মিলারদের কারসাজি, ফের বেড়েছে চালের দাম
jugantor
বাজারে ক্রেতার হাঁসফাঁস
মিলারদের কারসাজি, ফের বেড়েছে চালের দাম

  ইয়াসিন রহমান  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই মাস ধরে নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। কখনো ধানের দাম বেশি, আবার সরবরাহ কম-এমন অজুহাত দেখানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির অজুহাতও দেখানো হয়েছে।

তবে সর্বশেষ কম মূল্যের চাল প্যাকেট করে বেশি দামে বিক্রি করায় মিলাররা নতুন মোড়কে কারসাজির সুযোগ নিয়েছে। তারা মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতিবস্তা চালে (৫০ কেজি) ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম আবারও হু-হু করে বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এতে বাজারে চাল কিনতে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দুই মাস আগে সেই মিলারদের কারণেই অস্থির হয়ে ওঠে চালের বাজার। তখন বাজার স্বাভাবিক রাখতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানি শুরু হলে দেখা যায় ডলারের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা চালের দাম বেশি হয়। ওই সুযোগে আগস্টে মিলাররা সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকেজি মোটা চাল তখন ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। সরু চালের দাম দাঁড়ায় ৮৫-৯০ টাকা।

তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদারের সঙ্গে দুদফায় আমদানি শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে ওএমএস শুরু হয়। এতে চালের দাম কমতে থাকে। তবে ভারত শুধু আতপ চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে মিলাররা ফের কারসাজির সুযোগ নেয়। সেপ্টেম্বরের প্রথমদিকে চালের বস্তায় ১০০ টাকা বাড়ালেও এখন ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করতে সুযোগ খোঁজেন। অজুহাত পেলেই তারা সেটা কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট কাটেন। এবারও সেটাই হচ্ছে। তাই কঠোরভাবে বাজার তদারকি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম ক্রেতার নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।

শুক্রবার নওগাঁ ও দিনাজপুরের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৩৪৫০-৩৫০০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নাজিরশালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ৩৫৫০ টাকা। যা আগে ৩৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের চালের মধ্যে বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২৫৫০ টাকা। যা আগে ২৪৫০ টাকা ছিল। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ২৩৫০ টাকা। যা এক মাস আগে ২২৫০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ দিন রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি চালের আড়ত মদিনা রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিলাররা চালের দাম বাড়ানোর জন্য সুযোগ খোঁজে। তারা কোনো ইস্যু পেলে দাম বাড়ায়। এবার তারা প্যাকেট চালের সঙ্গে তুলনা করে চালের দাম বস্তায় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। সে কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে আমরা পাইকারি বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল ৩৬০০ টাকায় বিক্রি করছি। যা আগে ৩৪৫০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। বিআর ২৮ চাল বিক্রি করছি ২৬৫০-২৭০০ টাকা, যা আগে ২৬০০ টাকা ছিল। স্বর্ণা জাতের মোটা চাল প্রতিবস্তা বিক্রি করছি ২৫০০ টাকা। যা এক মাস আগে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র কিছুদিন পরপর চালের দাম বাড়াচ্ছে। কিন্তু বাজারে ও মিলে চালের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দোকানে চাল শেষ হলে পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখি দাম বেশি। তাই বেশি দামে এনে সপ্তাহ ধরে বেশি দামে বিক্রি করছি। তাই খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৭৫-৭৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি করেছি। পাশাপাশি প্রতিকেজি নাজিরশাল বিক্রি হয়েছে ৮৫-৮৬ টাকা। যা আগে ৭৮-৮০ টাকা ছিল। স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৫৪-৫৫ টাকা। যা আগে ৫০-৫২ ছিল।

একই বাজারে চাল কিনতে আসা মো. ইব্রাহিম বলেন, চাল কিনতেই সংসার খরচের অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে যায়। কিছুদিন পর পর এমন চালের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। বাজারে পর্যাপ্ত চাল আছে। তারপরও কেন বাড়াচ্ছে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এবার ভালোভাবে দেখতে হবে। তা না হলে খেয়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়বে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, কোনো সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ভোগান্তিতে ফেলে। এবারও তাই হয়েছে, তবে ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, কম দামে মিল থেকে চাল সংগ্রহ করে প্যাকেট করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী ওই সব প্যাকেট চালে ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি লাভ করেছে। এজন্য এই সুযোগে মিল থেকে শুরু করে বাজারে খোলা চালের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে। আমাদের পাশাপাশি তারাও ব্যবস্থা নিয়েছে। সর্বশেষ কিছু কোম্পানি ও মিলারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। শুনানির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

বাজারে ক্রেতার হাঁসফাঁস

মিলারদের কারসাজি, ফের বেড়েছে চালের দাম

 ইয়াসিন রহমান 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই মাস ধরে নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। কখনো ধানের দাম বেশি, আবার সরবরাহ কম-এমন অজুহাত দেখানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির অজুহাতও দেখানো হয়েছে।

তবে সর্বশেষ কম মূল্যের চাল প্যাকেট করে বেশি দামে বিক্রি করায় মিলাররা নতুন মোড়কে কারসাজির সুযোগ নিয়েছে। তারা মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতিবস্তা চালে (৫০ কেজি) ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম আবারও হু-হু করে বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এতে বাজারে চাল কিনতে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দুই মাস আগে সেই মিলারদের কারণেই অস্থির হয়ে ওঠে চালের বাজার। তখন বাজার স্বাভাবিক রাখতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানি শুরু হলে দেখা যায় ডলারের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা চালের দাম বেশি হয়। ওই সুযোগে আগস্টে মিলাররা সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকেজি মোটা চাল তখন ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। সরু চালের দাম দাঁড়ায় ৮৫-৯০ টাকা।

তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদারের সঙ্গে দুদফায় আমদানি শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে ওএমএস শুরু হয়। এতে চালের দাম কমতে থাকে। তবে ভারত শুধু আতপ চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে মিলাররা ফের কারসাজির সুযোগ নেয়। সেপ্টেম্বরের প্রথমদিকে চালের বস্তায় ১০০ টাকা বাড়ালেও এখন ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করতে সুযোগ খোঁজেন। অজুহাত পেলেই তারা সেটা কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট কাটেন। এবারও সেটাই হচ্ছে। তাই কঠোরভাবে বাজার তদারকি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম ক্রেতার নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।

শুক্রবার নওগাঁ ও দিনাজপুরের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৩৪৫০-৩৫০০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নাজিরশালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ৩৫৫০ টাকা। যা আগে ৩৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের চালের মধ্যে বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২৫৫০ টাকা। যা আগে ২৪৫০ টাকা ছিল। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ২৩৫০ টাকা। যা এক মাস আগে ২২৫০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ দিন রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি চালের আড়ত মদিনা রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিলাররা চালের দাম বাড়ানোর জন্য সুযোগ খোঁজে। তারা কোনো ইস্যু পেলে দাম বাড়ায়। এবার তারা প্যাকেট চালের সঙ্গে তুলনা করে চালের দাম বস্তায় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। সে কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে আমরা পাইকারি বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল ৩৬০০ টাকায় বিক্রি করছি। যা আগে ৩৪৫০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। বিআর ২৮ চাল বিক্রি করছি ২৬৫০-২৭০০ টাকা, যা আগে ২৬০০ টাকা ছিল। স্বর্ণা জাতের মোটা চাল প্রতিবস্তা বিক্রি করছি ২৫০০ টাকা। যা এক মাস আগে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র কিছুদিন পরপর চালের দাম বাড়াচ্ছে। কিন্তু বাজারে ও মিলে চালের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দোকানে চাল শেষ হলে পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখি দাম বেশি। তাই বেশি দামে এনে সপ্তাহ ধরে বেশি দামে বিক্রি করছি। তাই খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৭৫-৭৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি করেছি। পাশাপাশি প্রতিকেজি নাজিরশাল বিক্রি হয়েছে ৮৫-৮৬ টাকা। যা আগে ৭৮-৮০ টাকা ছিল। স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৫৪-৫৫ টাকা। যা আগে ৫০-৫২ ছিল।

একই বাজারে চাল কিনতে আসা মো. ইব্রাহিম বলেন, চাল কিনতেই সংসার খরচের অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে যায়। কিছুদিন পর পর এমন চালের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। বাজারে পর্যাপ্ত চাল আছে। তারপরও কেন বাড়াচ্ছে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এবার ভালোভাবে দেখতে হবে। তা না হলে খেয়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়বে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, কোনো সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ভোগান্তিতে ফেলে। এবারও তাই হয়েছে, তবে ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, কম দামে মিল থেকে চাল সংগ্রহ করে প্যাকেট করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী ওই সব প্যাকেট চালে ব্যবসায়ীরা ১৩ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি লাভ করেছে। এজন্য এই সুযোগে মিল থেকে শুরু করে বাজারে খোলা চালের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে। আমাদের পাশাপাশি তারাও ব্যবস্থা নিয়েছে। সর্বশেষ কিছু কোম্পানি ও মিলারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। শুনানির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন