জঙ্গি ছিনতাইয়ে টাকা নিয়ে আদালতে এসেছিল অমি
jugantor
জঙ্গি ছিনতাইয়ে টাকা নিয়ে আদালতে এসেছিল অমি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির (২৪) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বলছে, অমি ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গির হাতে মোটা অঙ্কের অর্থ তুলে দেয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অমিকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানান সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আদালতে মেহেদী হাসান হাজিরা দিতে এসেছিল। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দেয় সে। পলাতক জঙ্গিরা কারাগার থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে টাকা কোথায় পাবে-তাদের যেন সমস্যা না হয়, তাই মেহেদী তাদের হাতে টাকা তুলে দেয়। তিনি বলেন, মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় অমি বেশকিছু নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে আসত, যা বন্দিদের বিভিন্ন খরচ নির্বাহের জন্য সরবরাহ করত। ঘটনার দিন ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদেরও খরচের জন্য অর্থ দেয় সে। তাকে রিমান্ডে এনে টাকার উৎসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের মোহাম্মদপুরের যে মামলায় হাজিরা দিতে নেওয়া হয়েছিল, একই মামলায় অমিও আসামি। কিন্তু অমি জামিনে থাকায় বাইরে থেকে আসামি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় অংশ নেয়। যাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের সঙ্গে একই সময় হাজিরা দেওয়ার সুযোগে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অবগত করে অমি। এমনকি ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের হাতখরচের অর্থও আদালতে সরবরাহ করে সে।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য ১২ জঙ্গিকে আনা হয়। সেখান থেকে চারজনকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি চার জঙ্গিই জানত। তাদের প্রধান প্রায়োরিটি ছিল আরাফাত, দ্বিতীয় শামীম। শামীমকে ছিনিয়ে নিতে পারলেও আরাফাতকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, ওই চার জঙ্গিকে একসঙ্গে আনা কিংবা একসঙ্গে হ্যান্ডকাফ পরানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে কারও অবহেলা বা গাফিলতি রয়েছে কি না, এগুলো যাচাইয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা শুধু অপারেশনাল বিষয়গুলো দেখছি।

ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান জানান, তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারলে আমরা গ্রেফতার করব। জামিনে থাকা জঙ্গিদের মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাদের মনিটরিং করি। তারা ঘরে বসেও গোপন অ্যাপের মাধ্যমে কাজটি করতে পারে। আমরা কিছুদিন আগে দুই ডাক্তারকে ধরেছি, যারা প্রাত্যহিক স্বাভাবিক কাজকর্মের মধ্যেই বিভিন্ন এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামিনে থাকা জঙ্গিরা অবশ্যই হুমকি। এই হুমকি মাথায় রেখেই মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের এখনো গ্রেফতার করতে না পারা প্রসঙ্গে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আনসার আল ইসলাম সবচেয়ে বেশি কাটআউট সিস্টেম ফলো করে। এটা ব্রেকডাউন করতে একটু সময় লাগে। জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ অনেক জটিল বিষয়। এটাকে সাধারণ অপরাধ বা খুনের সঙ্গে মেলালে হবে না।

মেজর জিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার অবস্থান জানামাত্র অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হবে। অমিকে রিমান্ডে এনে এটাও জানার চেষ্টা করব। এছাড়া ঘটনার সময় বাইরে কারা ছিল, ভেতরে কোনো প্রস্তুতি ছিল কি না অথবা যত ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে এর সবই আমরা জানার চেষ্টা করব।

সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি অমি। সে সংগঠনে রাফি হিসাবে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে সে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে হিজবুত তাহরিরে যুক্ত ছিল। সরকারবিরোধী অপতৎপরতার কারণে ২০১০ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ সালে জামিনে বের হওয়ার পর ২০১৩ সালে আনসার আল ইসলামে যোগ দেয় সে। তখন সংগঠনের নাম ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)।

তিনি বলেন, অল্পদিনের মধ্যে অমির দক্ষ নেতৃত্বের কারণে তাকে আনসার আল ইসলামের সিলেট অঞ্চলের দাওয়া বিভাগের প্রধান করা হয়। এরপর অমি সিলেট অঞ্চলের অনেককে সংগঠনে নিয়োগ দেয়। দক্ষ নেতৃত্ব, সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ ও অতি সাহসী কর্মী হিসাবে সে সংগঠনের মূল ব্যক্তি বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। এরপর অমিকে সংগঠনের আসকারি বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অমির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গি মইনুল হাসান শামীমকেও আসকারি বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয় উল্লেখ করে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ২০১৬ সালে যখন ব্লগার হত্যাসহ বেশকিছু ঘটনা সংঘটিত হয়, তখন সিটিটিসি অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুর-বাড্ডা এলাকায় তাদের আস্তানার সন্ধান পায়। সে সময় অমিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ সালে অমি আবার জামিনে ছাড়া পায়। জামিন পাওয়ার পর থেকে সে নিয়মিত হাজিরা দিত।

ফলে বন্দি থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার নিয়মতি যোগাযোগ ছিল। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অমির মাধ্যমে বন্দি জঙ্গিদের অবগত করা হয়। যারা ছিনিয়ে নেবে, তাদের সঙ্গেও সমন্বয় করে অমি।

সাত দিনের রিমান্ড : এদিকে গ্রেফতার মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জঙ্গি ছিনতাইয়ে টাকা নিয়ে আদালতে এসেছিল অমি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির (২৪) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বলছে, অমি ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গির হাতে মোটা অঙ্কের অর্থ তুলে দেয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অমিকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানান সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আদালতে মেহেদী হাসান হাজিরা দিতে এসেছিল। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দেয় সে। পলাতক জঙ্গিরা কারাগার থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে টাকা কোথায় পাবে-তাদের যেন সমস্যা না হয়, তাই মেহেদী তাদের হাতে টাকা তুলে দেয়। তিনি বলেন, মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় অমি বেশকিছু নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে আসত, যা বন্দিদের বিভিন্ন খরচ নির্বাহের জন্য সরবরাহ করত। ঘটনার দিন ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদেরও খরচের জন্য অর্থ দেয় সে। তাকে রিমান্ডে এনে টাকার উৎসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের মোহাম্মদপুরের যে মামলায় হাজিরা দিতে নেওয়া হয়েছিল, একই মামলায় অমিও আসামি। কিন্তু অমি জামিনে থাকায় বাইরে থেকে আসামি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় অংশ নেয়। যাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের সঙ্গে একই সময় হাজিরা দেওয়ার সুযোগে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অবগত করে অমি। এমনকি ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের হাতখরচের অর্থও আদালতে সরবরাহ করে সে।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য ১২ জঙ্গিকে আনা হয়। সেখান থেকে চারজনকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি চার জঙ্গিই জানত। তাদের প্রধান প্রায়োরিটি ছিল আরাফাত, দ্বিতীয় শামীম। শামীমকে ছিনিয়ে নিতে পারলেও আরাফাতকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, ওই চার জঙ্গিকে একসঙ্গে আনা কিংবা একসঙ্গে হ্যান্ডকাফ পরানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে কারও অবহেলা বা গাফিলতি রয়েছে কি না, এগুলো যাচাইয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা শুধু অপারেশনাল বিষয়গুলো দেখছি।

ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান জানান, তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারলে আমরা গ্রেফতার করব। জামিনে থাকা জঙ্গিদের মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাদের মনিটরিং করি। তারা ঘরে বসেও গোপন অ্যাপের মাধ্যমে কাজটি করতে পারে। আমরা কিছুদিন আগে দুই ডাক্তারকে ধরেছি, যারা প্রাত্যহিক স্বাভাবিক কাজকর্মের মধ্যেই বিভিন্ন এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামিনে থাকা জঙ্গিরা অবশ্যই হুমকি। এই হুমকি মাথায় রেখেই মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের এখনো গ্রেফতার করতে না পারা প্রসঙ্গে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আনসার আল ইসলাম সবচেয়ে বেশি কাটআউট সিস্টেম ফলো করে। এটা ব্রেকডাউন করতে একটু সময় লাগে। জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ অনেক জটিল বিষয়। এটাকে সাধারণ অপরাধ বা খুনের সঙ্গে মেলালে হবে না।

মেজর জিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার অবস্থান জানামাত্র অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হবে। অমিকে রিমান্ডে এনে এটাও জানার চেষ্টা করব। এছাড়া ঘটনার সময় বাইরে কারা ছিল, ভেতরে কোনো প্রস্তুতি ছিল কি না অথবা যত ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে এর সবই আমরা জানার চেষ্টা করব।

সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি অমি। সে সংগঠনে রাফি হিসাবে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে সে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে হিজবুত তাহরিরে যুক্ত ছিল। সরকারবিরোধী অপতৎপরতার কারণে ২০১০ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ সালে জামিনে বের হওয়ার পর ২০১৩ সালে আনসার আল ইসলামে যোগ দেয় সে। তখন সংগঠনের নাম ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)।

তিনি বলেন, অল্পদিনের মধ্যে অমির দক্ষ নেতৃত্বের কারণে তাকে আনসার আল ইসলামের সিলেট অঞ্চলের দাওয়া বিভাগের প্রধান করা হয়। এরপর অমি সিলেট অঞ্চলের অনেককে সংগঠনে নিয়োগ দেয়। দক্ষ নেতৃত্ব, সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ ও অতি সাহসী কর্মী হিসাবে সে সংগঠনের মূল ব্যক্তি বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। এরপর অমিকে সংগঠনের আসকারি বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অমির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গি মইনুল হাসান শামীমকেও আসকারি বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয় উল্লেখ করে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ২০১৬ সালে যখন ব্লগার হত্যাসহ বেশকিছু ঘটনা সংঘটিত হয়, তখন সিটিটিসি অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুর-বাড্ডা এলাকায় তাদের আস্তানার সন্ধান পায়। সে সময় অমিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ সালে অমি আবার জামিনে ছাড়া পায়। জামিন পাওয়ার পর থেকে সে নিয়মিত হাজিরা দিত।

ফলে বন্দি থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার নিয়মতি যোগাযোগ ছিল। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অমির মাধ্যমে বন্দি জঙ্গিদের অবগত করা হয়। যারা ছিনিয়ে নেবে, তাদের সঙ্গেও সমন্বয় করে অমি।

সাত দিনের রিমান্ড : এদিকে গ্রেফতার মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন