বেড়েছে চাল ডাল আটা ময়দার দাম
jugantor
বেড়েছে চাল ডাল আটা ময়দার দাম

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৮ টাকা। সঙ্গে ডাল ও আটা-ময়দা কিনতে ক্রেতার বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে সরকার প্রতি কেজি চিনি ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করলেও তা অকার্যকর। সঙ্গে আলু, হলুদ-মরিচ ও আদার দাম আরেক দফা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও নয়াবাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন বলেন, চালের সরবরাহ পর্যপ্ত থাকার পরও দাম আবারও হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে। যে সরু চাল গত সপ্তাহে ৭২ টাকায় বিক্রি করেছি তা আজ (বৃহস্পতিবার) ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। পাশাপাশি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৫২-৫৪ টাকায় বিক্রি করছি। তিনি জানান, মিলাররা আবারও চালের দাম বাড়িয়েছে। যে কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকা ও প্রতি লিটার পাম তেলের (সুপার) দাম ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যা ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা। আর প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৩৮টাকা, যা খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক খুচরা বাজারের পণ্য মূল্যতালিকায় লক্ষ করা গেছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. হাসান বলেন, গত সপ্তাহে সরু মসুর ডাল ১৩০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ১৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। সঙ্গে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৮ টাকা ছিল। খোলা ময়দা বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৪ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলু বিক্রি হয়েছে ৩০-৩২ টাকা, যা আগে ২৮ টাকা ছিল। প্রতি কেজি আমদানি করা হলুদ ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি শুকনা মরিচ ১০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর প্রতি কেজি দেশি আদা ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ১১৫ টাকা ছিল।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করেছি। কী কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অসাধুরা যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানায়, গত সপ্তাহে ১৭০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি হালি ডিম কিনতে ক্রেতার ৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতি পিস ডিমের দাম দাঁড়ায় ১২ টাকা ৫ পয়সা। তবে এক পিস ডিম কিনতে ক্রেতাকে ১৩ টাকা গুনতে হচ্ছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা হেলেনা আক্তার বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। একটি পণ্যের দাম কমলে অন্য আরেকটি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। আমরা ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ঠকছি।

বেড়েছে চাল ডাল আটা ময়দার দাম

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৮ টাকা। সঙ্গে ডাল ও আটা-ময়দা কিনতে ক্রেতার বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে সরকার প্রতি কেজি চিনি ও পাম তেলের দাম নির্ধারণ করলেও তা অকার্যকর। সঙ্গে আলু, হলুদ-মরিচ ও আদার দাম আরেক দফা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও নয়াবাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন বলেন, চালের সরবরাহ পর্যপ্ত থাকার পরও দাম আবারও হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে। যে সরু চাল গত সপ্তাহে ৭২ টাকায় বিক্রি করেছি তা আজ (বৃহস্পতিবার) ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। পাশাপাশি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৫২-৫৪ টাকায় বিক্রি করছি। তিনি জানান, মিলাররা আবারও চালের দাম বাড়িয়েছে। যে কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকা ও প্রতি লিটার পাম তেলের (সুপার) দাম ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যা ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা। আর প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৩৮টাকা, যা খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক খুচরা বাজারের পণ্য মূল্যতালিকায় লক্ষ করা গেছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. হাসান বলেন, গত সপ্তাহে সরু মসুর ডাল ১৩০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ১৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। সঙ্গে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৮ টাকা ছিল। খোলা ময়দা বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৪ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলু বিক্রি হয়েছে ৩০-৩২ টাকা, যা আগে ২৮ টাকা ছিল। প্রতি কেজি আমদানি করা হলুদ ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি শুকনা মরিচ ১০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর প্রতি কেজি দেশি আদা ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ১১৫ টাকা ছিল।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করেছি। কী কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অসাধুরা যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানায়, গত সপ্তাহে ১৭০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি হালি ডিম কিনতে ক্রেতার ৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতি পিস ডিমের দাম দাঁড়ায় ১২ টাকা ৫ পয়সা। তবে এক পিস ডিম কিনতে ক্রেতাকে ১৩ টাকা গুনতে হচ্ছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা হেলেনা আক্তার বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। একটি পণ্যের দাম কমলে অন্য আরেকটি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। আমরা ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ঠকছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন