নির্বাচন কমিশনের হুশিয়ারি

গাজীপুরে ভোট সুষ্ঠু না হলেই ব্যবস্থা

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দায়ী কর্মকর্তার সাজা হবে * আচরণবিধি লংঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল * সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আ’লীগ ও বিএনপিসহ সব প্রার্থীর * এই প্রথম সিটি নির্বাচনে পাঁচ কমিশনারের একসঙ্গে সফর * ভোটের দিন শ্রমিকদের কেন্দ্রে টানতে আজ * বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে বৈঠক

  কাজী জেবেল ও সামসুল হক রিপন, গাজীপুর থেকে ২১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রার্থীদের কেউ আচরণ বিধিমালা লংঘন করে ভোট গ্রহণে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তার বা তাদের প্রার্থিতা বাতিলের হুমকি দিয়েছে কমিশন। ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক বা অতিউৎসাহী কর্মকাণ্ড দেখলে তা সরাসরি সিইসিকে জানাতে প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার গাজীপুর সিটি এলাকায় আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনাররা এসব কথা বলেন। সিইসি বলেছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, গ্রহণযোগ নির্বাচন হবে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় এর জন্য যিনিই দায়ী হবেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমাদের যে পর্যন্ত যাওয়া দরকার হয় সে পর্যায়ে আমরা যাব। এ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না বলেও জানান তিনি। সভায় বলা হয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের (ভোট গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের শাস্তি দেয়া হবে। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ আইনে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, পদাবনতিসহ বিভিন্ন সাজার বিধান রয়েছে। এছাড়া মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের কেউ আচরণ বিধিমালা লংঘন করে ভোট গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অপরদিকে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রার্থীরাও, ভোট গ্রহণের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান। নির্বাচনে বহিরাগত বা প্রভাবশালী মহল যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে এবং টাকার বিনিময়ে যাতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে সে বিষয়ে ইসির কঠোর ভূমিকা দেখতে চান তারা। খুলনা সিটির মতো নির্বাচন গাজীপুরে দেখতে চান না। গাজীপুরের প্রভাব সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পড়বে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বুধবার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বেশি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সিইসিসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনার। এতে নির্বাচন পরিস্থিতি, প্রার্থীদের গতিবিধি ও ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নগরীর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কমিশনাররা। দুই বৈঠকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, গাজীপুরের ডিসি, এসপি, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। নির্বাচন নিয়ে এখনও তাদের কোনো শঙ্কা নেই বলে তারা সভাকে অবহিত করেন।

ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিরূপ সমালোচনা থাকায় নির্বাচন কমিশন গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো সিইসিসহ পাঁচজন কমিশনার একই সঙ্গে গাজীপুর সফর করলেন। স্থানীয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন।

ওই সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ, র‌্যাবের মোবাইল ফোর্সের প্রধান ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের প্রধানসহ সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫০৩ কর্মকর্তাকে আগামী ২৪ জুন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ভোটের দিন তাদের দায়-দায়িত্ব এবং দায়িত্বে অবহেলার সাজা সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুরে দুই লাখের বেশি ভোটার শ্রমিক। ভোটের দিন শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। এ বৈঠকে ভোটের দিন শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখতে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল একই দিন ঘোষণা করেছিল ইসি। তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির প্রজ্ঞাপন ও নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশন পৃথক তিনটি আবেদন করে। শুনানি শেষে ১০ মে আপিল বিভাগ এই নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করে ২৮ জুনের মধ্যে এ নির্বাচন করতে বলেন। এরপর ১৩ মে ইসির এক সভায় ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৮০ দিন পার করল গাজীপুরবাসী। ইতোমধ্যে গত ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুরে ভোট সুষ্ঠু না হলে ব্যবস্থা : গাজীপুর সিটির ভোট সামনে রেখে মাত্র পাঁচ দিন আগে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন পাঁচ কমিশনার। বেলা ১১টা থেকে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সমন্বয় কমিটির বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এ সভায় কমিশন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামত নেন। জানা গেছে, সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কমিশনকে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে বলে জানান। তারা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৮০ দিন পার হল, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। আচরণ বিধিমালার তেমন কোনো লঙ্ঘন দেখা যায়নি। ছোটখাটো যেসব ঘটনা ঘটছে তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। বৈঠকে কমিশনাররা কর্মকর্তাদের ইসির নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেন। সব প্রার্থী যেন নির্বাচনে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) পান সেই পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। অন্যথায় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন। এ আইনে চাকুরিচ্যুত, বরখাস্ত, পদাবনতিসহ বিভিন্ন সাজার বিধান রয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সিইসি কেএম নুরুল হুদা বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে বৈঠক করেছি। এ বৈঠক সফল হয়েছে। আমরা আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় এর জন্য যিনিই দায়ী হবেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনত ব্যবস্থা নিতে আমাদের যে পর্যায়ে যাওয়া দরকার হয় সে পর্যায়ে আমরা যাব। তিনি বলেন, সবাই ২৬ জুন সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

খুলনায় সিটি নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, গাজীপুরে এরই প্রতিফলন ঘটবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, প্রশাসন নির্বাচন ‘স্টাফিং’ (ভোট জালিয়াতি) করেছে- এই বক্তব্য আমি প্রত্যাখ্যান করি। প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, নির্বাচন (গাজীপুর সিটি) সুষ্ঠু করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। কোনো কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বা প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, স্ট্যাফিং করার জন্য কিছু দুষ্কৃতকারী থাকে, তারা চেষ্টা করে। খুলনায় ৪-৫টা কেন্দ্রে তারা স্ট্যাফিং করার সুযোগ পেয়েছে। অন্যান্য কেন্দ্রে স্ট্যাফিং হয়নি। সেগুলোতে ভালো নির্বাচন হয়েছে। খুলনার ঘটনা গাজীপুরে পুনরাবৃত্তি হবে না। আমরা সতর্কমূলক অবস্থানে আছি। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগের প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিতে হবে। আর সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে কোনো সেনা মোতায়েন হবে না। তিনি বলেন, গাজীপুরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

নির্বাচনের দিন ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত- এমন উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে সিইসি বলেন, গাজীপুর এত বড় সিটি। তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত এখানে (গাজীপুর) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি, নির্বাচনের দিনও পরিবেশ ভালো থাকবে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আ’লীগ-বিএনপি সবার : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা। একই দাবি কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও। তারা, টাকা ও প্রভাবশালীদের দাপটমুক্ত নির্বাচন চান। বহিরাগতরা নির্বাচনে যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে সেই পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান। বুধবার নগরীর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র ও কাউন্সিলররা এসব দাবি জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দীন মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিইসি ও চার কমিশনার, ইসি সচিব, সাত মেয়র প্রার্থী ও বিপুলসংখ্যক কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অংশ নেন। সভায় ভোটের দিন গুজব না ছড়াতে প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। নির্বাচন কমিশনকে সবাই সহযোগিতা না করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি দল গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় প্রেস ব্রিফিং করে। তারা গাজীপুরের জনগণের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, কেউ কেউ লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে কুৎসা রটাচ্ছে। গাজীপুরে বহিরাগতরা এসে সরকার, নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এসব তৎপরতা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে সিইসিকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আগামী ২৬ জুন গাজীপুর নির্বাচনের ভোট উৎসব হবে। এ নির্বাচনে সিল মারো ভাই সিল মারো- সেই সুযোগ দেয়া হবে না।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ইসির উদ্দেশে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করুন, জনগণ অনাদিকাল মনে রাখবে। ক্ষমতায় থাকায় সরকারি দল কিছু সুবিধা পাবে তা আমরা জানি। কিন্তু হাইওয়েতে সরকারি দলের প্রার্থীর এখনও বড় বড় ব্যানার রয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ করে প্রতিকার পাইনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে কালো টাকার কাছে হাঁপিয়ে উঠছি। ভোটের দুদিন আগে সব মেয়র প্রার্থীকে এক জায়গায় রেখে সুষ্ঠু ভোট করুন, জনগণ যে রায় দেবে তা মেনে নেব।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মো. নাসির উদ্দীন বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে কীভাবে ৯৫ ও ৯৮ শতাংশ ভোট পড়ে তা বোধগম্য নয়। খুলনায় এ ঘটনা ঘটলেও গাজীপুর নিয়ে আমরা আশাহত নই। জনগণ যাতে গাজীপুরে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক ধরনের আতঙ্ক জনগণের মাঝে আছে তা দূর করুন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় জনগণ কীভাবে ভোট কেন্দ্রে যাবে সেই ব্যবস্থা করুন। ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ফজলুর রহমান বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গাজীপুরে এমন নির্বাচন করুন যাতে জনগণ তাদের মনের মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। অন্যথায় এ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। একইভাবে অন্য মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।

সভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব প্রার্থী ও ভোটারদের উপর ছেড়ে দেয় কমিশন। এতে সিইসি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ৮০ দিনেও কোনো প্রার্থী আরেক প্রার্থীর গায়ে হাত দেননি, খারাপ আচরণ করেননি। বাকি কয়েকটা দিন সহনশীল থাকলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা প্রত্যেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন চান। নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্ত চান। আপনারা যদি সঠিক অবস্থানে থাকেন কখনও খারাপ নির্বাচন হতে পারে না। ভোট আপনাদের, জনগণ আপনাদের। আপনারা সহযোগিতা করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি শুধু প্রার্থীর জন্য নয়, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ডিসি, এসপিদের জন্যও প্রযোজ্য। কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও অতি উৎসাহী আচরণ দেখলে সরাসরি আমাকে জানাবেন।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, কেউ যদি জনগণের ওপর আস্থা না রেখে ভোট কেন্দ্রে জবরদখল করতে যায়, তাহলে প্রতিহত করা হবে। আপনারা সহযোগিতা করলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কথা দিচ্ছি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করার সবই করা হবে। কিন্তু প্রার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচন হোক সেই চাওয়া থাকতে হবে। এ চাওয়ার মধ্যে ফাঁক থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter