. আব্দুল্লাহ ও ছোটভাই আইয়ুব আলী বলেন, বিল্লালও বরিশাল হোটেলের মেসিয়ার ছিলেন। নাইট ডিউটি করে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লাগার পর তিনি আয়ূব আলীকে ফোন করেছিলেন।

বলেছিলেন, হোটেলে আগুন লেগেছে, বের হতে পারছি না। আগুন নেভার পর বিকাল ৪টার দিকে হোটেলের ওপর যে মাচায় ঘুমাতেন কর্মীরা সেটাই দেখাচ্ছিলেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা।

ঠিক তখনই একজনের পোড়া হাত বের হয়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইকবাল নামের এক তরুণ।

তিনি জানালেন, তার ভাই ওসমান ওই রেস্তোরাঁয় রাতের পালার কর্মী। এরপরই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মই দিয়ে মাচায় উঠে একে একে ছয়জনের পোড়া দেহের সন্ধান পান। 

চকবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ূম জানিয়েছেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরা হলেন বরিশালের মুলাদি থানার টুমচর গ্রামের মৃত আলম সরদারের ছেলে বিল্লাল সরদার (৩৩), হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের রাকেশ সরকারের ছেলে স্বপন সরকার (২২), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বড় কাসমা গ্রামের আবুল কালাম সরদারের ছেলে আব্দুল ওয়াহাব ওসমান (২৭), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তিতচর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে শরীফ (১৫), বরিশালের হিজলা উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোতালেব (১৬), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ আকাল বরিশ গ্রামের হিলালুরের ছেলে রুবেল হোসেন। এরা সবাই বরিশাল হোটেলের কর্মচারী।

রাতভর কাজ করার পর সকালে সিলিংয়ের ওপরে একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন তারা। এই হোটেলেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় তারা আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। হোটেল থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারতলা ভবনে।

দ্রুত আশপাশের ভবনেও ছড়ায় আগুন। প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারখানার কারনে আগুনের সঙ্গে প্রচণ্ড ধোঁয়া হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় শোক দিবসের ছুটি থাকায় সোমবার কারখানা বন্ধ ছিল।

যে কারণে ওই ভবনে লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। বন্ধ না থাকলে আরও বেশি হতাহতের শঙ্কা ছিল। এই ভবনের আশপাশে একাধিক পলিথিন কারখানা রয়েছে বলে জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী আলী হোসেন বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে প্লাস্টিক কাঁচামাল থাকায় তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। আগুন এত বড় না হলেও ধোঁয়ার সমস্যার কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগে।

বাতাসের কারণে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রাও অংশ নেন আগুন নেভানোর কাজে। আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করব। কমিটি নিশ্চিত করবে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

তিনি বলেন, এই এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে গড়ে ওঠা ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া কারখানাগুলোও অবৈধ। ৩০নং দেবিদ্বার ঘাট এলাকার ৩ তলা ভবনের ওপরে টিনশেডের আরেক তলা করা হয়।

ভবনটির নিচতলায় একটি খাবার হোটেল ছিল, নাম বরিশাল রেস্তোরাঁ। দ্বিতীয় তলা ও তৃতীয় তলার ছিল প্লাস্টিকের গুদাম আর কারখানা। চতুর্থ তলায় প্লাস্টিকের খেলনার গুদামও আগুনে পুড়ে গেছে।

এছাড়া পাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বরিশাল হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে প্রথমে আগুন লাগে।

এরপর ওই আগুন ওপরে পলিথিন ও খেলনা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, যে ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেটাসহ আশপাশের কোনো ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি মানা হয়নি।

এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এত দেরি হয়েছে। লালবাগ পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে এসব কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

দেবিদ্বার ঘাটের চারতলা ওই ভবনের আগুন নেভানোর পর পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

প্রথমে কয়েকজন ঢুকলে তীব্র গ্যাসের কারণে বেরিয়ে আসেন তারা। পরে অক্সিজেন নিয়ে মুখে মাস্ক পরে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভান। ভলান্টিয়াররা জীবন হুমকিতে রেখেও সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন