ক্রেনচালকসহ ১০ আসামি রিমান্ডে
jugantor
উত্তরার গার্ডার দুর্ঘটনা
ক্রেনচালকসহ ১০ আসামি রিমান্ডে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ক্রেনচালক আল-আমিন হোসেন ওরফে হৃদয়, রাকিব হোসেন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী শাহকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক ইয়াসীন গাজী। শুনানি শেষে বিচারক তাদের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া রুবেল, আফরোজ মিয়া, ইফতেখার হোসেন, আজহারুল ইসলাম মিঠু, তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুষার, রুহুল আমিন মৃধা ও মঞ্জুরুল ইসলামকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার রাতে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াসীন গাজী যুগান্তরকে বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিকভাবে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার জানিয়েছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। নিরাপত্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি এ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কনসালট্যান্ট ফার্ম ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কেউ এ অবহেলাজনিত দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।

১৫ আগস্ট বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার আছড়ে পড়ে প্রাইভেটকারের পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়। ওই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়ামনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। হতাহতরা বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন।

ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা ও ঝরণার ভাই আফরান মণ্ডল বাবু উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্রেনচালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার চাপায় মানুষের মৃত্যুকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, পরামর্শক ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর অবহেলা, উদাসীনতা ও গাফিলতিজনিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সেইসঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার রাতে আইপিডি নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান এমন দাবি জানান।

উত্তরার গার্ডার দুর্ঘটনা

ক্রেনচালকসহ ১০ আসামি রিমান্ডে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ক্রেনচালক আল-আমিন হোসেন ওরফে হৃদয়, রাকিব হোসেন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী শাহকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক ইয়াসীন গাজী। শুনানি শেষে বিচারক তাদের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া রুবেল, আফরোজ মিয়া, ইফতেখার হোসেন, আজহারুল ইসলাম মিঠু, তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুষার, রুহুল আমিন মৃধা ও মঞ্জুরুল ইসলামকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার রাতে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াসীন গাজী যুগান্তরকে বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিকভাবে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার জানিয়েছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। নিরাপত্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি এ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কনসালট্যান্ট ফার্ম ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কেউ এ অবহেলাজনিত দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।

১৫ আগস্ট বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার আছড়ে পড়ে প্রাইভেটকারের পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়। ওই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়ামনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। হতাহতরা বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন।

ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা ও ঝরণার ভাই আফরান মণ্ডল বাবু উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্রেনচালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার চাপায় মানুষের মৃত্যুকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, পরামর্শক ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর অবহেলা, উদাসীনতা ও গাফিলতিজনিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সেইসঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার রাতে আইপিডি নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান এমন দাবি জানান।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন