রাজশাহী সিলেট বরিশাল

প্রার্থী বাছাইয়ে তোড়জোড়

রাজশাহীতে আ’লীগের লিটন, বিএনপির বুলবুল, সিলেটে আ’লীগের কামরান, বিএনপির আরিফুল বরিশালে চমক আসছে দু’দলেই * মেয়র পদে বিএনপির ফরম বিক্রি আজ, আ’লীগের শুরু, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত * আজ ২০ দলীয় জোটের বৈঠক, আ’লীগের শুক্রবার

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রেজাউল করিম প্লাবন ও তারিকুল ইসলাম

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের উত্তাপ এখন সর্বত্র। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

তবে সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর দিকে। কে পাচ্ছেন এই বড় দুই দলের সমর্থন তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। উভয় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ লাইন অনুযায়ী তদবির ও লবিং করছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় দলগুলোও প্রার্থী বাছাইয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তিন সিটিতেই মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী মাঠে আছেন। মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী সংখ্যা কিছুটা কম হলেও কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ফলে সব জায়গায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করাও দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে সরকারের শেষ সময়ে তিন সিটিতে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে মরিয়া আওয়ামী লীগ। রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে জয় চায় শাসক দল। জয় চায় বিএনপিও।

এজন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এখনই প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখছে। তবে দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সিটি নির্বাচন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা আছে। একদিকে দলের নেতারা তিন সিটির প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। সেখানে অনিয়ম হলে রাজশাহী সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে দলটি।

সিটি নির্বাচন সামনে রেখে করণীয় ঠিক করতে আজ ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুসারে ৩০ জুলাই এ তিন সিটিতে হবে ভোট গ্রহণ। ১৩ জুন থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ জুন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ ও ২ জুলাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জুলাই। ১০ জুলাই এ সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার।

তিন সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে উভয় দল। আওয়ামী লীগ ১৮ জুন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুর করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এই ফরম বিক্রি হচ্ছে।

চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। ২২ জুন দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আজ বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হবে। একদিনই ফরম বিক্রি করা হবে। যারা ফরম কিনবেন তাদের মাঝ থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগ : তিন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। রাজশাহীতে একক প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত হলেও বরিশাল ও সিলেটে বেঁকে বসেছেন একাধিক নেতা। ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি সিটি নেতারা কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী নির্ধারণে নাম আহ্বান করেছেন। জয় নিশ্চিত করতে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজও করছেন তারা। এছাড়া কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিরোধ ও জোট শরিকদের পাওয়া না পাওয়ার কষ্ট প্রশমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।

আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বরিশালে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের দুই নেতা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ও নগর আওয়ামী লীগ সদস্য মাহামুদুল হক খান মামুন।

তবে এখানে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী হিসেবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম প্রায় চূড়ান্ত। সোমবার সার্কিট হাউসে প্রথমে বর্ধিত সভা করে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ।

সেখানে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে মেয়র পদে প্রার্থী করার জন্য সুপারিশ করে।

পরে একই স্থানে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মহানগরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা ও সমর্থন প্রকাশ করা হয়। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর জানান, ‘সিদ্ধান্তের এসব রেজুলেশনের কপি কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।’

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে আগেই সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে এই সিটিতে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করায় বর্ধিত সভায় নেতারা পাঁচজনের নাম চূড়ান্ত করেছেন।

এরা হলেন- সিলেট মহাগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার, অধ্যাপক জাকির হোসেন ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ।

দলের সবুজ সংকেত পাওয়া প্রার্র্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, একক প্রার্থী হিসেবে আমি মাঠে আছি এবং থাকব। যারাই দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারাও দলের নির্দেশে আমার সঙ্গেই থাকবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন। ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।

রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিটনের প্রার্থিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়ায় এখানে দলের অন্য কোনো প্রার্থী নেই।

তাই জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। সোমবার রাজশাহী মহানগর ১৪ দলের সভায় লিটনকে একক প্রার্থী ঘোষণা করে জোটটি। একই সঙ্গে তারা কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী নির্ধারণেও কাজ শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তা প্রমাণে খুলনার পরে গাজীপুর এবং তিন সিটিতে জয় নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা।

তবে খুলনার মতো বাকি সিটিতে জয় সহজ হবে না বলে মনে করেন দলের অনেক নেতা। কারণ সিটিগুলোতে একাধিক প্রার্থী মাঠে। আছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ছড়াছড়ি।

১৪ দলের পক্ষ থেকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও ছাড় দেবে না কাউন্সিলদের। সব মিলে আসন্ন এই তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী বাছাই ও জোটের মন রক্ষায় বেশ ঝামেলা পোহাতে হবে আওয়ামী লীগকে।

বিএনপি : রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। রাজশাহীতে বর্তমান মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সিলেটে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দলের প্রার্থী হচ্ছেন।

তবে বরিশালে মেয়র পদে পরিবর্তন হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে খুলনার মতো বরিশালেও চমক থাকতে পারে। সাবেক মেয়র ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারের হাতে ধানের শীষ তুলে দিতে পারে দলের হাইকমান্ড।

রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী নিয়ে দুশ্চিন্তায় দলটি। জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরের ভারপ্রাপ্ত আমীর সিদ্দিক হোসাইন এবং জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর শাখার আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তিন সিটি নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে সিলেট ও রাজশাহীর মেয়রসহ স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

রাজশাহীর নেতাদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বর্তমান মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

আর সিলেট থেকে শুধু বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন। বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা কী বলেছেন জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, আমাকে মনোনয়নপত্র তুলে রাখতে বলেছেন। নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিনা বা কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা ২৭ জুন কেন্দ্র থেকে জানানো হবে।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দল তিন সিটি নির্বাচনে যাবে কিনা তা গাজীপুর নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে। গাজীপুরে খুলনা স্টাইলে নির্বাচন হলে ভোটে যাওয়া নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করা হবে। এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রস্তুতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। আমরা বলেছি রাজশাহীবাসী ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমরাও প্রস্তুত আছি। রাজশাহীর সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছে।

এদিনের বৈঠকে মূলত রাজশাহীর বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দলের প্রার্থিতার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। এদিন বরিশালের কোনো নেতাকে ডাকা হয়নি।

তিন সিটিতে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার পরই বোঝা যাবে তিন সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির কতজন প্রার্থী। সাক্ষাৎকার শেষে যথাসময়ে প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে। বিগত নির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন বাছাইয়ে তালিকার উপরের দিকেই থাকবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আগ্রহীদের বুধবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বলেছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা যাবে। পরদিন বৃহস্পতিবার তা জমা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম কিনতে হবে ১০ হাজার টাকায়; জমা দেয়ার সময়ে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার কবে হবে, তা পরে জানানো হবে বলেও জানান রিজভী।

২০১৩ সালের ১৫ জুন একযোগে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সব সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ও দু’বারের নির্বাচিত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়ে ইতিমধ্যে আরিফ তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার পর ২ বছর কারাভোগ নগরবাসীর কাছে তার সহানুভূতির জায়গা করে নিয়েছে। তিনিই নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমান মেয়র ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও টানা তিন বারের সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষের রায় নিয়ে গত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম। বাকি সময়ে প্রতিশ্র“ত উন্নয়নকাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি দলীয় কাজেও সময় দিয়েছি। দল নিশ্চয়ই এসব বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে।

এদিকে প্রকাশ্যে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও সাবেক মেয়র ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারের হাতে ধানের শীষ তুলে দিতে পারে দলটির হাইকমান্ড। দলের নীতিনির্ধারকের সিদ্ধান্ত মেনে শেষ পর্যন্ত সরোয়ারই হতে পারেন বরিশালের বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

জানতে চাইলে মজিবুর রহমান সরোয়ার যুগান্তরকে বলেন, আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চাই। তারপরও দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। আর কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের কথাও ভাবা হচ্ছে। বরিশালে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের জনপ্রিয়তা খুবই কম বলে কেন্দ্রে অভিযোগ আছে। তবে তিনিও দলের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি এবায়েদুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আফরোজা নাসরিনও মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

কাউন্সিলর পদে বরিশালে আ’লীগের সমর্থন চান ৮৬ নেতা : এদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে সিটি নির্বাচনের তোড়জোড় বেশি আওয়ামী লীগে। বিএনপি অনেকটাই চুপচাপ। বড় এ দু’দলের পাশাপাশি এখানে মেয়র পদে মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুবের নাম ঘোষণা করেছে চরমোনাই পীরের সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে বেশ জোরেশোরেই বইতে শুরু করেছে সিটি নির্বাচনের হাওয়া।

মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোড়ের পাশাপাশি এখানে ৩০টি ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনের কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন প্রশ্নেও কাজ করছে আওয়ামী লীগ। এর আগে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। সোমবার রাতে শেষ সময় পর্যন্ত ৮৬ জন আবেদন জমা দেন। এদের মধ্যে ২০ জন সংরক্ষিত এবং ৬৬ জন সাধারণ আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন।

রাজশাহীতে ১৩৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে অংশ নিতে ১৩৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র তোলেননি। যারা মনোনয়নপত্র তুলেছেন তারা সবাই সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থী। এর মধ্যে কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৯৬ জন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৩৮ জন। মঙ্গলবারই এদের মধ্যে ৩২ জন কাউন্সিলর ও ১৭ জন নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

সিলেটে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৫৫ জন : সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে মেয়র পদের চেয়ে এ মুহূর্তে সিটি নেতারা বেশি ব্যস্ত কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত মেয়র, কাউন্সিরল ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫৫ জন মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন, ২৭টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৫ জন ও ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।