ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
jugantor
উত্তরা ট্র্যাজেডি
ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
৪ জনকে জামালপুরে দাফন

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও জামালপুর প্রতিনিধি  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডারচাপায় প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ক্রেনচালকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে আরও আছেন চালকের সহকারী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।

র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) গ্রেফতারের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

গত সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারচাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ ৫ জন নিহত হন। আহত হন দুজন।

নিহতরা হলেন- রুবেল মিয়া (৫০), ঝর্ণা (২৮), ফাহিমা (৩৭), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। গাড়িতে থাকা হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামে নবদম্পতি বেঁচে যান।

ঘটনার দিন রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণার ভাই আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

মামলায় অবহেলাজনিতভাবে ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

চারজনকে জামালপুরে দাফন : গার্ডারচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে জামালপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলার আগ পয়লা গ্রামে ঝর্ণা বেগম ও তার দুই শিশুসন্তান জাকারিয়া ও জান্নাতের জানাজা হয়।

এরপর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়। আর রাত সাড়ে ১২টায় ইসলামপুর উপজেলার মধ্য ঢেংগারগড়ে গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় কনে রিয়া মনির মা ফাহিমা বেগমকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

দুই জানাজায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। তারা এই মৃত্যুকে হত্যা উল্লেখ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

লাশবাহী গাড়ি দুটি মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মেলান্দহ ও ইসলামপুরের বাড়িতে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। নিহতদের লাশ একনজর দেখতে ছুটে আসেন শত শত নারী-পুরুষ।

এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মর্মান্তিক এ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না এলাকাবাসী।

নিহত ঝর্ণার ছোট ভাই আফরান মন্ডল বাবু বলেন, ‘আমার দুই বোন ও ভাগ্নিদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের কাছে আমি এর বিচার চাই।’

নিহত ঝর্ণা ও ফাহিমার বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় জাহিদুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্ত্রীর বড় বোন ফাহিমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী ঝর্ণা দুই শিশু সন্তান জান্নাত ও জাকারিয়াকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় যাই। শনিবার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জরুরি কাজ থাকায় জামালপুরে ফিরে আসি। ঢাকাতেই রয়ে যায় দুই সন্তান ও স্ত্রী ঝর্ণা। আসার সময় ওদের বলে এসেছিলাম তোমরা ঢাকাতেই থাকো। আমি শুক্রবার তোমাদের এসে বাড়িতে নিয়ে যাব। কিন্তু সময়ের অপেক্ষা কেউ করল না। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবাই আমাকে ফেলে চলে গেল।’

এদিকে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ছায়াতদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

উত্তরা ট্র্যাজেডি

ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার

৪ জনকে জামালপুরে দাফন
 যুগান্তর প্রতিবেদন ও জামালপুর প্রতিনিধি 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডারচাপায় প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ক্রেনচালকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে আরও আছেন চালকের সহকারী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।

র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) গ্রেফতারের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

গত সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারচাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ ৫ জন নিহত হন। আহত হন দুজন।

নিহতরা হলেন- রুবেল মিয়া (৫০), ঝর্ণা (২৮), ফাহিমা (৩৭), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। গাড়িতে থাকা হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামে নবদম্পতি বেঁচে যান।

ঘটনার দিন রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণার ভাই আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

মামলায় অবহেলাজনিতভাবে ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

চারজনকে জামালপুরে দাফন : গার্ডারচাপায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে জামালপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলার আগ পয়লা গ্রামে ঝর্ণা বেগম ও তার দুই শিশুসন্তান জাকারিয়া ও জান্নাতের জানাজা হয়।

এরপর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়। আর রাত সাড়ে ১২টায় ইসলামপুর উপজেলার মধ্য ঢেংগারগড়ে গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় কনে রিয়া মনির মা ফাহিমা বেগমকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

দুই জানাজায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। তারা এই মৃত্যুকে হত্যা উল্লেখ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

লাশবাহী গাড়ি দুটি মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মেলান্দহ ও ইসলামপুরের বাড়িতে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। নিহতদের লাশ একনজর দেখতে ছুটে আসেন শত শত নারী-পুরুষ।

এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মর্মান্তিক এ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না এলাকাবাসী। 

নিহত ঝর্ণার ছোট ভাই আফরান মন্ডল বাবু বলেন, ‘আমার দুই বোন ও ভাগ্নিদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের কাছে আমি এর বিচার চাই।’

নিহত ঝর্ণা ও ফাহিমার বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় জাহিদুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্ত্রীর বড় বোন ফাহিমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী ঝর্ণা দুই শিশু সন্তান জান্নাত ও জাকারিয়াকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় যাই। শনিবার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জরুরি কাজ থাকায় জামালপুরে ফিরে আসি। ঢাকাতেই রয়ে যায় দুই সন্তান ও স্ত্রী ঝর্ণা। আসার সময় ওদের বলে এসেছিলাম তোমরা ঢাকাতেই থাকো। আমি শুক্রবার তোমাদের এসে বাড়িতে নিয়ে যাব। কিন্তু সময়ের অপেক্ষা কেউ করল না। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবাই আমাকে ফেলে চলে গেল।’

এদিকে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ছায়াতদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন