ব্যয় বাড়বে ২৪ হাজার কোটি টাকা
jugantor
ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ৪ খাতে
ব্যয় বাড়বে ২৪ হাজার কোটি টাকা
প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ধরে ব্যয় প্রাক্কলন হয়, এখন বেড়ে তা ১০৪.৫০

  মিজান চৌধুরী  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন ডলারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখীর কারণে চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) চারটি খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় গুনতে হবে।

খাতগুলো হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, চাল-গম এবং সার আমদানি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য ৮৭ টাকা ধরে অঙ্ক কষা হয়।

কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশে ডলারের বিনিময়মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ডলারের একটি অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে ডলারের মূল্য ১০৪.৫০ টাকা ধরা হয়। ওই হিসাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল ও গম আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে।

এছাড়া সার আমদানিতে ডলারজনিত সমস্যা ও অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধের অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাবটি পর্যালোচনা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়তি অর্থ চেয়ে কোনো পত্র আসেনি অর্থ বিভাগে।

সূত্রমতে, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয়বৃদ্ধি পেয়েছে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ খাতে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ৪৮৫১ কোটি টাকা। একইভাবে সার আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হবে ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া চাল ও গম আমদানিতে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।

জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে জানান, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল ও গম আমদানির ক্ষেত্রে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে, সেটি দেখবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বখাদ্য বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে আমাদের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।

কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসাবে সার আমদানি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে ডলার দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের মূল্য ও বিশ্ববাজারে সারের মূল্যবৃদ্ধিতে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে, সেটি তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে।

চলতি বাজেটে চাল ২ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ৫ লাখ টন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী বছরে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কা থেকে ২ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইভাবে ৫ লাখ টন গমের বিপরীতে সাড়ে ৬ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ফলে চাল ও গম আমদানিতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৩৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি গমের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ৭৭০ কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চালসহ খাদ্যশস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এ বছর বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হবে ৫৮ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। এজন্য প্রয়োজন হবে ৫১৯ কোটি মার্কিন ডলার, দেশীয় মুদ্রায় ৫৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু আমদানি ব্যয় নির্ধারণে বরাদ্দ রাখা হয় ৪৫ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, এ বছর ২০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানিতে ১৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া ৯ লাখ টন টিএসপি সারের জন্য প্রয়োজন ৮১ কোটি মার্কিন ডলার। একইভাবে ডিএপি সার আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন ১৯৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ বছর ডিএপি সার আমদানি করতে হবে ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। আর এমওপি সার আমদানিতে ৯০ কোটি ২৫ লাখ ডলারের দরকার।

চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধে সবচেয়ে বেশি মার্কিন ডলারের ব্যবহার হবে। এ বছর বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ পরিশোধে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং সুদ পরিশোধে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু এ হিসাব যখন করা হয়, ওই সময় ডলারের মূল্য ছিল ৮৭ টাকা। যেহেতু বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে এখন ১০৪.৫ টাকা দরে ডলার হিসাবে এ দায় শোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে ৪ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। একইভাবে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

বাজেটে বাড়তি ব্যয়ের বিষয় প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তবে এখনই কোনো মন্ত্রণালয়কে ডলারের মূল্য বেশির কারণে বাড়তি অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। এটি আগামী জানুয়ারিতে সংশোধিত বাজেটে এ চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, কৃচ্ছ সাধনের মাধ্যমে সরকার কিছু অর্থ সাশ্রয় করছে। অবশ্য এ সাশ্রয়কৃত অর্থ এসব গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সমন্বয় করা হবে।

জানা যায়, দেশে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বিগত কয়েক মাসে অনেক বেড়েছে। মার্কিন ডলারের দাম নিয়ে অস্থিরতা কাটাতে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের একটি করে একক বা অভিন্ন দর ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও দেশে ডলারের বাজারের অস্থিরতার অবসান হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এক যৌথ সভার পর এবিবি ও বাফেদাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় টাকার বিপরীতে ডলারের একটি অভিন্ন দাম নির্ধারণের জন্য। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাসী আয় আর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৮ টাকা আর রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে প্রতি ডলারে ৯৯ টাকা। আর এ দুটির গড় খরচ অর্থাৎ রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ৪ খাতে

ব্যয় বাড়বে ২৪ হাজার কোটি টাকা

প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ধরে ব্যয় প্রাক্কলন হয়, এখন বেড়ে তা ১০৪.৫০
 মিজান চৌধুরী 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন ডলারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখীর কারণে চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) চারটি খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় গুনতে হবে।

খাতগুলো হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, চাল-গম এবং সার আমদানি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য ৮৭ টাকা ধরে অঙ্ক কষা হয়।

কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশে ডলারের বিনিময়মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ডলারের একটি অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে ডলারের মূল্য ১০৪.৫০ টাকা ধরা হয়। ওই হিসাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল ও গম আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে।

এছাড়া সার আমদানিতে ডলারজনিত সমস্যা ও অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধের অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাবটি পর্যালোচনা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়তি অর্থ চেয়ে কোনো পত্র আসেনি অর্থ বিভাগে।

সূত্রমতে, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয়বৃদ্ধি পেয়েছে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ খাতে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ৪৮৫১ কোটি টাকা। একইভাবে সার আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হবে ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া চাল ও গম আমদানিতে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।

জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে জানান, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল ও গম আমদানির ক্ষেত্রে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে, সেটি দেখবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বখাদ্য বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে আমাদের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।

কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসাবে সার আমদানি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে ডলার দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের মূল্য ও বিশ্ববাজারে সারের মূল্যবৃদ্ধিতে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে, সেটি তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে।

চলতি বাজেটে চাল ২ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ৫ লাখ টন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী বছরে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কা থেকে ২ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইভাবে ৫ লাখ টন গমের বিপরীতে সাড়ে ৬ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ফলে চাল ও গম আমদানিতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৩৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি গমের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ৭৭০ কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চালসহ খাদ্যশস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এ বছর বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হবে ৫৮ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। এজন্য প্রয়োজন হবে ৫১৯ কোটি মার্কিন ডলার, দেশীয় মুদ্রায় ৫৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু আমদানি ব্যয় নির্ধারণে বরাদ্দ রাখা হয় ৪৫ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, এ বছর ২০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানিতে ১৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া ৯ লাখ টন টিএসপি সারের জন্য প্রয়োজন ৮১ কোটি মার্কিন ডলার। একইভাবে ডিএপি সার আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন ১৯৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ বছর ডিএপি সার আমদানি করতে হবে ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। আর এমওপি সার আমদানিতে ৯০ কোটি ২৫ লাখ ডলারের দরকার।

চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধে সবচেয়ে বেশি মার্কিন ডলারের ব্যবহার হবে। এ বছর বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ পরিশোধে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং সুদ পরিশোধে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু এ হিসাব যখন করা হয়, ওই সময় ডলারের মূল্য ছিল ৮৭ টাকা। যেহেতু বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে এখন ১০৪.৫ টাকা দরে ডলার হিসাবে এ দায় শোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে ৪ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। একইভাবে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

বাজেটে বাড়তি ব্যয়ের বিষয় প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তবে এখনই কোনো মন্ত্রণালয়কে ডলারের মূল্য বেশির কারণে বাড়তি অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। এটি আগামী জানুয়ারিতে সংশোধিত বাজেটে এ চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, কৃচ্ছ সাধনের মাধ্যমে সরকার কিছু অর্থ সাশ্রয় করছে। অবশ্য এ সাশ্রয়কৃত অর্থ এসব গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সমন্বয় করা হবে।

জানা যায়, দেশে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বিগত কয়েক মাসে অনেক বেড়েছে। মার্কিন ডলারের দাম নিয়ে অস্থিরতা কাটাতে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের একটি করে একক বা অভিন্ন দর ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও দেশে ডলারের বাজারের অস্থিরতার অবসান হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এক যৌথ সভার পর এবিবি ও বাফেদাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় টাকার বিপরীতে ডলারের একটি অভিন্ন দাম নির্ধারণের জন্য। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাসী আয় আর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৮ টাকা আর রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে প্রতি ডলারে ৯৯ টাকা। আর এ দুটির গড় খরচ অর্থাৎ রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন