সারা দেশে ধরপাকড় শুরু
jugantor
চলছে বিশেষ অভিযান
সারা দেশে ধরপাকড় শুরু

  সিরাজুল ইসলাম  

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহান বিজয় দিবস, বড়দিন, থার্টিফাস্ট নাইট এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সারা ধরপাকড় চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পুলিশের ১৫ দিনের বিশেষ অভিযান।

এ অভিযানে সরকারের অবস্থান হার্ডলাইনে। অভিযানের প্রথম দিনে সারা দেশে পাঁচ শতাধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সরকারের হার্ডলাইন অবস্থানের অংশ হিসাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে কেরানীগঞ্জ মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার।

অন্য কারাগারকেও বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার আকস্মিক পরিদর্শন করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি, প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে ঢাকা মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন হয় দুই বছর আগে। কিন্তু এখনও সেখানে মহিলা বন্দি স্থানান্তর করা হয়নি। এখন প্রয়োজন হলে সেখানে মহিলা বন্দি রাখা হবে। তাই কারাগারের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হঠাৎ আইজি প্রিজন্স ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।

মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার এবং জেলারসহ অন্য কারা কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

পুলিশের বিশেষ অভিযান চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অভিযানের বিষয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সব রেঞ্জ ডিআইজি এবং এসপিদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ঢাকার আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান চালাতে হবে।

অভিযানে আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সেন্টারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ওইসব স্থানে অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে পারে। অভিযানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারের পাশপাশি মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দিকে তাগিদ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ বিষয়ে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, বড় উৎসব-অনুষ্ঠান হলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ছাড়াও এই মাসে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট আছে।

২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে থার্টিফাস্ট নাইট। এসব অনুষ্ঠান ঘিরে আমরা প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাই। আর এবার কয়েক দিন আগে ঢাকার আদালতপাড়া থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিরা যাতে কোনো ধরনের নাশকতা ঘটাতে না পারে সেজন্য আমরা তৎপর। আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজনৈতিক সমাবেশ ঘিরে কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য আগাম তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে নয়পল্টনে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিয়েছে- জানতে চাইলে পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, বড় মাঠে পুলিশের পক্ষে সবকিছু নজরদারি করা সম্ভব।

নয়াপল্টনে বিএনপি পার্টি অফিসের আশপাশের গলিসহ জনবহুল এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিষয়টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ অভিযানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং মেসে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযানের ফলাফল জানানো হয়নি।

সূত্র জানায়, কয়েক দিনের মধ্যেই বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনগুলোতেও সতর্ক অবস্থায় দেখা যাবে পুলিশ সদস্যদের। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের রায়টকার, জলকামানসহ রিজার্ভ ফোর্স। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সমাবেশস্থল ছাড়াও বিভিন্ন কেপিআই পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাড়ানো হবে পুলিশি টহল। সাদা পোশাকে তৎপর থাকবে গোয়েন্দারা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রথমে পুলিশ ধৈর্য ধারণ করবে। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কঠোর অ্যাকশনে যাবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এরই মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। তবে অভিযানের ফলাফল এখনই জানানো যাচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য অনুমতি দিয়েছি। তাদেরকে সেখানেই সমাবেশ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোথাও বেআইনি সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।

চলছে বিশেষ অভিযান

সারা দেশে ধরপাকড় শুরু

 সিরাজুল ইসলাম 
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহান বিজয় দিবস, বড়দিন, থার্টিফাস্ট নাইট এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সারা ধরপাকড় চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পুলিশের ১৫ দিনের বিশেষ অভিযান।

এ অভিযানে সরকারের অবস্থান হার্ডলাইনে। অভিযানের প্রথম দিনে সারা দেশে পাঁচ শতাধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সরকারের হার্ডলাইন অবস্থানের অংশ হিসাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে কেরানীগঞ্জ মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার।

অন্য কারাগারকেও বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার আকস্মিক পরিদর্শন করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি, প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে ঢাকা মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন হয় দুই বছর আগে। কিন্তু এখনও সেখানে মহিলা বন্দি স্থানান্তর করা হয়নি। এখন প্রয়োজন হলে সেখানে মহিলা বন্দি রাখা হবে। তাই কারাগারের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হঠাৎ আইজি প্রিজন্স ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।

মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার এবং জেলারসহ অন্য কারা কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

পুলিশের বিশেষ অভিযান চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অভিযানের বিষয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সব রেঞ্জ ডিআইজি এবং এসপিদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ঢাকার আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান চালাতে হবে।

অভিযানে আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সেন্টারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ওইসব স্থানে অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে পারে। অভিযানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারের পাশপাশি মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দিকে তাগিদ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ বিষয়ে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, বড় উৎসব-অনুষ্ঠান হলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ছাড়াও এই মাসে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট আছে।

২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে থার্টিফাস্ট নাইট। এসব অনুষ্ঠান ঘিরে আমরা প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাই। আর এবার কয়েক দিন আগে ঢাকার আদালতপাড়া থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিরা যাতে কোনো ধরনের নাশকতা ঘটাতে না পারে সেজন্য আমরা তৎপর। আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজনৈতিক সমাবেশ ঘিরে কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য আগাম তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে নয়পল্টনে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিয়েছে- জানতে চাইলে পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, বড় মাঠে পুলিশের পক্ষে সবকিছু নজরদারি করা সম্ভব।

নয়াপল্টনে বিএনপি পার্টি অফিসের আশপাশের গলিসহ জনবহুল এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিষয়টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ অভিযানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং মেসে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযানের ফলাফল জানানো হয়নি।

সূত্র জানায়, কয়েক দিনের মধ্যেই বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনগুলোতেও সতর্ক অবস্থায় দেখা যাবে পুলিশ সদস্যদের। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের রায়টকার, জলকামানসহ রিজার্ভ ফোর্স। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সমাবেশস্থল ছাড়াও বিভিন্ন কেপিআই পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাড়ানো হবে পুলিশি টহল। সাদা পোশাকে তৎপর থাকবে গোয়েন্দারা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রথমে পুলিশ ধৈর্য ধারণ করবে। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কঠোর অ্যাকশনে যাবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এরই মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। তবে অভিযানের ফলাফল এখনই জানানো যাচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য অনুমতি দিয়েছি। তাদেরকে সেখানেই সমাবেশ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোথাও বেআইনি সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন