সমাবেশের চার দিন বাকি মাঠ চূড়ান্ত হয়নি এখনো
jugantor
সমাবেশের চার দিন বাকি মাঠ চূড়ান্ত হয়নি এখনো
জাতীয় ঈদগাহ চেয়ে মৌখিক আবেদন * যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল হবেই-মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। কর্মসূচির মাত্র চার দিন বাকি, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি সমাবেশস্থল। এ লক্ষ্যে রোববার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপি নেতারা। সোমবারও তারা পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেন। তবে সংকটের সুরাহা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসাবে উন্মুক্ত মাঠ ব্যবহার চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে নয়াপল্টনের বিকল্প হিসাবে আরামবাগ মোড়ের কথা বলা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। উন্মুক্ত মাঠ ছাড়া কোনো সড়ক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করবে না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে। নয়াপল্টনের আশপাশে উপযুক্ত কোনো স্থানে অনুমতি দিলে সমাবেশ করবেন তারা। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা সোমবার বিকালে জানান, এক্ষেত্রে উন্মুক্ত মাঠ হিসাবে হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ আছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমতি পাওয়া গেলে হয়তো ঈদগাহ মাঠ ব্যবহারে অনুমতি চাওয়া হতে পারে। সমাবেশের স্থানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়। এদিকে রাতে সমাবেশের জন্য জাতীয় ঈদগাহ মাঠ মৌখিকভাবে অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। মতিঝিলের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খানের সঙ্গে দেখা করে এ অনুমতি চাওয়া হয়। জানতে চাইলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেনু, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত মাঠ নয়। এটি পার্ক। তাছাড়া নয়াপল্টন ও মতিঝিলকেন্দ্রিক ওই ধরনের উন্মুক্ত মাঠ নেই যেখানে সমাবেশ করা যায়। তাই আমরা জাতীয় ঈদগাহ মাঠ চেয়ে মৌখিক আবেদন করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পেলে আমরা লিখিত আবেদন করব।

এদিকে স্থান চূড়ান্ত না হলেও থেমে নেই প্রস্তুতি। সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে ঢাকার সমাবেশ সফল হবেই। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ সমাবেশের দিকে সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত না হলেও তা সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। লিফলেট বিতরণসহ চলছে প্রস্তুতি সভা। যদিও লিফলেটে নেই সমাবেশস্থলের নাম। দলটির নেতারা জানান, যেকোনো মূল্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ সফলে বদ্ধপরিকর। মামলা, হামলা কিংবা গ্রেফতার কোনো কিছুতেই তারা পিছু হটবে না। ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। গ্রেফতার এড়াতে তারা হোটেলে অবস্থান না করে আত্মীয় কিংবা বন্ধুর বাসায় থাকছেন। বড় ধরনের মিছিল না করে চুপি চুপি নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির। রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আক্তার হোসেনকে। আরও কয়েক নেতাকে আটকে অভিযান চলে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসার সামনে সকালে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যদিও পরে তারা সেখান থেকে সরে যান।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারসহ রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতি অবহিত করতে আজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বসছে বিএনপি। বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিভায়োলেন্স অব পলিটিক্স অ্যান্ড ব্লেমিং’ শীর্ষক সেমিনারে ঢাকাস্থ বিদেশি সব দূতাবাসসহ জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত নির্বাচনে ঢাকা বিভাগ থেকে যারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকার পার্শ^বর্তী জেলা থেকে যেন সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মী আসেন, সেই নির্দেশনা দেন তিনি।
বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে এক সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। এই সমাবেশকে আমাদের যেকোনো মূল্যে সফল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় গণসমাবেশে গোটা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। মানুষ শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে গণসমাবেশ সফল করেছে। সাঁতরিয়ে নদীর পার হয়ে, ভেলাতে চড়ে, সাইকেলে চড়ে, ১০০ মাইল সাইকেলে চড়ে এসে চিড়া-মুড়ি-গুড় দিয়ে তিনরাত কাটিয়েছে সমাবেশ সফল করেছে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক সদরুল আমিন, আনহ আখতার হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, একেএম আজিজুল হক, তাজমেরী এস ইসলাম, বিজন কান্তি সরকার, আবদুল কুদ্দুস, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, মামুন আহমেদ, আবদুস সালাম, সেলিম ভূঁইয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শামসুল আলম, রাশিদুল হাসান হারুন ও আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল বক্তব্য দেন।

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, দলনেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, সমন্বয়কারী আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম ও আবদুস সালাম আজাদ ১০ ডিসেম্বরে সমাবেশের সবশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। এর আগে দুপুরে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার দমনপীড়ন চালালেও ১০ ডিসেম্বরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে বিএনপি। নয়াপল্টনের বাইরে বিকল্প প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর তুরাগ পাড় ছাড়া ঢাকার ভেতরে সন্তোষজনক স্থান দিলে চিন্তা করে দেখব। সকালে শাহজাহানপুরের নিজের বাসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেরাও করে রাখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে একটি কর্মিসভা ছিল। পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে সভা করতে দেয়নি। দুপুরে বেইলি রোডে সমাবেশের সমর্থনে লিফলেট বিলি করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সমাবেশ বানচাল করতে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সরকারের গ্রেফতার, নির্যাতন উপেক্ষা করে গণসমাবেশ সফল করা হবে। যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। যুবদল ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছেন। দুপুরে তাদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো হয়। সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশের চার দিন বাকি মাঠ চূড়ান্ত হয়নি এখনো

জাতীয় ঈদগাহ চেয়ে মৌখিক আবেদন * যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল হবেই-মির্জা ফখরুল
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। কর্মসূচির মাত্র চার দিন বাকি, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি সমাবেশস্থল। এ লক্ষ্যে রোববার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপি নেতারা। সোমবারও তারা পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেন। তবে সংকটের সুরাহা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসাবে উন্মুক্ত মাঠ ব্যবহার চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে নয়াপল্টনের বিকল্প হিসাবে আরামবাগ মোড়ের কথা বলা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। উন্মুক্ত মাঠ ছাড়া কোনো সড়ক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করবে না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে। নয়াপল্টনের আশপাশে উপযুক্ত কোনো স্থানে অনুমতি দিলে সমাবেশ করবেন তারা। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা সোমবার বিকালে জানান, এক্ষেত্রে উন্মুক্ত মাঠ হিসাবে হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ আছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমতি পাওয়া গেলে হয়তো ঈদগাহ মাঠ ব্যবহারে অনুমতি চাওয়া হতে পারে। সমাবেশের স্থানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়। এদিকে রাতে সমাবেশের জন্য জাতীয় ঈদগাহ মাঠ মৌখিকভাবে অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। মতিঝিলের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খানের সঙ্গে দেখা করে এ অনুমতি চাওয়া হয়। জানতে চাইলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেনু, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত মাঠ নয়। এটি পার্ক। তাছাড়া নয়াপল্টন ও মতিঝিলকেন্দ্রিক ওই ধরনের উন্মুক্ত মাঠ নেই যেখানে সমাবেশ করা যায়। তাই আমরা জাতীয় ঈদগাহ মাঠ চেয়ে মৌখিক আবেদন করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পেলে আমরা লিখিত আবেদন করব। 

এদিকে স্থান চূড়ান্ত না হলেও থেমে নেই প্রস্তুতি। সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে ঢাকার সমাবেশ সফল হবেই। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ সমাবেশের দিকে সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত না হলেও তা সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। লিফলেট বিতরণসহ চলছে প্রস্তুতি সভা। যদিও লিফলেটে নেই সমাবেশস্থলের নাম। দলটির নেতারা জানান, যেকোনো মূল্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ সফলে বদ্ধপরিকর। মামলা, হামলা কিংবা গ্রেফতার কোনো কিছুতেই তারা পিছু হটবে না। ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। গ্রেফতার এড়াতে তারা হোটেলে অবস্থান না করে আত্মীয় কিংবা বন্ধুর বাসায় থাকছেন। বড় ধরনের মিছিল না করে চুপি চুপি নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির। রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আক্তার হোসেনকে। আরও কয়েক নেতাকে আটকে অভিযান চলে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসার সামনে সকালে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যদিও পরে তারা সেখান থেকে সরে যান। 

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারসহ রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতি অবহিত করতে আজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বসছে বিএনপি। বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিভায়োলেন্স অব পলিটিক্স অ্যান্ড ব্লেমিং’ শীর্ষক সেমিনারে ঢাকাস্থ বিদেশি সব দূতাবাসসহ জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত নির্বাচনে ঢাকা বিভাগ থেকে যারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকার পার্শ^বর্তী জেলা থেকে যেন সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মী আসেন, সেই নির্দেশনা দেন তিনি। 
বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে এক সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। এই সমাবেশকে আমাদের যেকোনো মূল্যে সফল করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় গণসমাবেশে গোটা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। মানুষ শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে গণসমাবেশ সফল করেছে। সাঁতরিয়ে নদীর পার হয়ে, ভেলাতে চড়ে, সাইকেলে চড়ে, ১০০ মাইল সাইকেলে চড়ে এসে চিড়া-মুড়ি-গুড় দিয়ে তিনরাত কাটিয়েছে সমাবেশ সফল করেছে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক সদরুল আমিন, আনহ আখতার হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, একেএম আজিজুল হক, তাজমেরী এস ইসলাম, বিজন কান্তি সরকার, আবদুল কুদ্দুস, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, মামুন আহমেদ, আবদুস সালাম, সেলিম ভূঁইয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শামসুল আলম, রাশিদুল হাসান হারুন ও আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল বক্তব্য দেন।

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, দলনেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, সমন্বয়কারী আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম ও আবদুস সালাম আজাদ ১০ ডিসেম্বরে সমাবেশের সবশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। এর আগে দুপুরে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার দমনপীড়ন চালালেও ১০ ডিসেম্বরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে বিএনপি। নয়াপল্টনের বাইরে বিকল্প প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর তুরাগ পাড় ছাড়া ঢাকার ভেতরে সন্তোষজনক স্থান দিলে চিন্তা করে দেখব। সকালে শাহজাহানপুরের নিজের বাসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেরাও করে রাখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে একটি কর্মিসভা ছিল। পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে সভা করতে দেয়নি। দুপুরে বেইলি রোডে সমাবেশের সমর্থনে লিফলেট বিলি করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সমাবেশ বানচাল করতে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সরকারের গ্রেফতার, নির্যাতন উপেক্ষা করে গণসমাবেশ সফল করা হবে। যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। যুবদল ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছেন। দুপুরে তাদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো হয়। সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন