আর্জেন্টিনার সব বিভাগই ভেঙে পড়েছিল

  কায়সার হামিদের কলাম ২৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ
আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোলকিপার উইলি কাবায়েরোর হাস্যকর শর্ট পাস। নিষ্প্রভ মেসি। দুর্বল রক্ষণভাগ- এসবই ছিল আর্জেন্টিনা দলের চিত্র। কে বলবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এই সেই ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এ কাদের খেলা দেখলাম। এই এক হার কোথায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারে আর্জেন্টিনাকে, তা সময়ই বলে দেবে।

বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের। বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশ দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। প্রিয় দলের খেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের আবেগ-অনুভূতি। কতটা আবেগী এসব দর্শক, তা হয়তো জানেন না এসব দলের ফুটবলার ও কর্মকর্তারা। তাদের হার-জিতের সঙ্গে যে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ও কাঁদে-হাসে তা কি তারা বুঝতে পারেন? ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে তা সবাই দেখেছেন।

আমার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা দলের ভেতরে গৃহবিবাদ চলছে। হয়তো কোচের সঙ্গে কোনো সমস্যা হচ্ছে মেসিদের। গোলকিপার কাবায়েরোকে একাদশে আনা এবং পাভন ও দিবালাকে শুরুর একাদশে না রাখা ভুল ছিল হোর্হে সাম্পাওলির। দেশের হয়ে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কাবায়েরোকে আইসল্যান্ডের পর আর একাদশে আনা উচিত ছিল না। কিন্তু চেলসির গোলকিপার বলেই কী তার ওপর এমন ভরসা রাখলেন সাম্পাওলি? যার মাশুল গুনতে হল স্বপ্নকে খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়ে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কাবায়েরো তো প্রথমার্ধ থেকেই নড়বড়ে ছিলেন। তাহলে পরবর্তী সময়ে কেন তাকে পরিবর্তন করা হল না?

ভেবেছিলাম খাদের কিনারা থেকে উঠে আসতে রোনাল্ডোর মতো ঝলসে উঠবেন মেসি। কিন্তু কই? বলই পাচ্ছিলেন না তিনি। বল আর মেসির পা দুটো যেন আলাদা ছিল। মেসির একক নৈপুণ্য ছিল না বললেই চলে।

আগে কখনও মেসিকে এতটা নিষ্প্রভ মনে হয়নি আমার কাছে। হয়তো মেসি আনফিট ছিলেন। কিংবা কোচের সঙ্গে সমস্যা হচ্ছে তাদের। এত বছর ধরে খেলা দেখি। আগের সেই ছন্দময় মেসিকে দেখা যায়নি নোভগোরোদে। কোচ সাম্পাওলি দলের লাইনআপটা আরও ভালো করতে পারতেন। এটা অবশ্য আমার দৃষ্টিভঙ্গি। বাচ্চাদের মতো খেলেছেন ডিফেন্ডার নিকোলাস ফ্রেডরিকো। এককথায় বলতে গেলে, ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার সব বিভাগই একসঙ্গে ভেঙে পড়েছিল।

এমন আর্জেন্টিনাকে আগে কখনও দেখিনি। আর্জেন্টিনাকে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দেখতে চায় সবাই। বিশ্বকাপের মতো আসরে কাবায়েরোর মতো গোলকিপারের অপেশাদার ভুল দেখে আমি অবাক হয়েছি। স্লো পাস দিয়ে গোল হজম করেছেন। তিন গোলের দুটিই কাবায়েরোর ভুলে হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টাইনদের।

একপর্যায়ে মনে হয়েছে যেন খেলা শেষ করতে পারলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা। অন্যদিকে গতি এবং টোটাল ফুটবল খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। সব বিভাগই তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। সুযোগের সদ্ব্যবহারও করেছেন মডরিচ, আনতে রেবিচ ও ইভান রাকিতিচরা।

ফ্রান্স যোগ্যতর দল হিসেবেই জিতেছে। বিশেষ করে তাদের মিডফিল্ড, গোলকিপার দুর্দান্ত খেলেছে। জেতার জন্যই খেলেছিল তারা। তাই তাদের জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি পেরু। ডেনমার্ককে রুখে দিয়ে চমকে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে আজ সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে জার্মানির জন্য ফাইনালই বলা যায়। এখন তাদের প্রয়োজন অলআউট খেলা। তবে সুইডেন ফেলে দেয়ার মতো দল নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আমি মেক্সিকোকেই এগিয়ে রাখব। যারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে তারাই এগিয়ে থাকবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter