ওয়াদা করেন ফের নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন
jugantor
যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
ওয়াদা করেন ফের নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন
রিজার্ভের সমস্যা নেই, প্রত্যেকটি ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে * সাজাপ্রাপ্তরা যে দলের নেতা সেই দল জনগণকে কী দেবে * রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি কিছুই দিতে পারেনি

  হাসিবুল হাসান ও ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর থেকে  

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিগত দিনে দেশের উন্নয়ন করেছি, আপনারা সুযোগ দিলে আগামীতে আরও উন্নয়ন করব।

তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই-আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। দেবেন কিনা? আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন। সরকারপ্রধানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত জনতা সমস্বরে চিৎকার করে ‘ভোট দেব’ বলে ওয়াদা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের জবাবে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বৃহস্পতিবার যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গত নির্বাচনে যশোরের সবকটি আসন থেকে নৌকাকে বিজয়ী করায় যশোরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। যশোরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যশোর স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন ১১ স্তরবিশিষ্ট গ্যালারি তৈরি করে দেওয়া হবে। তাই তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকচর্চা ও লেখাপড়ায় মনোনিবেশের আহ্বান জানান তিনি। আরও বলেন, যুব সমাজ আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। ফলে মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই ‘নির্বাচনি জনসভা’ রূপ নেয় মহাজনসমুদ্রে। লাখ লাখ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী যশোর-খুলনাসহ সারা দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। রিজার্ভসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন। পাশাপাশি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলা অন্যায়-নির্যাতন, বিএনপি-জামায়াতের ‘নানা অপকর্মের’ ফিরিস্ত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছিল ইতিহাস বিকৃতি আর হত্যা-ক্যুর ষড়যন্ত্র। হাজার হাজার সেনা-বিমানবাহিনীর অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক ক্যু হয়েছে আর সারারাত কারফিউ-এই ছিল তখনকার অবস্থা। আর এই হত্যাকাণ্ডে ছিল খুনি জিয়া-মোশতাক।

বিচার চাওয়ার অধিকার আমার ছিল না। মা-বাবা-ভাই হারিয়েও বিচার চাইতে পারব না! তারপরও সবকিছু মাথায় নিয়ে ফিরে এসেছি বাংলার জনগণের কাছে। একটাই কারণ-এই জাতির জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমার একটাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েই বারবার ক্ষমতায় এসেছি। আর ক্ষমতায় এসেছি বলেই এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছে। যেখান থেকে বিনা পয়সায় ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। আর বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকতে কী দিয়েছিল? দিয়েছে অস্ত্র-খুন-হত্যা। এই যশোরে শামসুর রহমান ও মুকুলকে হত্যা করা হয়েছে, খুলনায় মঞ্জুরুল ইমাম, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালুসহ সাংবাদিকদের একে একে হত্যা করা হয়েছে। শুধু রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি তো কিছুই দিতে পারেনি দেশের মানুষকে। আর নিজেরা লুটপাট করেছে। নিজেরা মানুষের অর্থ পাচার করেছে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। নিজেদের উন্নয়ন করেছে।

বিএনপির কাজই হচ্ছে গুজব ছড়ানো : প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া যখন মারা যায় কোনো কিছু রেখে যায়নি। ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি। কিন্তু সেই ভাঙা স্যুটকেস হয়ে গেল জাদুর বাক্স। যে বাক্স দিয়ে কোকো আর তারেক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তার শাস্তিও হয়েছে। আজকে তারেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে সাত বছরের জেল আর ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। অস্ত্র চোরাকারবারি করতে গিয়ে দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে ধরা খেয়েছে। সেখানেও সাজা হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকেসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত।

যে দলের নেতা সাজাপ্রাপ্ত তারা জনগণকে কী দেবে? তারা কিছুই দিতে পারে না। শুধু মানুষের রক্ত চুষে খেতে পারে। এটাই হলো বাস্তবতা। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, গুজবে কান দেবেন না। বিএনপির কাজই হচ্ছে গুজব ছড়ানো। ওরা নিজেরা তো কিছু করতে পারে না। ক্ষমতায় এসে লুটপাট করে খেয়েছে।

রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আমরা এখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। অনেকেই রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই।

অনেকে বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা নেই’। ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেওয়া। ব্যাংকে টাকা নেই কথাটি ঠিক নয়। গতকালও আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমাদের এই বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। প্রত্যেকটি ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে। আমদের রেমিট্যান্স আসছে। বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের ট্যাক্স কালেকশন বেড়েছে। অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী আছে।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল দেশ : সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যাতে পৃথিবীর বুকে সম্মান নিয়ে চলতে পারে সেভাবে দেশের উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল দেশ। সরকার কৃষকের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। দুই কোটি কৃষক সেই উপকরণ কার্ড পায়। এক কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের টাকা তাদের কাছে চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে ১৬-১৭ টাকায় আমরা সার দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ, এমনকি উন্নত দেশও করোনা ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেয়নি। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মান সব দেশে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। আর আমরা ভ্যাকসিন কিনে বিনা পয়সায় আপনাদের দিয়েছি। করোনা মোকাবিলায় বিশেষ বিমান পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিরিঞ্জ, ভ্যাকসিন যা যা দরকার এনেছি। এজন্য কোটি কোটি টাকা আমরা ব্যয় করেছি। অনেকে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে যে রিজার্ভ গেল কোথায়। রিজার্ভ কোথাও যায়নি। মানুষের কাজে লেগেছে।

তিনি বলেন, যে গম ২শ ডলারে কিনতাম, তা এখন ৬শ ডলার। তারপর আমরা কিনে এনেছি আমাদের দেশের মানুষের জন্য। গম, ভুট্টা, সার, প্রত্যেকটি জিনিসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা কিনে এনেছি যাতে খাদ্য ঘাটতি না দেখা দেয়। এজন্য আমি জমি অনাবাদি না রেখে উৎপাদন করার কথা বলেছি।

দেশের কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না : বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তিনি যে প্রকল্প শুরু করেছিলেন, সেই পথ ধরে সারা দেশে গৃহহীনদের তালিকা করে বিনা পয়সায় জমিসহ ঘর করে দিয়েছি।

প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এই ঘর পেয়েছে যাদের কোনো ঠিকানা ছিল না। এটা তাদের জীবন পালটে দিয়েছে, এই দেশের কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সময় বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ ভাগ। আমরা এটা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। যে হতদরিদ্র ২৫ ভাগ ছিল তা আমরা ১০ ভাগে নামিয়ে এনেছি।

যশোরে আমার নাড়ির টান আছে : যশোরে জনসভা করতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ে বাইরে জনসভা করতে পারিনি। আজকে আমার প্রথম জনসভা এই যশোরে। যে যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানকার মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর, তখন তিনি মারা যান। ওই সময় যোগাযোগব্যবস্থা এতই খারাপ ছিল যে, এখানে আসা যায়নি। আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে আইটি পার্ক করা হবে।

যশোরের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই যশোর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখানে নির্মাণ হয়েছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি পার্ক, যেখানে দেড় থেকে দুই হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। যেখানে বিদেশ থেকে অনেক বিনিয়োগ আসছে।

যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া এসে অনেকগুলো বন্ধ করে দেয়। আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছি। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সবগুলোর উন্নয়নে কাজ করেছি। সাক্ষরতার হার যেখানে বিএনপির সময়ে ৪৫ ভাগ ছিল সেটিকে আমরা ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছি।

পদ্মা সেতু ও মধুমতী সেতু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যশোর বিমানবন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করার কথাও জানান। পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরের কার্র্যকারিতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ঢাকা থেকে অনেক পণ্য চট্টগ্রামে যায় না, মোংলা বন্দরে আসে।

অভয়নগরে ইপিজেড করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জমি নেওয়া হয়ে গেছে। ৫শ একর জমি আমরা নিয়েছি। সেখানে ৪শ শিল্প প্লট হবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। এখানে যে স্থলবন্দর, যেহেতু এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে, আমাদের যুব সমাজের কর্মসংস্থান হবে। শুধু চাকরির পেছনে ছোটা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, নিজে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল, খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, যশোর-খুলনা- মোংলা এই রাস্তাগুলো সব জাতীয় সড়কে উন্নীত করে দিচ্ছি এবং পদ্মা সেতু থেকে যাতে যশোরে সরাসরি আসতে পারে। ভাঙ্গা-যশোর রাস্তাও মহাসড়কে উন্নীত হবে। ২০১০ সালে যশোরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৫শ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ এখন চলমান । প্রত্যেকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ বেডের ছিল, আমরা তা ৫০ বেডে উন্নীত করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যশোরে কপোতাক্ষ জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য একটি প্রকল্প শেষ হয়েছে। এবার আমরা দ্বিতীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এর ফলে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা জলাবদ্ধতা দূর হবে। ৮২ কিলোমিটার নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে কাজ হাতে নিয়েছি। কপোতাক্ষের মতো ভবদহের জলাবদ্ধতা না থাকে সেই বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নেব। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছি। জহিরুল হক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করে গেছে।

যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

ওয়াদা করেন ফের নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন

রিজার্ভের সমস্যা নেই, প্রত্যেকটি ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে * সাজাপ্রাপ্তরা যে দলের নেতা সেই দল জনগণকে কী দেবে * রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি কিছুই দিতে পারেনি
 হাসিবুল হাসান ও ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর থেকে 
২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিগত দিনে দেশের উন্নয়ন করেছি, আপনারা সুযোগ দিলে আগামীতে আরও উন্নয়ন করব।

তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই-আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। দেবেন কিনা? আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন। সরকারপ্রধানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত জনতা সমস্বরে চিৎকার করে ‘ভোট দেব’ বলে ওয়াদা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের জবাবে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বৃহস্পতিবার যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গত নির্বাচনে যশোরের সবকটি আসন থেকে নৌকাকে বিজয়ী করায় যশোরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। যশোরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যশোর স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন ১১ স্তরবিশিষ্ট গ্যালারি তৈরি করে দেওয়া হবে। তাই তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকচর্চা ও লেখাপড়ায় মনোনিবেশের আহ্বান জানান তিনি। আরও বলেন, যুব সমাজ আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। ফলে মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই ‘নির্বাচনি জনসভা’ রূপ নেয় মহাজনসমুদ্রে। লাখ লাখ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী যশোর-খুলনাসহ সারা দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। রিজার্ভসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন। পাশাপাশি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলা অন্যায়-নির্যাতন, বিএনপি-জামায়াতের ‘নানা অপকর্মের’ ফিরিস্ত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছিল ইতিহাস বিকৃতি আর হত্যা-ক্যুর ষড়যন্ত্র। হাজার হাজার সেনা-বিমানবাহিনীর অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক ক্যু হয়েছে আর সারারাত কারফিউ-এই ছিল তখনকার অবস্থা। আর এই হত্যাকাণ্ডে ছিল খুনি জিয়া-মোশতাক।

বিচার চাওয়ার অধিকার আমার ছিল না। মা-বাবা-ভাই হারিয়েও বিচার চাইতে পারব না! তারপরও সবকিছু মাথায় নিয়ে ফিরে এসেছি বাংলার জনগণের কাছে। একটাই কারণ-এই জাতির জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমার একটাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েই বারবার ক্ষমতায় এসেছি। আর ক্ষমতায় এসেছি বলেই এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছে। যেখান থেকে বিনা পয়সায় ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। আর বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকতে কী দিয়েছিল? দিয়েছে অস্ত্র-খুন-হত্যা। এই যশোরে শামসুর রহমান ও মুকুলকে হত্যা করা হয়েছে, খুলনায় মঞ্জুরুল ইমাম, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালুসহ সাংবাদিকদের একে একে হত্যা করা হয়েছে। শুধু রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি তো কিছুই দিতে পারেনি দেশের মানুষকে। আর নিজেরা লুটপাট করেছে। নিজেরা মানুষের অর্থ পাচার করেছে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। নিজেদের উন্নয়ন করেছে।

বিএনপির কাজই হচ্ছে গুজব ছড়ানো : প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া যখন মারা যায় কোনো কিছু রেখে যায়নি। ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি। কিন্তু সেই ভাঙা স্যুটকেস হয়ে গেল জাদুর বাক্স। যে বাক্স দিয়ে কোকো আর তারেক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তার শাস্তিও হয়েছে। আজকে তারেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে সাত বছরের জেল আর ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। অস্ত্র চোরাকারবারি করতে গিয়ে দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে ধরা খেয়েছে। সেখানেও সাজা হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকেসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত।

যে দলের নেতা সাজাপ্রাপ্ত তারা জনগণকে কী দেবে? তারা কিছুই দিতে পারে না। শুধু মানুষের রক্ত চুষে খেতে পারে। এটাই হলো বাস্তবতা। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, গুজবে কান দেবেন না। বিএনপির কাজই হচ্ছে গুজব ছড়ানো। ওরা নিজেরা তো কিছু করতে পারে না। ক্ষমতায় এসে লুটপাট করে খেয়েছে।

রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আমরা এখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। অনেকেই রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই।

অনেকে বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা নেই’। ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেওয়া। ব্যাংকে টাকা নেই কথাটি ঠিক নয়। গতকালও আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমাদের এই বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। প্রত্যেকটি ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে। আমদের রেমিট্যান্স আসছে। বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের ট্যাক্স কালেকশন বেড়েছে। অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী আছে।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল দেশ : সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যাতে পৃথিবীর বুকে সম্মান নিয়ে চলতে পারে সেভাবে দেশের উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল দেশ। সরকার কৃষকের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। দুই কোটি কৃষক সেই উপকরণ কার্ড পায়। এক কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের টাকা তাদের কাছে চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে ১৬-১৭ টাকায় আমরা সার দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ, এমনকি উন্নত দেশও করোনা ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেয়নি। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মান সব দেশে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। আর আমরা ভ্যাকসিন কিনে বিনা পয়সায় আপনাদের দিয়েছি। করোনা মোকাবিলায় বিশেষ বিমান পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিরিঞ্জ, ভ্যাকসিন যা যা দরকার এনেছি। এজন্য কোটি কোটি টাকা আমরা ব্যয় করেছি। অনেকে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে যে রিজার্ভ গেল কোথায়। রিজার্ভ কোথাও যায়নি। মানুষের কাজে লেগেছে।

তিনি বলেন, যে গম ২শ ডলারে কিনতাম, তা এখন ৬শ ডলার। তারপর আমরা কিনে এনেছি আমাদের দেশের মানুষের জন্য। গম, ভুট্টা, সার, প্রত্যেকটি জিনিসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা কিনে এনেছি যাতে খাদ্য ঘাটতি না দেখা দেয়। এজন্য আমি জমি অনাবাদি না রেখে উৎপাদন করার কথা বলেছি।

দেশের কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না : বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তিনি যে প্রকল্প শুরু করেছিলেন, সেই পথ ধরে সারা দেশে গৃহহীনদের তালিকা করে বিনা পয়সায় জমিসহ ঘর করে দিয়েছি।

প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এই ঘর পেয়েছে যাদের কোনো ঠিকানা ছিল না। এটা তাদের জীবন পালটে দিয়েছে, এই দেশের কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সময় বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ ভাগ। আমরা এটা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। যে হতদরিদ্র ২৫ ভাগ ছিল তা আমরা ১০ ভাগে নামিয়ে এনেছি।

যশোরে আমার নাড়ির টান আছে : যশোরে জনসভা করতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ে বাইরে জনসভা করতে পারিনি। আজকে আমার প্রথম জনসভা এই যশোরে। যে যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানকার মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর, তখন তিনি মারা যান। ওই সময় যোগাযোগব্যবস্থা এতই খারাপ ছিল যে, এখানে আসা যায়নি। আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে আইটি পার্ক করা হবে।

যশোরের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই যশোর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখানে নির্মাণ হয়েছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি পার্ক, যেখানে দেড় থেকে দুই হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। যেখানে বিদেশ থেকে অনেক বিনিয়োগ আসছে।

যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া এসে অনেকগুলো বন্ধ করে দেয়। আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছি। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সবগুলোর উন্নয়নে কাজ করেছি। সাক্ষরতার হার যেখানে বিএনপির সময়ে ৪৫ ভাগ ছিল সেটিকে আমরা ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছি।

পদ্মা সেতু ও মধুমতী সেতু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যশোর বিমানবন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করার কথাও জানান। পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরের কার্র্যকারিতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ঢাকা থেকে অনেক পণ্য চট্টগ্রামে যায় না, মোংলা বন্দরে আসে।

অভয়নগরে ইপিজেড করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জমি নেওয়া হয়ে গেছে। ৫শ একর জমি আমরা নিয়েছি। সেখানে ৪শ শিল্প প্লট হবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। এখানে যে স্থলবন্দর, যেহেতু এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে, আমাদের যুব সমাজের কর্মসংস্থান হবে। শুধু চাকরির পেছনে ছোটা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, নিজে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল, খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, যশোর-খুলনা- মোংলা এই রাস্তাগুলো সব জাতীয় সড়কে উন্নীত করে দিচ্ছি এবং পদ্মা সেতু থেকে যাতে যশোরে সরাসরি আসতে পারে। ভাঙ্গা-যশোর রাস্তাও মহাসড়কে উন্নীত হবে। ২০১০ সালে যশোরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৫শ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ এখন চলমান । প্রত্যেকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ বেডের ছিল, আমরা তা ৫০ বেডে উন্নীত করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যশোরে কপোতাক্ষ জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য একটি প্রকল্প শেষ হয়েছে। এবার আমরা দ্বিতীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এর ফলে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা জলাবদ্ধতা দূর হবে। ৮২ কিলোমিটার নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে কাজ হাতে নিয়েছি। কপোতাক্ষের মতো ভবদহের জলাবদ্ধতা না থাকে সেই বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নেব। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছি। জহিরুল হক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করে গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন