আল্লাহর গুণাবলী অর্জনের সময় বয়ে যায়

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাফেজ মুফতি তানজিল আমির

আল্লাহতায়ালা কোরআনে বান্দাদের তার রঙে রঙিন হওয়ার আদেশ দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তোমরা বলো, আমরা গ্রহণ করেছি আল্লাহর রং। আল্লাহর রঙের চেয়ে কার রং উত্তম? এবং আমরা তাঁরই ইবাদত করি।’ [সূরা বাকারা : ১৩৮]।

আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎকৃষ্ট সময় হল রমজান। আর রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ সময় হল শেষের দিনগুলো। পবিত্র এ মাসের অধিকাংশ দিনই বিদায় নিয়েছে আমাদের থেকে। আর মাত্র তিনটি দিন বাকি। এখনই হিসাব মিলাতে হবে, বিশ্বজনীন এ ক্ষমা ও পুণ্য লাভের মাসে আমার সংগ্রহ কতটুকু? খোদার কাছ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নিতে পেরেছি কি? আমি কি পেরেছি আল্লাহর রঙে রঙিন হতে?

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একবার রমজান মাস এলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ মাস তোমাদের কাছে এসেছে, এতে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে সব ধরনের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। মূলত এর কল্যাণ থেকে চিরবঞ্চিত ব্যক্তিরাই বঞ্চিত ব্যক্তি। [ইবনে মাজাহ]।

ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে মানুষের হায়াত খুবই অল্প। এ সময়ে মানুষের কর্তব্য কী? আল্লাহতায়ালাই ঘোষণা করছেন- ‘সময়ের শপথ, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে, কিন্তু (তারা নয়) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং যারা পরস্পরকে সত্যের তাকিদ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের সবক দিয়েছেন (সূরা আস্র)। অর্থাৎ বিশ্বের সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে যদি তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত না হয়।

ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চারটি কাজ জরুরি। প্রথম, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কিত তাদের সব হিদায়াত ও ওয়াদার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা। দ্বিতীয়, এই বিশ্বাসের কার্যকারিতা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে (অর্থাৎ কাজে) প্রকাশ করা। তৃতীয়, শুধু ব্যক্তি জীবনের কল্যাণ ও সফলতা নিয়েই সন্তুষ্ট না থাকা, বরং জাতি ও মিল্লাতের সামগ্রিক মঙ্গল ও উন্নতির প্রতি লক্ষ্য রাখা। সে বিষয়ে একে অন্যকে দাওয়াত দেয়া। চতুর্থ, বিপদাপদ যতই আসুক না কেন, তা পূর্ণ ধৈর্য ও স্থিরতার সঙ্গে সহ্য করা ও কল্যাণের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়া। [তাফসিরে উসমানী]।

রমজান মাসের যাবতীয় আমল ও কল্যাণগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা দেখব যে, রোজার সামগ্রিক শিক্ষাও এটি। মানুষের ঈমান আমলের সংশোধন, ব্যক্তিজীবনে তার প্রতিফলন, পরোপকার ও হিতকামী মনন ও দুঃখ-কষ্টে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখা এগুলোর প্রশিক্ষণই নিতে হয় রমজানে। রোজায় নিজের দেহ ও মনকে পূর্ণভাবে আল্লাহর রঙে রাঙিয়ে নিতে হবে। তবেই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ পাবে তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা।

হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহর রং বা গুণ কী? তা হল আল্লাহতায়ালার গুণবাচক ৯৯ নাম। আল্লাহর নামাবলী আত্মস্থ করার বা ধারণ করার অর্থ হল সেগুলোর ভাব ও গুণ অর্জন করা এবং সেসব গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য কাজকর্মে, আচরণে প্রকাশ করা তথা নিজেকে সেসব গুণের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা।

তাই রমজানের শেষ সময়টুকুতে আমাদের করণীয় হবে আল্লাহপাকের নামগুলোর জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করে এর ভাব-প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য অর্জন করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার চেষ্টা করা। আজীবন তার ধারকবাহক হয়ে তা বিতরণ করা তথা আল্লাহর গুণাবলী নিজের মাধ্যমে তার সৃষ্টির কাছে পৌঁছে দেয়া।

লেখক : তরুণ আলেম ও গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]