ভীতির সংস্কৃতি চলছে, উন্নয়নের নিচে চোরাবালি
jugantor
নাগরিক প্ল্যাটফরমের সংবাদ সম্মেলন
ভীতির সংস্কৃতি চলছে, উন্নয়নের নিচে চোরাবালি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিরা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। এর ফলে জবাবদিহিতা কমে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয়।

এছাড়া ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলা হলেও এর নিচে চোরাবালি রয়েছে। আয় কমে যাওয়া বিপরীতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে বক্তব্য দেন, সংগঠনের আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তৃণমূলের মানুষের অবস্থা মূল্যায়নে দেশের ২৫টি জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ৫০০ শতাধিক মানুষের মতামত নিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফরম। তাদের মতামতে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যে সব কথা বলছি, তা ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়। দীর্ঘদিন এই কাজের ফলে তৃণমূলের মানুষের কাছে যেসব মতামত এসেছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে ৬টি বার্তা রয়েছে। প্রথম বার্তা হলো দেশে যুব সমাজের শোভন কর্মসংস্থানের ঘাটতি।

এরপর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে তাদের জীবনকে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সহজ করে বললে, একদিকে আয় নেই, অন্যদিকে পণ্য ও সেবার মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবন ধারণ করা কষ্টকর। এছাড়াও গত কয়েক বছরে জীবন মানের যে উন্নয়ন হয়েছিল, সেটিরও ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্তদের জন্য সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয়ত বার্তা হলো দেশে বিভিন্ন কাজে নারীর সম্পৃক্ততা বিকশিত হলেও তাদের প্রতি সহিংসতা ও অধিকার হরণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়েছে। এক্ষেত্রে আইনের শাসনের ব্যাপক ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি।

তৃতীয়ত বার্তা হলো পরিবেশ বিপর্যয় একটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সব জায়গায়ই কোনো না কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর মধ্যে বন্যা, খড়া, ভূমি ধ্বস, নদীভাঙন, পরিশেষ দূষণ এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া অন্যতম। চতুর্থত বার্তা হলো সরকারি সেবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মান কমেছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কর্মসূচি অন্যতম। এর ফলে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো বিপর্যস্ত হচ্ছে। পঞ্চম বার্তা হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বড় ধরনের ঘাটতি হয়েছে।

আর ষষ্ঠ বার্তাটি হলো সব জায়গায় একটি ভয় বা ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ কথা বলতে না পারা অথবা কথা বলার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে সত্য। ভয়ের সংস্কৃতির কারণে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। বণ্টন ব্যবস্থায় আরও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও সেবা কমেছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন হয়েছে, সত্য। কিন্তু এর নিচে চোরাবালি রয়েছে। ফলে আমাদের সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ৫টি বিষয় সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা অন্যতম। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তি ও সাক্ষরতার হার বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এমন শিক্ষা পাচ্ছে, যে শিক্ষা কর্মসংস্থানে কোনো কাজে আসছে না।

অন্যদিকে আর্থিক সক্ষমতার অভাবে অনেকেই মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিল্ডিং থাকলে ডাক্তার নেই, আবার ডাক্তার থাকলে ওষুধ নেই। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ। সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে আয় বৈষম্যের বড় কারণ হলো মাথাপিছু বরাদ্দ এবং সামগ্রিক বরাদ্দ অত্যন্ত কম।

দেশে রাস্তাঘাট উন্নত হয়েছে ঠিক। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বেপরোয়া পরিবহণের কারণে মানুষ আতঙ্কে থাকে। এছাড়াও রাস্তায় নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে।

অপরদিকে আরেকটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। তাহলো নারীদের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁঁকি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, মূল বার্তা হলো এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যারা অসুবিধাগ্রস্ত মানুষ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে, তারা পেছনে রয়েছে। মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ওইভাবে পৌঁছানো যায় না। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে এখনও সমাজের মূলধারাতে আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার বাইরে যে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছিল, তারা অনেক নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ সমাজে তাদের যে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকা থেকে তারা বাধ্য হয়ে সরে এসেছে।

তিনি বলেন, এসব মধ্যবিত্তের নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে মূল্যবোধ সৃষ্টি করার যে জায়গায় ছিল, সেটি এখন আর নেই। একটি দেশে এটি বড় ধরনের সামাজিক ঘাটতি। আর এই মধ্যবিত্ত দুর্বল হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোও সমস্যায় পড়ছে। কারণ মধ্যবিত্তরাই বিভিন্নভাবে তাদেরকে সহযোগিতা দিত।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, লুকোনো কিছু টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এর মধ্যে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছে। এরা সমাজের মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। ভবিষ্যতও ভালো দেখছে না। এরা দেশের বাইরে চলে যেতে চাচ্ছে। এর ফলে সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বৈষম্য বেড়েছে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো-নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক। নৈতিক বিষয় হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক বিষয় হলো বৈষম্য কমলে দেশে চাহিদা সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক বিষয় হলো নির্বাচনকে সামনে রেখে এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে নিয়ে আসতে হবে।

নাগরিক প্ল্যাটফরমের সংবাদ সম্মেলন

ভীতির সংস্কৃতি চলছে, উন্নয়নের নিচে চোরাবালি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিরা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। এর ফলে জবাবদিহিতা কমে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয়।

এছাড়া ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলা হলেও এর নিচে চোরাবালি রয়েছে। আয় কমে যাওয়া বিপরীতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে বক্তব্য দেন, সংগঠনের আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তৃণমূলের মানুষের অবস্থা মূল্যায়নে দেশের ২৫টি জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ৫০০ শতাধিক মানুষের মতামত নিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফরম। তাদের মতামতে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যে সব কথা বলছি, তা ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়। দীর্ঘদিন এই কাজের ফলে তৃণমূলের মানুষের কাছে যেসব মতামত এসেছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে ৬টি বার্তা রয়েছে। প্রথম বার্তা হলো দেশে যুব সমাজের শোভন কর্মসংস্থানের ঘাটতি।

এরপর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে তাদের জীবনকে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সহজ করে বললে, একদিকে আয় নেই, অন্যদিকে পণ্য ও সেবার মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবন ধারণ করা কষ্টকর। এছাড়াও গত কয়েক বছরে জীবন মানের যে উন্নয়ন হয়েছিল, সেটিরও ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্তদের জন্য সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয়ত বার্তা হলো দেশে বিভিন্ন কাজে নারীর সম্পৃক্ততা বিকশিত হলেও তাদের প্রতি সহিংসতা ও অধিকার হরণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়েছে। এক্ষেত্রে আইনের শাসনের ব্যাপক ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি।

তৃতীয়ত বার্তা হলো পরিবেশ বিপর্যয় একটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সব জায়গায়ই কোনো না কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর মধ্যে বন্যা, খড়া, ভূমি ধ্বস, নদীভাঙন, পরিশেষ দূষণ এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া অন্যতম। চতুর্থত বার্তা হলো সরকারি সেবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মান কমেছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কর্মসূচি অন্যতম। এর ফলে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো বিপর্যস্ত হচ্ছে। পঞ্চম বার্তা হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বড় ধরনের ঘাটতি হয়েছে।

আর ষষ্ঠ বার্তাটি হলো সব জায়গায় একটি ভয় বা ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ কথা বলতে না পারা অথবা কথা বলার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে সত্য। ভয়ের সংস্কৃতির কারণে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। বণ্টন ব্যবস্থায় আরও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও সেবা কমেছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন হয়েছে, সত্য। কিন্তু এর নিচে চোরাবালি রয়েছে। ফলে আমাদের সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ৫টি বিষয় সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা অন্যতম। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তি ও সাক্ষরতার হার বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এমন শিক্ষা পাচ্ছে, যে শিক্ষা কর্মসংস্থানে কোনো কাজে আসছে না।

অন্যদিকে আর্থিক সক্ষমতার অভাবে অনেকেই মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিল্ডিং থাকলে ডাক্তার নেই, আবার ডাক্তার থাকলে ওষুধ নেই। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ। সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে আয় বৈষম্যের বড় কারণ হলো মাথাপিছু বরাদ্দ এবং সামগ্রিক বরাদ্দ অত্যন্ত কম।

দেশে রাস্তাঘাট উন্নত হয়েছে ঠিক। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বেপরোয়া পরিবহণের কারণে মানুষ আতঙ্কে থাকে। এছাড়াও রাস্তায় নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে।

অপরদিকে আরেকটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। তাহলো নারীদের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁঁকি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, মূল বার্তা হলো এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যারা অসুবিধাগ্রস্ত মানুষ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে, তারা পেছনে রয়েছে। মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ওইভাবে পৌঁছানো যায় না। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে এখনও সমাজের মূলধারাতে আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার বাইরে যে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছিল, তারা অনেক নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ সমাজে তাদের যে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকা থেকে তারা বাধ্য হয়ে সরে এসেছে।

তিনি বলেন, এসব মধ্যবিত্তের নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে মূল্যবোধ সৃষ্টি করার যে জায়গায় ছিল, সেটি এখন আর নেই। একটি দেশে এটি বড় ধরনের সামাজিক ঘাটতি। আর এই মধ্যবিত্ত দুর্বল হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোও সমস্যায় পড়ছে। কারণ মধ্যবিত্তরাই বিভিন্নভাবে তাদেরকে সহযোগিতা দিত।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, লুকোনো কিছু টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এর মধ্যে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছে। এরা সমাজের মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। ভবিষ্যতও ভালো দেখছে না। এরা দেশের বাইরে চলে যেতে চাচ্ছে। এর ফলে সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বৈষম্য বেড়েছে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো-নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক। নৈতিক বিষয় হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক বিষয় হলো বৈষম্য কমলে দেশে চাহিদা সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক বিষয় হলো নির্বাচনকে সামনে রেখে এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে নিয়ে আসতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন