মারতে এলে এবার হাত ভেঙে দিতে হবে
jugantor
আ.লীগের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা
মারতে এলে এবার হাত ভেঙে দিতে হবে
বসে বসে আর মার খাওয়া যাবে না * আগুন দিতে এলে, সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই পঁচাত্তর থেকে একুশ বছর শুধু মার খেয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শুধু মার খেয়েছি। আর নয়, এবার যে হাত দিয়ে মারবে, সেই হাত ভেঙে দিতে হবে। যে হাত দিয়ে মানুষকে আগুন দিতে আসবে, সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে। পোড়ার যন্ত্রণাটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এখনো পোড়া মানুষগুলোর অবস্থা দেখলে চোখে পানি আসে। এদের কীসের ক্ষমা, এদের আর ক্ষমা নেই। তিনি আরও বলেন, বারবার আঘাত দেবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, সেদিন আর নেই। এতদিন চুপ করে বসে ছিলাম। কারণ, আমরা বাংলাদেশকে একটা পর্যায়ে নিতে চেয়েছিলাম। আজ দেশের অর্জনটা হয়ে গেছে। কাজেই এখন আর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-খুন, মানি লন্ডারিং-এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের শান্তিকে বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। সবাই প্রস্তুত থাকবেন, কোনো মানুষের একটা ক্ষতিও যেন তারা করতে না পারে। দোকানপাট সর্বত্র বলে দেবেন তারাও যেন প্রতিবাদ করে। এর আগে বহু যন্ত্রণা দিয়েছে তারা। আমরা অনেক সহ্য করেছি। এভাবে আমার কৃষক-শ্রমিক, আমাদের নেতাকর্মী, কারও গায়ে হাত দিলে আর ক্ষমা নেই।
সরকারপ্রধান বলেন, এরা (বিএনপি) কীভাবে অত্যাচার করেছে, সেটা তুলে ধরতে হবে। বিএনপির অপকর্ম তুলে ধরতে হবে। আমাদের যেসব নেতাকর্মী বিএনপির হাতে মার খেয়েছে, তাদের বসে থাকলে চলবে না। মানুষকে জানাতে হবে ওরা কী করতে পারে, কী করে। বসে বসে আর মার খাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, অগ্নি-সন্ত্রাসীদের, স্বাধীনতাবিরোধীদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না-এটা পরিষ্কার কথা। ওরা আমাদের উৎখাত করবে? ওরা পকেট থেকে এসেছে আবার পকেটেই থাকবে। গণতন্ত্রের কথা ওদের মুখে মানায় না। এবার যেন আর কোনো বিআরটিসির বাস পোড়াতে না পারে। যেটা পোড়াতে যাবে, এখন তো সবার হাতে ক্যামেরা, ভিডিও ফুটেজ দেখে যেই হাতে আগুন দেবে, সেই হাত সঙ্গে সঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে। কোনোদিন বলিনি, এখন বলব, আর মার খাওয়ার সময় নেই।
তারেককে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকারকে বলব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুচলেকা দিয়ে গিয়েছিল সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আমি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ধরে এনে সাজা বাস্তবায়ন করব। আমেরিকা খুনি পালতেছে একটা। আবার কানাডা পালে আরেকটা। পাকিস্তানে আছে দুইটা। সবার কাছে বলব, এই খুনিদের ফেরত পাঠাতে হবে। আর ব্রিটিশ সরকারকে বলব তারেক জিয়াকে দেশে ফেরত পাঠাতে। কারণ, সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারা (বহির্বিশ্ব) মানবতার কথা বলে, দুর্নীতির কথা বলে, আবার সেই খুনিকে, দুর্নীতিবাজকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয়। কাজেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হ্যান্ডওভার করতে হবে। এই দেশে নিয়ে এসে সাজা বাস্তবায়ন করব। যেসব দেশ আমাদের দেশের গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের দেশের অবস্থা তো আমরা জানি। প্রতিদিন মানুষ খুন হয়, ভোটের সময় ভোট চুরি হয়েছে বলে তাদের ক্যাপিটালেও আক্রমণ হয়, পাঁচ-ছয়জন গুলি করে মারে, আর তাদের কাছ থেকে আমার গণতন্ত্রের ছবক নিতে হবে! বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হলো, আমি তখনই দেশে চলে আসছি। ওর (তারেক জিয়া) বাপও (জিয়াউর রহমান) তো আমাকে ঠেকাতে পারেনি। আবার যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তখনও পারেনি। এতই নেতৃত্ব দেওয়ার শখ, দেশের বাইরে পালিয়ে থেকে কেন? ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, সেই সুযোগে ডিজিটালি কথা বলে।
গুনে গুনে অত্যাচারের জবাব দিতে পারতাম : বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরপরই একেকজন বাড়ি দখল করে রাতারাতি পুকুর কেটে কলাগাছের বাগান করেছে। মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। ছয় বছরের মেয়ে থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সেই পূর্ণিমা-ফাহিমা শুরু করে সারা দেশের কত নাম বলব-সবার চিকিৎসা করতে হয়েছে। অনেকে লজ্জায় নাম প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যে অত্যাচারটা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর করেছে, ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পর গুনে গুনে সেই অত্যাচারের জবাব দিতে পারতাম, সেই ক্ষমতা আওয়ামী লীগ রাখে। কই আমরা তো করিনি। আমরা তো তাদের ওপর এইভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে যাইনি।
কত তেল আছে দেখব : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবাই ‘আরাম-আয়েশে’ ব্যবসা করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব মিডিয়া এখন ধরনা দিচ্ছে, এত টেলিভিশন, এ তো আমারই দেওয়া। আমি যদি উন্মুক্ত না করে দিতাম, এত মানুষের চাকরিও হতো না, এত মানুষ ব্যবসাও করতে পারত না। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে বিএনপির ব্যবসায়ীই হোক বা আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী হোক, সবাই কিন্তু শান্তিতে ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, হাওয়া ভবনও আমরা খুলিনি, খাওয়া ভবনও খুলিনি। বরং ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছি। আবারও হাওয়া ভবন এলে, আরেকটা নাম দেবে। আবারও চুষে চুষে খাবে। শান্তিতে ব্যবসা করতে হবে না।
সংবাদকর্মীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপিকে যারা তেল মারছে, আমরা তাদেরও হিসাব করব। আওয়ামী লীগের সময় আরাম-আয়েশ করে ব্যবসা করে খাচ্ছে তো, কারও ব্যবসায় আমরা বাধা দিইনি। সবাইকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে তো এত আরামে ব্যবসা করতে পারেনি। এই মিডিয়া একটা উলটাপালটা লিখলেই তো মারত। তারপরও এত আহ্লাদ কীসের? এত তেল মারা কীসের? আমি তো জানি না। কত তেল আছে আমি দেখব।
‘ঘোটে ডাল ফোটে না’ : বিএনপির সরকার পতনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ভেসে আসেনি, আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতের সংগঠন। ক্ষমতায় আসতে বিএনপি বিদেশি সংস্থার কাছে ধরনা দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কথায় কথায় অন্যদেশের প্রতি ধরনা দেয়। হ্যাঁ, একবার তারা ধরনা দিয়ে সফল হয়েছিল ২০০১-এ। এখনো ভাবছে সেটাই পারবে। বাংলায় একটা কথা আছে, ‘ঘোটে ডাল ফোটে না’। আগাম ঘোটা দিলে সেই ডাল ফোটে না। এটা বোধহয় তারা জানে না। এখন আর হবে না। আমরাও জানি কী করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস প্রমুখ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কৃষক লীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ।

আ.লীগের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা

মারতে এলে এবার হাত ভেঙে দিতে হবে

বসে বসে আর মার খাওয়া যাবে না * আগুন দিতে এলে, সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই পঁচাত্তর থেকে একুশ বছর শুধু মার খেয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শুধু মার খেয়েছি। আর নয়, এবার যে হাত দিয়ে মারবে, সেই হাত ভেঙে দিতে হবে। যে হাত দিয়ে মানুষকে আগুন দিতে আসবে, সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে। পোড়ার যন্ত্রণাটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এখনো পোড়া মানুষগুলোর অবস্থা দেখলে চোখে পানি আসে। এদের কীসের ক্ষমা, এদের আর ক্ষমা নেই। তিনি আরও বলেন, বারবার আঘাত দেবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, সেদিন আর নেই। এতদিন চুপ করে বসে ছিলাম। কারণ, আমরা বাংলাদেশকে একটা পর্যায়ে নিতে চেয়েছিলাম। আজ দেশের অর্জনটা হয়ে গেছে। কাজেই এখন আর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-খুন, মানি লন্ডারিং-এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের শান্তিকে বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। সবাই প্রস্তুত থাকবেন, কোনো মানুষের একটা ক্ষতিও যেন তারা করতে না পারে। দোকানপাট সর্বত্র বলে দেবেন তারাও যেন প্রতিবাদ করে। এর আগে বহু যন্ত্রণা দিয়েছে তারা। আমরা অনেক সহ্য করেছি। এভাবে আমার কৃষক-শ্রমিক, আমাদের নেতাকর্মী, কারও গায়ে হাত দিলে আর ক্ষমা নেই।
সরকারপ্রধান বলেন, এরা (বিএনপি) কীভাবে অত্যাচার করেছে, সেটা তুলে ধরতে হবে। বিএনপির অপকর্ম তুলে ধরতে হবে। আমাদের যেসব নেতাকর্মী বিএনপির হাতে মার খেয়েছে, তাদের বসে থাকলে চলবে না। মানুষকে জানাতে হবে ওরা কী করতে পারে, কী করে। বসে বসে আর মার খাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, অগ্নি-সন্ত্রাসীদের, স্বাধীনতাবিরোধীদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না-এটা পরিষ্কার কথা। ওরা আমাদের উৎখাত করবে? ওরা পকেট থেকে এসেছে আবার পকেটেই থাকবে। গণতন্ত্রের কথা ওদের মুখে মানায় না। এবার যেন আর কোনো বিআরটিসির বাস পোড়াতে না পারে। যেটা পোড়াতে যাবে, এখন তো সবার হাতে ক্যামেরা, ভিডিও ফুটেজ দেখে যেই হাতে আগুন দেবে, সেই হাত সঙ্গে সঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে। কোনোদিন বলিনি, এখন বলব, আর মার খাওয়ার সময় নেই।
তারেককে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকারকে বলব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুচলেকা দিয়ে গিয়েছিল সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আমি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ধরে এনে সাজা বাস্তবায়ন করব। আমেরিকা খুনি পালতেছে একটা। আবার কানাডা পালে আরেকটা। পাকিস্তানে আছে দুইটা। সবার কাছে বলব, এই খুনিদের ফেরত পাঠাতে হবে। আর ব্রিটিশ সরকারকে বলব তারেক জিয়াকে দেশে ফেরত পাঠাতে। কারণ, সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারা (বহির্বিশ্ব) মানবতার কথা বলে, দুর্নীতির কথা বলে, আবার সেই খুনিকে, দুর্নীতিবাজকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয়। কাজেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হ্যান্ডওভার করতে হবে। এই দেশে নিয়ে এসে সাজা বাস্তবায়ন করব। যেসব দেশ আমাদের দেশের গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের দেশের অবস্থা তো আমরা জানি। প্রতিদিন মানুষ খুন হয়, ভোটের সময় ভোট চুরি হয়েছে বলে তাদের ক্যাপিটালেও আক্রমণ হয়, পাঁচ-ছয়জন গুলি করে মারে, আর তাদের কাছ থেকে আমার গণতন্ত্রের ছবক নিতে হবে! বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হলো, আমি তখনই দেশে চলে আসছি। ওর (তারেক জিয়া) বাপও (জিয়াউর রহমান) তো আমাকে ঠেকাতে পারেনি। আবার যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তখনও পারেনি। এতই নেতৃত্ব দেওয়ার শখ, দেশের বাইরে পালিয়ে থেকে কেন? ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, সেই সুযোগে ডিজিটালি কথা বলে।
গুনে গুনে অত্যাচারের জবাব দিতে পারতাম : বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরপরই একেকজন বাড়ি দখল করে রাতারাতি পুকুর কেটে কলাগাছের বাগান করেছে। মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। ছয় বছরের মেয়ে থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সেই পূর্ণিমা-ফাহিমা শুরু করে সারা দেশের কত নাম বলব-সবার চিকিৎসা করতে হয়েছে। অনেকে লজ্জায় নাম প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যে অত্যাচারটা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর করেছে, ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পর গুনে গুনে সেই অত্যাচারের জবাব দিতে পারতাম, সেই ক্ষমতা আওয়ামী লীগ রাখে। কই আমরা তো করিনি। আমরা তো তাদের ওপর এইভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে যাইনি।
কত তেল আছে দেখব : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবাই ‘আরাম-আয়েশে’ ব্যবসা করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব মিডিয়া এখন ধরনা দিচ্ছে, এত টেলিভিশন, এ তো আমারই দেওয়া। আমি যদি উন্মুক্ত না করে দিতাম, এত মানুষের চাকরিও হতো না, এত মানুষ ব্যবসাও করতে পারত না। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে বিএনপির ব্যবসায়ীই হোক বা আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী হোক, সবাই কিন্তু শান্তিতে ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, হাওয়া ভবনও আমরা খুলিনি, খাওয়া ভবনও খুলিনি। বরং ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছি। আবারও হাওয়া ভবন এলে, আরেকটা নাম দেবে। আবারও চুষে চুষে খাবে। শান্তিতে ব্যবসা করতে হবে না।
সংবাদকর্মীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপিকে যারা তেল মারছে, আমরা তাদেরও হিসাব করব। আওয়ামী লীগের সময় আরাম-আয়েশ করে ব্যবসা করে খাচ্ছে তো, কারও ব্যবসায় আমরা বাধা দিইনি। সবাইকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে তো এত আরামে ব্যবসা করতে পারেনি। এই মিডিয়া একটা উলটাপালটা লিখলেই তো মারত। তারপরও এত আহ্লাদ কীসের? এত তেল মারা কীসের? আমি তো জানি না। কত তেল আছে আমি দেখব।
‘ঘোটে ডাল ফোটে না’ : বিএনপির সরকার পতনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ভেসে আসেনি, আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতের সংগঠন। ক্ষমতায় আসতে বিএনপি বিদেশি সংস্থার কাছে ধরনা দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কথায় কথায় অন্যদেশের প্রতি ধরনা দেয়। হ্যাঁ, একবার তারা ধরনা দিয়ে সফল হয়েছিল ২০০১-এ। এখনো ভাবছে সেটাই পারবে। বাংলায় একটা কথা আছে, ‘ঘোটে ডাল ফোটে না’। আগাম ঘোটা দিলে সেই ডাল ফোটে না। এটা বোধহয় তারা জানে না। এখন আর হবে না। আমরাও জানি কী করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস প্রমুখ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কৃষক লীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন