গাজীপুর সিটি নির্বাচন

বিজয় নিশ্চিতে মরিয়া উভয় দলের প্রার্থী

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে জাহাঙ্গীর ও হাসান সরকার * নারী ও আঞ্চলিক ভোট টানতে নানা উদ্যোগ * দলীয় নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান বিএনপির * আজ প্রচারণা চালাবেন ১৪ দল ও ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা

  তারিকুল ইসলাম ও শাহ সামসুল হক রিপন, গাজীপুর থেকে ২৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

গাজীপুরে চলছে শেষ মুহূর্তের জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। মহানগরীর পাড়া-মহল্লা, অলি-গলি মাইকিংয়ে মুখর। পোস্টারে পোস্টারে অধিকাংশ এলাকার ছেয়ে গেছে। ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ।

ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে জয় নিশ্চিত করতে দু’দলের প্রার্থীই মরিয়া। তবে প্রচারণার শুরু থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা দেখা গেলেও শুক্রবার তা লক্ষ করা যায়নি।

ভোটের বাকি মাত্র দু’দিন। প্রচার শেষ হচ্ছে আগামীকাল। শেষদিকের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থী ও কেন্দ্র এবং স্থানীয় নেতারা। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় তারা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পথসভা, কর্মী সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চান্দনা চৌরাস্তা জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন এবং বিএনপি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার পড়েন টিএন্ডটি কলোনি জামে মসজিদে। নামাজের আগে ও পরে উভয় মসজিদেই মুসল্লিদের সঙ্গে তারা কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করেন। এ ছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের কাছে দোয়া চান।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের টার্গেট নারী ও আঞ্চলিক ভোট। নারী ভোটারদের টানতে সব দলের প্রার্থীই নানা ধরনের কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।

গাজীপুরের ভাষা শহীদ কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা সুজন সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, গাজীপুরে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ পাঁচ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি নারী ভোটার। আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হবেন নারী ভোটাররা। ভোটাধিকারের ব্যাপারে নারীরা আগের চেয়ে সচেতন। এ কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিকতাও ভোটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। টঙ্গী ও জয়দেবপুর দুটি অঞ্চলের ভোটারদের আঞ্চলিকতার মোহে ভোট দেয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গাজীপুরের পাড়া-মহল্লায় শুধু আলোচনা এখন মেয়র প্রার্থী নিয়ে। কে হচ্ছেন নগরপিতা তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই ভোটারদের মাঝে। জয়দেবপুর চৌরাস্তায় এক চায়ের দোকানে মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করছিলেন পাচ তরুণ ভোটার।

এদের মধ্যে শালনার এনায়েত করিম জানান, আলোচনা এখন মেয়র প্রার্থী নিয়ে। কাকে ভোট দেবেন এখনও ঠিক করেননি। তবে ভোটের আগেরদিন বোঝা যাবে নৌকা না, ধানের শীষের পাল্লা ভারি। তখনই তিনি কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। তবে শ্রমিক, নারী ও আঞ্চলিক ভোট টানার টার্গেট নিয়েছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান সরকার গাজীপুর সদরের শ্রমিক অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। এর বাইরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা মার্কা এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকের প্রচারণাও দেখা গেছে।

নারী আর আঞ্চলিক ভোট টানতে নানা উদ্যোগ : প্রচারের শেষদিকে নারী ও আঞ্চলিক ভোট টানতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উভয় দলের প্রার্থী। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন, নারী আর আঞ্চলিক ভোটাররাই যে জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী আর আঞ্চলিক ভোটার। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারেও নারীদের বিষয়ে দেয়া হয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি।

টঙ্গীর আউছপাড়া এলাকার বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা সুমাইয়া বিনতে শরীফ বলেন, একটা সময় নারীরা নির্ভরশীল পুরুষ বা পরিবারের কর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দিত। এখন দিন পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। শুধু প্রতীক নয়, প্রার্থীর শিক্ষা, সততা, সুনাম এবং তাদের ইশতেহারে নারীদের কী সুযোগ-সুবিধা আছে, সেসব দেখে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।

গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় নারী নির্মাণ শ্রমিক রোজিনা খাতুনের (৪৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, কোনো মেয়র প্রার্থীকেই তিনি চেনেন না। তার রিকশাচালক স্বামী নৌকায় ভোট দিতে বলেছেন। আর কলেজছাত্র ছেলে ও এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি বলেছেন ধানের শীষে দিতে। কাকে ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত নেননি। কারও কথায় নয়, অতীত ও ভবিষ্যৎ দেখে ভোট দেবেন তিনি।

আর আঞ্চলিক ভোটারদের মধ্যে নরসিংদী, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ভোটারই বেশি। এসব জেলার রয়েছে একাধিক সমিতি। ভোটের আগে আঞ্চলিক সমিতিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের ভোট নিজেদের ঘরে তুলতে বিভিন্ন কৌশলও নিচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা।

আঞ্চলিক ভোটারদের বাগে আনতে ওইসব অঞ্চলের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ দলীয় প্রার্থীদের জন্য চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন এলাকা। ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কুমিল্লা অঞ্চলের ভোটার বেশি।

শুক্রবার এ দুটি ওয়ার্ডে দিনব্যাপী প্রচারণায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

নৌকার প্রার্থীর গণসংযোগ : সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দিনব্যাপী বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। গণসংযোগকালে তিনি ইসলামিক দল এবং ইসলামিক সংগঠনের আলেমদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, মহানগরীর ১৮০০ মসজিদের খতিব, সাড়ে ৪শ’ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাকে নৌকা মার্কায় সমর্থন দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি ক্লিন এবং গ্রিন সিটি উপহার দিতে চাই। সবাইকে একটি বাসযোগ্য শহর দিতে চাই।

সকাল ৯টায় নিজ বাসভবনের সামনের উঠানে তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি এবং শতাধিক সাথী ভাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন। মতবিনিময়ে জাহাঙ্গীর আলম আলেম-ওলামাদের দোয়া নেন এবং সব মানুষের সঙ্গে নিয়ে একটি পরিকল্পিত নগরী গড়ার লক্ষ্যে ২৬ জুন নির্বাচনে সহযোগিতা এবং ভোট চান।

পরে ২০ নম্বর মজলিশপুর, ২২ এ বাংলাবাজার, ২১ এ বিপ্রবর্থা, ২৩ খালপাড়া পথসভায় ভোটারদের সহযোগিতা ও ভোট চান। চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে পথসভার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা প্রচারণা শুরু করেন।

পরে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আক্তার মার্কেট, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিঅ্যান্ডটি রোড, শাপলা মেনশন ও অনুপম সুপার মার্কেটে পথসভার মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন। মাঝে টঙ্গীতে মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথসভায় যোগ দেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণা : নৌকার পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় অংশ নেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক সকাল থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। স্বাচিপ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সকালে টঙ্গীতে এবং চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর প্রচারণা চালান।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজুল কবীর কাওছার, বলরাম পোদ্দার, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন বোখারী মহানগরীর ৪০ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড ও পূবাইল এলাকায় গণসংযোগ করেন। টাঙ্গাইল কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম তালুকদার টঙ্গীতে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া আইনজীবী নেতা নজিবউল্লাহ হিরু ও আমানত হোসেন খান প্রচারণায় অংশ নেন।

দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণায় ১৪ দল : আজ দ্বিতীয় দিনের মতো নৌকা মার্কার প্রচারণা চালাবেন ১৪ দলের নেতারা। গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার জানান, স্থানীয় ১৪ দলের নেতারা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। আজ শনিবার কেন্দ্রীয় নেতারা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণায় অংশ নেবেন।

ধানের শীষের প্রার্থীর গণসংযোগ : বিএনপি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার শুক্রবার দিনব্যাপী বাসন অঞ্চলে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তিনি সকাল ৯টায় বাসন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখালে পথসভার মাধ্যমে তার শুক্রবারের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। মাঝে জুমার বিরতি নিয়ে তিনি টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

পরে তিনি ওই ওয়ার্ডের যোগীতলা নতুন বাজার, চান্দনা মোশারফের স্কুল (দক্ষিণপাড়া), ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িয়ালী নগপাড়া মণ্ডলবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীম উদ্দিন মার্কেট, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা রাস্তার মাথা, হক মার্কেট ও কাউন্সিলর ফয়সাল সরকারের অফিস প্রাঙ্গণে পথসভা করেন।

পথসভায় হাসান সরকার বলেন, এটি সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই জনগণের রায়কে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কাজেই গণগ্রেফতার বন্ধ করে ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার জন্য তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান।

দুপুরে হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে পথসভায় যোগ দেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মীর নাছির উদ্দিন, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান লালু। সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি সোহরাব উদ্দিন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, আলাউদ্দিন চৌধুরী, মুফতি নাসির উদ্দিন, বসির আহমেদ বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, আতাউর রহমান প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণা : হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা। শুক্রবার গণসংযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাবেরা আলাউদ্দিন, ওমর ফারুক শাফিন, একরামুল হক বিপ্লব, সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া শিশিরসহ দুই শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে বিএনপির কেন্দ্রীয় ৫৭টি নির্ধারিত টিম গণসংযোগ করেছে।

ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান ড. মোশাররফের : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ ভোট দিতে পারলে বিশাল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হবে। তাই আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। কোনো অজুহাতে যেন আর গ্রেফতার করা না হয় সরকারকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করব। তারপর অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনি নির্বাচনের আগের দিন থেকে ভোটের ফলাফল শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের কেন্দ্র পাহারা দেয়া আহ্বানও জানান।

শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করেন। এর আগে সকালে তিনি হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গীর বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। তিনি বিকালে গাজীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন।

তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন সন্নিকটে। আপনারা আর মাত্র দু’দিন প্রচার চালাতে পারবেন। তাই কেন্দ্র থেকে আমরা মাঠের সর্বশেষ অবস্থা দেখতে এসেছি। সারা দিন ঘুরে দেখেছি নির্বাচন শুরু হওয়ার সময় যেভাবে জনজোয়ার উঠেছিল, সেটি এখনও আছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার মূল কারণ হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদের প্রস্তুতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং কী ধরনের নির্বাচন হবে সেটা নির্ধারণের জন্য।

আজ যাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা : আজ হাসান সরকারের পক্ষে প্রচারে অংশ নেবেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার যুগান্তরকে বলেন, আজ জোটের নেতারা হাসান সরকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। তারা প্রথমে টঙ্গীর বিএনপি অফিসে যাবেন। সেখান থেকে জোটের নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণা চালাবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter